শুক্রবার সকাল থেকেই জম্মু কাশ্মীর সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিল পাকজঙ্গিরা। আর সেই জন্যই পাকিস্তানের সেনা বাহিনী সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন করে উরি, বারামুল্লা, কেরান সেক্টরে গুলিগোলা চালাচ্ছিল। পাল্টা জবাব দিয়েছে ভারতীয় বাহিনী। পাল্টা ভারতীয় বাহিনীর গোলার আঘাতে উড়ে যায় পাক সেনার একটি বাঙ্গার। 

সেনাবাহিনী সূত্রের খবর পাক যুদ্ধ বিরতি লঙ্ঘন প্রতিহত করার জন্য এদিন ভারতীয় বাহিনী অ্যান্ট ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল, রকেট ব্যবহার করে। সেইরকমই সীমান্তের এবার থেকে ছোঁড়া গোলায় উড়ে যায় পাক সেনা বাঙ্গারটি। সেনাবাহিনীর তরফ থেকে এদিন বেশ কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। তার একটিতে দেখা যাচ্ছে পাহাড়ের ওপর রয়েছে একটি বাঙ্গার। গোলার আঘাতে সেটি উড়ে যায়। আগুন জ্বলতে থাকে। ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারদিক। সেনা সূত্রের খবর এদিন ভারতীয় সেনা জবাব দিতে গিয়ে পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি গুলি বোমা ও অস্ত্র মজুত কেন্দ্র উড়িয়ে দিয়েছ। 

ভারতীয় সেনার প্রকাশ করা আরও একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, অ্যান্টি ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইলের আঘাতে পাকিস্তানের একটি সেনা বাঙ্গার উড়ে যায়, এক নিরাপত্তা কর্মী ছিটকে পড়ে যায়। তার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পরপর দুটি ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র সেই বাঙ্কারে গিয়ে আঘাত করে। ভারতীয় সেনা বাহিনীর সূত্রে খবর এদিন পাকিস্তানের যুদ্ধ বিরতির জবাব দেওয়ার সময় ৭-৮জন পাক সেনা নিহত হয়েছে । ভারত ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গুলি বিনিময়ের কারণে সীমান্তবর্তী এলাকায় পাক জঙ্গিদের বেশ কয়েকটি লঞ্চ প্যাডও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

এদিন সকাল থেকেই উরি, কেরান, গুরেজ সেক্টরে সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন করছিল পাকিস্থান। পাক সেনাবাহিনীর ছোঁড়া গুলিতে ক্ষতি হয়েছে ভারতীয় শিবিরেরও। এক মেজর, এক বিএসএফএর সাবইন্সপেক্টরসহ  চার সেনা জওয়ান নিহত হয় পাক গোলার আঘাতে। মৃত্যু হয়েছে বেশ কয়েকজন সাধারণ নাগরিকরেও। উরি সেক্টর সংলগ্ন এলাকার দুই বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে পাক গোলায়। কেন্দ্রীয় সরকারের থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে চলতি বছর এখনও পর্যন্ত ৪০৫২টি সিজফারায়ের ঘটনা ঘটেছে জম্মু ও কাশ্মীর সীমান্তে। যারমধ্যে নভেম্বরেই ১২৮টি সিজফায়ার হয়েছে। অক্টোবরে সিজফায়ারের ঘটনা ছিল ৩৯৪টি। গতবছর ৩২৩৩টি সিজফায়ারের ঘটনা ঘটেছিল।