শাহাজাহান আলি, মেদিনীপুর: সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে কি তাহলে শুধুই করোনা রোগীদের চিকিৎসা হবে? সংক্রমণের আতঙ্কে এবার হাসপাতালের সামনে জমায়েত করে বিক্ষোভ সামিল হলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, কোনও অবস্থায় সাধারণ রোগীদের জন্য পরিষেবা বন্ধ করা যাবে না। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে।

আরও পড়ুন: করোনা আতঙ্কে 'পৌষমাস', জেল থেকে ছাড়া পাচ্ছে বিচারাধীন ও সাজাপ্রাপ্ত বন্দিরা

গত কয়েক বছরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল তৈরি করেছে সরকার। বাদ যায়নি পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিও। দু'বছর ধরে শালবনি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল চলছে পিপিই মডেলে। সরকারি পরিকাঠামো ও ওষুধ ব্যবহার করে রোগীদের পরিষেবা দিচ্ছে জিন্দাল গোষ্ঠী। চিকিৎসক, নার্স-সহ স্বাস্থ্যকর্মীদেরও নিয়োগ করেছে ওই বেসরকারি সংস্থাটি। 

এদিকে আবার যতদিন যাচ্ছে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। রোগীদের চাপ এতটাই যে, দুটি হাসপাতাল তৈরি করেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না! তাহলে উপায়? এবার শালবনি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালটিকে অধিগ্রহণ করে কোভিড হাসপাতালে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। প্রস্তুতিও প্রায় শেষ পর্যায়ে, গত কয়েক দিন ধরে শালবনি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগ বন্ধ। নতুন করে আর কোনও রোগীকে ভর্তি নেওয়া হচ্ছে না। চিকিৎসা করাতে এসে ফিরে যাচ্ছেন অনেকেই। কিন্তু ঘটনা হল, করোনা রোগীদের চিকিৎসা নিয়ে এলাকায় যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে, তেমনি পরিষেবা বন্ধ থাকার কারণে ক্ষোভও বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।  বৃহস্পতিবার সকালে শালবনি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে সামনে জমায়েত করেন এলাকাবাসীর একাংশ।  দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে ক্ষোভ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। কোনওমতে বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে-সুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

আরও পড়ুন: করোনার ভয়কে জয় করল রসনা, সুস্থ হয়েই মুম্বই ফিরতে মরিয়া রায়গঞ্জের যুবক

উল্লেখ্য, পিপিই মডেলে হাসপাতালে পরিচালনার ক্ষেত্রে জিন্দাল গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।  বকেয়ার বেতনে দাবিতে শনিবার একই কায়দায় বিক্ষোভ দেখান চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা