রসুন বিশ্বে বাণিজ্যিক ভেষজ হিসাবে সফলতম। ২০০৪ সালে ২৭ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি ভেষজ রসুনজাত ওষুধ বিক্রয় হয়। রসুন কৃমি নাশ করতে, শ্বাস কষ্ট কমাতে, হজমে সহায়তা করতে, প্রস্রাবের সমস্যায়, শ্বাসনালী মিউকাস মুক্ত করতে, এ্যাজমা রোগের উপশমে, হাইপারটেনশন কমাতে, চুল পাকানো কমাতে, শরীরে কোলেস্টেরলের লেভেল কমাতে, হাড়ের বিভিন্ন রোগে রসুন সাহায্য করে। 

আরও পড়ুন- নিয়ন্ত্রনে রাখুন ডায়াবেটিস, ভরসা রাখুন এই খাবারগুলির উপর

রসুন এর প্রধান সক্রিয় উপাদান অ্যালিসিন নামক সালফারযুক্ত জৈব যৌগ। অ্যালিসিন রসুনের গন্ধ ও বিখ্যাত ভেষজ গুণ দুইয়ের প্রধান কারণ। রসুনকে কাটলে অ্যালিনেজ নামে একটি উৎসেচক অ্যালিইন থেকে অ্যালিসিন তৈরি করে। অ্যালিসিন খুবই স্বল্পস্থায়ী। রান্না করলে বা অ্যাসিডের প্রভাবে অ্যালিনেজও নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। তাই ভেষজ গুণের জন্য কাঁচা রসুন বেশি উপকারী। অ্যালিসিন দেহে কোলেস্টেরল তৈরির উৎসেচক এইচএমজিকোএ রিডাক্টেজ কে বাধা দেয় বলে জানা গিয়েছে। তবে জেনে নেওয়া যাক খালি পেটে রসুন খাওয়ার উপকারীতা। 

আরও পড়ুন- ঘুমের মধ্যেই মারাত্মক পেশির টান, অবহেলা নয় নজরে রাখুন এই বিষয়গুলি

সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে এক কোয়া রসুন ঠান্ডা লাগার প্রকোপ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া রসুনে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্ত পরিশুদ্ধ রাখতে সাহায্য করে। একইভাবে রক্তে উপস্থিত শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে রসুন। বিশেষজ্ঞদের মত, টানা এক থেকে দুই সপ্তাহ সকালে খালি পেটে রসুন খেলে ঠান্ডা লাগার ধাঁচ যাঁদের আছে সেই সমস্যা তাঁদের অনেকটা কমে যায়। শরীরকে ডিটক্সিফাই করার কাজে রসুনের জুরি মেলা ভার। পাশপাশি পরিপার ক্রিয়া উন্নত করতে প্রতিদিন এক কোয়া রসুন অত্যন্ত কার্যকর।

আরও পড়ুন- অগ্রহায়ণ সংক্রান্তি থেকে পৌষ সংক্রান্তি অবধি পালিত হয় বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই উৎসব

শুধু এই নয় ভাইরাস ও সংক্রমণজনিত অসুখ প্রতিরোধ করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে রসুন। এমনকি স্নায়বিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে রসুন। যতৃৎ ও মুত্রাশয়ের কাজ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে রসুন। হজমের সমস্যা, ব্রংকাইটিস, নিউমোনিয়া, হাঁপানির মত সমস্যা রোধে রসুন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শরীরের রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রেখে হৃপস্পন্দেনর হার নিয়ন্ত্রনে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে রসুনের। তাই সকাল বেলা খালি পেটে এক কোয়া রসুন খেলে দূরে থাকতে পারবেন এতগুলো রোগের হাত থেকে।