পাকিস্তানের (Pakistan) জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা, নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়-এর স্বাস্থ্য সচিব আমির আশরাফ খাওয়াজা (Aamir Ashraf Khawaja) মঙ্গলবার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি (PAC)-তে জানিয়েছেন চলতি মার্চ মাসের মধ্যে পাকিস্তান কোভিড-১৯ এর ৪.৫ কোটি ভারতীয় ডোজ পেতে চলেছে।  আশরাফ খাওয়াজা পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি-এর চেয়ারম্যান রানা তানবীর হুসেন (Rana Tanveer Hussain)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে কোভিড টিকাকরনের পক্রিয়া সম্পর্কেও বিশদে জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন- ৪০ মিনিট কথা হল, জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ নরেন্দ্র মোদীর 

বিশেষ এই অনুষ্ঠানে আমির আশরাফ খাওয়াজা, পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি-কে জানিয়েছিন যে, এখন পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি ৭০ লক্ষেরও বেশি মানুষ, যার মধ্যে ফ্রন্ট লাইনের স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রবীণ নাগরিক এই কোভিড -১৯ থেকে সুরক্ষা পেতে টিকা পেতে পারেন। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, ফেডারেল ক্যাবিনেটের নির্ধারিত অগ্রাধিকার অনুযায়ী প্রথমে ফ্রন্ট লাইনের স্বাস্থ্যকর্মী, স্বাস্থ্যকর্মী এবং ৬৫ বছর বয়সী প্রবীণ ব্যক্তিদের প্রথমে টিকা দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন- ভারত-বাংলাদেশ যাতায়াতের সুবিধে, নরেন্দ্র মোদীর হাতে খুলে গেল মৈত্র সেতু

আমির আশরাফ আরও বলেছেন, গাভি (Gavi) চুক্তির আওতায় এই কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের মোট ৪৫ মিলিয়ন ডোজ পাকিস্তান পেতে চলেছে, যার মধ্যে চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যেই ১৬ মিলিয়ান ডোজ হাতে পেয়ে যাবে তারা। (উল্লেখ্য, গাভি হল একটি সরকারী-বেসরকারী চুক্তি যা উন্নয়নশীল দেশগুলি একে-অপরকে ভ্যাকসিন সরবরাহ করতে সহায়তা করে। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের সঙ্গে কোভিড -১৯ ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য এমনই একটি চুক্তি হয়েছিল।) সচিব আমির আশরাফ আরও জানিয়েছেন, 'মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে গাভি থেকে এই ভ্যাকসিনটি আসবে বলে আশা করা হয়েছিল তবে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে এবং মনে করা হচ্ছে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এটি পাওয়া যাবে।'

এই সভায় উপস্থিত সিনেটর মুশাহিদ হুসেন সৈয়দ (Mushahid Hussain Syed) প্রশ্ন করেছিলেন যে, এই কোভিড-১৯ এর টিকা কোথা থেকে আসছে। উত্তরে স্বাস্থ্য সচিব আমির আশরাফ জানিয়েছিল যে, 'ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট (Serum Institute of India) কর্তৃক উত্পাদিত ভ্যাকসিন গ্রহণ করবে পাকিস্তান (Pakistan)।' এমএনএ রাজা রিয়াজ (MNA Raja Riaz) স্বাস্থ্য সচিবকে জানিয়েছিলেন যে, 'সংসদ সদস্যদের প্রথম পর্যায়ে টিকা দেওয়া উচিত কারণ তারা সর্বদা জনসমক্ষে আসতে হয়।' পিএসি চেয়ারম্যান (PAC Chairman) এই প্রস্তাব সমর্থন করে জানান, 'যে বেশিরভাগ দেশগুলিতে রাজ্যের প্রধানরাই দেশের জনগণকে টিকা নেওয়ার বিষয়ে উৎসাহিত ও আস্থা তৈরির জন্য প্রথমে ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছিলেন। তাই পাকিস্তানও সে পথেই হাঁটতে পারে।'