"তুমি কোথায়?" "টুকি!"—এই ছোট ছোট মুহূর্তে শিশু আনন্দ পায়, আবেগ প্রকাশ করতে শেখে। মনের বিকাশ ঘটে লুকোচুরি খেলায়, এমনটাই দাবি মনোরোগ চিকিৎসকদের।

লুকোচুরি আমরা ছোটবেলায় সবাই খেলেছি। তবে এখন এটি আর নেহাত বাচ্চাদের মন ভোলানো খেলা নয়। শিশুদের সাথে বন্ধুত্ব আর মনের বিকাশে অভিভাবকদের বাচ্চার সঙ্গে লুকোচুরি খেলার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। এই খেলার উপকারিতা বাইরে থেকে হঠাৎ চোখে না পড়লেও দীর্ঘ ক্ষেত্রে বাচ্চার মন-মস্তিষ্কের বিকাশ ও সামাজিকতায় অনেকটা সাহায্য করে লুকোচুরি খেলা।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

একবার অভিভাবকরা লুকোবেন, বাচ্চা খুঁজবে, আরেকবার বাচ্চা নিজে থেকে লুকোনোর চেষ্টা করবে, মা অথবা বাবা খুঁজবেন। টুকি - ধপ্পা'র এই খেলাতে বাচ্চা এমনিই খোলামেলা মনে বেড়ে উঠবে।

একটি জনপ্রিয় পত্রিকার সঙ্গে সাক্ষ্যৎকারে মনোরোগ চিকিৎসক আলতাফ হোসেন, এই বিষয়ে অভিভাবকদের কী কী পরামর্শ দিচ্ছেন, জেনে নি।

১. অনেক বাচ্চাকেই দেখা যায়, পরিবার বা সমাজে সবার সাথে ঠিক করে মিশতে পারে না। পরিবারে সবার কাছে যেতে চায় না, কথা বললে কথা বলে না বা হাসে না। এইসব বাচ্চার ক্ষেত্রে চিকিৎসক বাড়িতে লুকোচুরি খেলার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। ফলে ওপর মানুষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কথা বলা, কখন হাসতে হবে বা অনুভূতি প্রকাশ করতে হবে সেই বিষয়ে সরগর হবে, মস্তিষ্ককে সক্রিয় থাকবে।

২. লুকোচুরি খেলতে গিয়ে শিশুদের মনে অপরপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের প্রতি আগ্রহ জাগে। সেই অনুযায়ী নিজেও ভেবেচিন্তে পরবর্তী পদক্ষেপ ফেলতে শেখে। অনেক সময়ে নিজেকে অন্যের জায়গায় বসিয়ে ভাবার চেষ্টা বা ছোটরা বড়োদের দেখে শিখে তেমন ব্যবহার করার চেষ্টা করে।

৩. কোনও বস্তু, কোনও মানুষ চোখের সামনে নেই অথচ আওয়াজ শোনা যাচ্ছে, এতে ভয় না পেয়ে বরং ভরসার জায়গা তৈরি হয় শিশুদের মনে। বিচ্ছেদের আতঙ্ক কমে। যে মানুষটি লুকিয়েছে সে যে আবার ফিরে আসবে এই ভরসা তৈরি হয়। বিশেষ করে কর্মরত মা-বাবার ক্ষেত্রে বাচ্চাদের এই ধারণা তৈরি খুব জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মায়েদের বিবাহবিচ্ছেদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে না বাচ্চারা সে ক্ষেত্রে মা ও বাবা দুজনের সাথে কেউ সম্পর্ক বজায় রাখার প্রবণতা দেখা যেতে পারে।

৪. আলতাফ হোসেন বলেন, ‘‘অন্য মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা বা অন্যকে খুশি করার চেষ্টা করা, বা অন্যকে কষ্ট না দিয়ে কথা বলা, এই ধরনের আচরণ তৈরি করার জন্য লুকোচুরির মতো বিভিন্ন খেলাধুলোর পরামর্শ দিয়ে থাকি আমাদের রোগীদের। যে শিশুদের কথা বলার সমস্যা রয়েছে, বা অটিজ়ম স্পেকট্রাম ডিজ়অর্ডার (সামাজিক পরিবেশে কথা বলতে না পারা, একই কাজ বার বার করতে থাকা, মেলামেশা করতে না পারা) রয়েছে, তাদের জন্য এই খেলা বেশি কার্যকরী।’’