গোটা বিশ্বের কাছে বর্তমানে আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে এই মারণ রোগ। প্রতি মুহূর্তে সারা বিশ্বে এই রোগের আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। ইতিমধ্যেই এই রোগকে মহামারি বলে চিহ্নিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। চিনে এই রোগের উৎপত্তি হলেও ধীরে ধীরে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পরেছে এই মারণ রোগ। পরিসংখ্যান গবেষণা সংক্রান্ত সংস্থা ওয়ার্ল্ডো মিটার-এর তথ্য অনুযায়ী, এই মুহূর্তে গোটা বিশ্বে মোট ১ লক্ষ ১৪ হাজার ৮০৯ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। সেই সঙ্গে মৃত্যু হয়েছে ৪,০৩১ জনের প্রাণ কেড়েছে এই ভাইরাস। ভারতে এই অবধি ৫৬ জনের শরীরে মিলেছে এই ভাইরাসের উপস্থিতি। আক্রান্তদের উপর সমীক্ষা করে এই মারণ রোগের আক্রান্তের কিছু বিষয় সামনে এসেছে। 

আরও পড়ুন- করোনা নিয়ে উদ্বিগ্ন দেশবাসী, সচেতনতা বাড়াতে বাজারে এল নয়া অ্যাপ

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই নোবেল করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হলে আক্রান্তের কী কী শারীরিক সমস্যা দেখা দেয় তা জানা গিয়েছে। এই ভাইরাস সংক্রমণের ফলে শরীরে কোন ধরণের সমস্যা দেখা দেয় এই বিষয়ে প্রায় ৫২ হাজার আক্রান্তের উপর চালানো হয়েছে এই সমীক্ষা। আর সেই সমীক্ষা থেকেই সামনে এসেছে এই মারণ ভাইরাস আক্রান্ত হলে শারীরিক কী কী সমস্যা দেখা দেয়। এই সমীক্ষা থেকে জানা গিয়েছে সারা বিশ্বে মোট আক্রান্তের মধ্যে ৮০ শতাংশ আক্রান্তের সংখ্যা গুরুতর নয়। এর মধ্যে ৬ শতাংশের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক। ১৪ শতাংশের শারীরিক অবস্থা  গুরুতর।

আরও পড়ুন- করোনা আতঙ্ক কাশী বারাণসীতে, শিবলিঙ্গে জড়ানো হল মাস্ক

আক্রান্তদের উপর সমীক্ষা চালিয়ে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই ভাইরাস আক্রমণের ফলে সবার প্রথমেই ফুসফুসের কর্মক্ষমতা নষ্টি করে। আর অই পক্রিয়াটি এত দ্রুত হয় ফলে আক্রান্তের শ্বাসকষ্টের মত সমস্যা দেখা দেয়। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি ঘন ঘন দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলতে থাকে। শরীরে পর্যাপ্ত পরিমানে অক্সিজেন-এর অভাবে আক্রান্তের মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহের ঘাটতি দেখা দেয়। আর ঠিক এই কারণেই মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই সমস্যা ছাড়াও যদি আক্রান্তের আগে থেকে ক্যান্সার, হাপানির মতো সমস্যা,  হাইপারটেনশন, হার্টের সমস্যা বা ডায়াবিটিস থেকে থাকে তবে এই মারণ রোগে মৃত্যুর আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া এই ভাইরাসের ফলে হার্ট, কিডনি-সহ একাধিক অঙ্গ বিকল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা আক্রান্তের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।