গোটা বিশ্বের কাছে বর্তমানে আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে এই মারণ রোগ। প্রতি মুহূর্তে সারা বিশ্বে এই রোগের আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। ইতিমধ্যেই এই রোগকে মহামারি বলে চিহ্নিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। চিনে এই রোগের উৎপত্তি হলেও ধীরে ধীরে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পরেছে এই মারণ রোগ। দেশে করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক ছড়ানোর পর থেকেই, সমস্ত ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফ থেকে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে মাস্ক পড়ার করাও বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন- ফোন করলেই করোনা সচেতনতা, রিং এর বদলে শোনা যাচ্ছে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সতর্কবার্তা

আরও পড়ুন- ক্রমশ ভারতে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মাস্কের চাহিদা

করোনা আক্রান্তের জেরে তাই বারাণসীর একটি মন্দিরে শিবলিঙ্গেও মাস্ক পড়ানো হয়েছে। একইসঙ্গে পুজো দিতে আসা দর্শনার্থীদের আবেদন করা হয়েছে শিবলিঙ্গ স্পর্শ না করতে। দূর থেকেই পুজো সারতে আবেদন জানানো হয়েছে। কাশীর পাহ্লাদেশ্বর মহাদেব মন্দিরে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের হাতে থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করার জন্যই নেওয়া হয়েছে এই অভিনব উদ্যোগ। কারণ আক্রান্তের ছোঁয়ার থেকেও এই রোগ বাহিত হয়। তাই শিবলিঙ্গে স্পর্শ করা আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে এই মন্দিরে। এই বিষয়ে পুরোহিত কৃষ্ণ আনন্দ পান্ডে বলেছেন, "সাধারণ মানুষের মধ্যে করোনা সচেতনতা বৃদ্ধি  করতে আমরা শিবলিঙ্গে মাস্ক পড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ সকলে এসে পুজো দেওয়ার সময় শিবলিঙ্গ স্পর্শ করে। সেখানে থেকেও এই রোগ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকে মাস্ক পড়ে আসা প্রচুর দর্শনার্থীকে দেখা গিয়েছে। মনে করা হচ্ছে আমাদের উদ্দ্যোগ সফল হয়েছে।"

আরও পড়ুন- করোনা গ্রাসে ভারত, মানুষের মধ্যে ক্রমাগত বাড়ছে আতঙ্ক

সোমবার অবধি দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৭। গভীর রাতে দুবাই থেকে আসা পুনে থেকে দু'জনের মধ্যে এই সংক্রমণ পাওয়া গিয়েছে। দুজনকেই পুনের নাইডু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংক্রমণ পরীক্ষা করতে সারা দেশে ৫২টির মত ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও গবেষণা বিভাগের সঙ্গে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ (আইসিএমআর) এই ল্যাবগুলি তৈরি করেছে। আইসিএমআর জানিয়েছে, দিল্লির লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিকেল কলেজ-সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনাভাইরাস গবেষণা ও ডায়াগনস্টিক ল্যাব (ভিআরডি) নমুনা সংগ্রহ করছে। ৬ মার্চ মাস পর্যন্ত ৩৪০৪ জনের ৪০৫৮ টি নমুনা তদন্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে চীনের উহান শহর থেকে আনা ৬৫৪ জনের ১৩০৮ টি নমুনা রয়েছে।