লকডাউনের জেরে বাস চলছে না। 'রেড জোন' থেকে সাইকেল চালিয়ে বাপের বাড়িতে চলে এসেছিলেন এক প্রৌঢ়া। কিন্তু অভ্যর্থনা আর জুটল কই! উল্টে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শেষপর্যন্ত যেখান থেকে এসেছিলেন, সেখানেই ফিরে যেতে হল ওই প্রৌঢ়াকে। ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের লালগড়ে।

আরও পড়ুন: শিক্ষাক্ষেত্রে নয়া নজির, রাজ্যে স্নাতকোত্তর স্তরের পাঠক্রমে ঢুকল করোনা ভাইরাস

স্বামী প্রয়াত। পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরে মেয়ের কাছে থাকেন বছর ঊনষাটের ভারতী চক্রবর্তী। পশ্চিম মেদিনীপুরের লালগড়ে বাপের বাড়িতে থাকেন তাঁর ভাইপো। নাতিটাও যে কত বড় হয়ে গিয়েছে, কে জানে! তাঁদের দেখার জন্য মনটা ছটফট করছিল ভারতীর। লকডাউন তো কী হয়েছে। ওই প্রৌঢ়া সিদ্ধান্ত নেন, সাইকেল চালিয়েই পাড়ি দেবেন দেড়শো কিমি পথ। যেমন ভাবা, তেমনি কাজ।

আরও পড়ুন: করোনা থেকে মুক্তি, ফের শিলিগুড়ির কোভিড হাসপাতাল থেকে ছুটি পেলেন দুই নার্স ও এক বৃদ্ধা

আরও পড়ুন: রাজ্য়ে একাধিক করোনা রিপোর্ট 'ফলস' নেগেটিভ, কী বলছেন চিকিৎসকরা

জানা গিয়েছে,  মঙ্গলবার ভোরে রাতে অন্য এক নাতিকে সঙ্গে নিয়ে পূর্ব মেদিনীপুরে পটাশপুর থেকে রওনা হন ভারতী। লালগড়ে যখন পৌঁছন, তখন সূর্য মাথার উপরে। কিন্তু ঘটনা হল, সোমবার রাতে করোনা সতর্কতায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলাকে 'রেড জোন' বলে ঘোষণা করেছে প্রশাসন। ভরদুপুরে ওই প্রৌঢ়াকে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন লালগড়ের বাবুপাড়া এলাকার বাসিন্দারা। শুরু হয়ে যায় বিক্ষোভ। খবর পেয়ে ভাইপো ও নাতিকে লালগড় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোয়ারেন্টাইনে পাঠিয়ে দেন বিনপুর ১ নম্বর ব্লকের বিডিও। বিকেলে পূর্ব মেদিনীপুরে পটাশপুরে ফিরে চান ভারতী চক্রবর্তীও।