পান পাতার নাম শুনেই অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন পান তো শুধু মুখ শুদ্ধি আর হজমের কাজেই লাগে, রূপচর্চায় পান পাতার আবার ভূমিকা কিসের! তবে সেক্ষেত্রে বলাই বাহুল্য যে রূপচর্চা থেকে চুলের সমস্যা সব কিছুতেই উপকারী পানপাতা। পান পাতায় রয়েছে নানারকম উপকারী পদার্থ যা খুব সহজেই ত্বকের ভিতরে পৌঁছে যায়। শুধু তাই নয় চুলের নানারকম সমস্যায়ও কাজে লাগে পান পাতা। তাই হাজার হাজার টাকা খরচ করে নানা বিদেশী প্রসাধনী ব্যবহার না করে বরং চুল এবং ত্বকের যত্নে রাখতেই পারেন পান পাতা। তাতে টাকাও কম খরচ হবে আর সঙ্গে চুল ও ত্বকের লাবণ্যও বাড়বে। 

১) ব্রণর প্রকোপ কমাতে পারে -

ব্রণর প্রকোপ কমাতে পান পাতার জুড়ি মেলা ভার। এক বাটি জলে চারটে পান পাতা নিয়ে সেটাকে পাঁচ মিনিট ফুটিয়ে নিন। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ওই পান পাতা ভেজানো জলে মুখ পরিস্কার করলে মুখের ব্রণ, দাগ সমস্তই কমে যাবে এবং সেই সঙ্গে ত্বকের ঔজ্জ্বল্ল্যও বাড়বে। তাই যারা খুব কম সময়ের মধ্যে উজ্জ্বল ত্বক [পেতে চান তারা অবশ্যই ব্যবহার করতে পারেন পান পাতার জল। 

এছাড়া ফেস প্যাকেও ব্যবহার করতে পারেন পান পাতা। চারটে পান পাতা বেটে তাতে আধ চামচ হলুদ দিয়ে ফেস প্যাক তৈরি করে তা নিয়মিত মুখে লাগিয়ে পরে পান পাতার জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিলেও ব্রণ ফুসকুরির হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। আর সঙ্গে পাওয়া যাবে সুন্দর ত্বক। 

২) চুল পড়া কম করে -

চুল পড়ার হার কমাতেও পান পাতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিন চারটি পান পাতা বেটে তাতাএ দু'চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। সেই পেস্টটি মাথায় মেখে অন্তত ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। এক্ষেত্রে মনে রাখবেন যে পেস্টটি চুলে  যত ভালো বসবে ততই ভালো উপকার পাবেন। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে চুলটা ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে তিন থেকে চার বার করলেই নিজের চোখে দেখতে পাবেন চুল পড়ার হার কমছে। 

৩) শুষ্ক ত্বকের সমস্যা দূর করে -

শুষ্ক ত্বকের সমস্যাতেও একেবারে সঙ্কটহারিণী রূপে কাজ করে পান পাতা। ত্বকের জেল্লা ফেরাতেও সাহায্য করে। পাঁচটি পান পাতা বেটে তার সঙ্গে মধু মিশিয়ে সেই পেস্টটি সারা মুখে মেখে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। তার পর ঈষদুষ্ণ গরম জলে মুখটা ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দু'বার এটি ব্যবহার করলেই তফাত লক্ষ্য করবেন। 

৪) ত্বকের তৈলাক্ত ভাব কমাতে পারে -

ত্বকের তৈলাক্ত ভাব কমাতেও আস্থা রাখুন পান পাতার উপর। এক লিটার জলে খান দশেক পান পাতা ভিজিয়ে রাখুন এবং জলটা মিনিট দশেক ফুটিয়ে নিন। তারপর জলটা ঠাণ্ডা হলে সেই জল দিয়ে ভালো করে মুখ ধুয়ে নিন। প্রতিদিন রাতের শুতে যাওয়ার আগে এই পদ্ধতি ব্যবহার করলেই ত্বকের তৈলাক্ত ভাব কমে যাবে।