সপ্তাহের শেষে আপনি ঘুরতে যেতে পারেন ঝাড়খণ্ড ও ওডিশার সীমান্তে অবস্থিত কিরিবুরু ও মোঘাহাতুবুরু। এইখানে গেলে আপনি প্রাণ ভরে প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে পারবেন।

ঝাড়খণ্ড ও ওডিশা সীমান্তে অবস্থিত কিরিবুরু-মেঘাহাতুবুরু হলো শালবনে ঢাকা এক অপূর্ব পাহাড়ি যমজ গন্তব্য। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৩০০ ফুট উঁচুতে এই স্থানটি "ঝাড়খণ্ডের সুইজারল্যান্ড" নামে পরিচিত। বিশাল সারান্দা বনের বুকে অবস্থিত এই খনি শহরগুলি মূলত সূর্যোদয়/সূর্যাস্ত, ঘন জঙ্গল এবং মেঘের লুকোচুরির জন্য পর্যটকদের কাছে স্বপ্নের ঠিকানা।

*কিরিবুরু-মেঘাহাতুবুরু ভ্রমণের বিস্তারিত বিবরণ:*

• ভৌগোলিক অবস্থান: স্থানটি ঝাড়খণ্ডের পশ্চিম সিংভূম জেলায় অবস্থিত, যা ওডিশার বারবিল থেকে খুব কাছে।

*• কেন যাবেন*:

• সারান্দা বন: এশিয়ার বৃহত্তম শাল বন, যা '৭০০ পাহাড়ের ভূমি' নামে পরিচিত।

• মেঘাহাতুবুরু সানরাইজ পয়েন্ট: মেঘের ওপরে সোনালী সূর্য উদয়ের দৃশ্য ।

• কিরিবুরু সানসেট পয়েন্ট: লোহা পাহাড় ও সাল বনের পেছনের মনোরম সূর্যাস্ত।

*• মেঘে ঢাকা শৈলশহর:* মেঘাহাতুবুরুকে 'ঝাড়খণ্ডের চেরাপুঞ্জি' বলা হয়, কারণ এখানে বছরের বেশিরভাগ সময় মেঘ জমে থাকে ।

*• দর্শনীয় স্থান:*

• কুমডি ড্যাম: দুই পাহাড়ের মাঝে বয়ে চলা লাল মাটির জলধারা ।

• রেইনবো ফলস: ভাগ্য ভালো থাকলে এখানে রামধনু দেখা যেতে পারে ।

• SAIL আয়রন ওর মাইনস: কিরিবুরু ও মেঘাহাতুবুরু খনি।

• সেরা সময়: অক্টোবর থেকে মার্চ মাস (শীতকাল সবচেয়ে ভালো)।

*• কীভাবে যাবেন*:

• রেলপথ: নিকটতম রেলওয়ে স্টেশন বড়জামদা (২৪ কিমি), টাটানগর থেকেও আসা যায়।

• সড়কপথ: জামশেদপুর বা রাঁচি থেকে সহজেই গাড়ি ভাড়া করে আসা যায়।

কিরিবুরু-মেঘাহাতুবুরু শুধু পাহাড় নয়, এটি এক শান্ত ও সবুজে মোড়া অরণ্যের অভিজ্ঞতা, যা শহরের কোলাহল থেকে মুক্তি দেয়।