মাতলা আর নিমানিয়ার সঙ্গমে অবস্থিত কৈখালি। এখানে মাতলা সাগর অভিসারী। তাই তার বিস্তারও বিশাল। মাতলার আড়ালে ঢাকা পড়ে থাকা নিমানিয়া যেন তাই একটু হলেও অভিমানী। এর ঢেউ নেই, পাড় ভাঙার কাজ নেই। খুবই শান্ত শিষ্ঠ।
কলকাতা থেকে মাত্র ৩-৪ ঘণ্টার দূরত্বে একটি মনোরম পরিবেশ যুক্ত নিরিবিলি দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক অপরূপ নির্জন ঠিকানা হলো কৈখালি। মাতলা ও নিমানিয়া নদীর মোহনায় অবস্থিত, ঘন ম্যানগ্রোভ অরণ্য এবং শান্ত নদীর কোল ঘেঁষা এই স্থানটি শীতে উইকএন্ডে কাটানোর জন্য দারুণ। এখানে মাতলা নদীর বিশালতা, সুন্দরবনের সীমানা, রামকৃষ্ণ আশ্রম, নৌকা ভ্রমণ এবং সূর্যাস্তের দৃশ্য মন মাতানো।
কৈখালি ভ্রমণের বিস্তারিত বিবরণ:
* অবস্থান ও আকর্ষণ: কলকাতার খুব কাছেই (ক্যানিং-এর কাছে) কৈখালি হলো সুন্দরবনের প্রবেশদ্বারগুলোর মধ্যে অন্যতম । এখানকার প্রধান আকর্ষণ মাতলা নদীর বিশাল, শান্ত রূপ এবং নদীর ওপারে ঘন সুন্দরবনের জঙ্গল ।
দর্শনীয় স্থান ও কর্মকাণ্ড:
• মাতলা নদীর পাড়: নদীর পাড়ে বসে প্রকৃতির শান্ত রূপ উপভোগ করা। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নদী পাড়ের পরিবেশ মুগ্ধ করে।
* কৈখালি রামকৃষ্ণ আশ্রম: নিমপীঠ রামকৃষ্ণ মিশনের এই দ্বীপ সেবাকেন্দ্রটি খুবই শান্ত ও পবিত্র স্থান।
* নৌকা ভ্রমণ: কৈখালি থেকে নৌকা নিয়ে মাতলা নদী পার হয়ে ঝড়খালি যাওয়া যায়, যা খুবই রোমাঞ্চকর ।
* সূর্যাস্ত: নৌকা থেকে বা নদীর পাড় থেকে ম্যানগ্রোভ বনের ওপর সূর্যাস্ত দেখা এক অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা।
থাকার ব্যবস্থা:
• কৈখালি পর্যটন আবাস: নিমপীঠ রামকৃষ্ণ মিশন পরিচালিত সরকারি এই আবাসে থাকার জন্য পুরনো ও নতুন রুমের ব্যবস্থা আছে, যেখান থেকে সরাসরি মাতলা নদী দেখা যায় ।
* কৈখালি ফার্মস্টে: প্রকৃতির মাঝে থাকতে চাইলে এটিও একটি ভালো বিকল্প।
যাওয়ার উপায়:
• সড়কপথ: কলকাতা থেকে বাসে বা গাড়িতে ক্যানিং হয়ে সোনাখালি লঞ্চঘাট বা সরাসরি কৈখালি যাওয়া যায়।
* রেলপথ: শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখা থেকে ক্যানিং লোকাল ধরে ক্যানিং, সেখান থেকে অটো বা বাসে কৈখালি।
কৈখালী যাওয়ার সেরা সময়:
শীতকাল (সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ) কৈখালি ভ্রমণের জন্য সেরা, কারণ এই সময়ে আবহাওয়া মনোরম থাকে এবং নদীর রূপ সবচেয়ে সুন্দর হয়।
টিপস: বিকেল ৫টার পর মাতলার পাড়ে বসলে সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য দেখতে পাবেন। স্থানীয় মানুষের সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা দেখার সুযোগ পাবেন এখানে।


