হাফিজ সইদ ও অন্যান্য জঙ্গি নেতাদের ধর-পাকড়ের ছলে ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের নিষেধাজ্ঞা থেকে রক্ষা পাবে বলে ভেবেছিল পাকিস্তান। কিন্তু, ইমরান খানের কপালের ভাঁজ বাড়ালেন এশিয়-প্যাসিফিক গোষ্ঠীর সদস্যরা। সন্ত্রাসবাদীদের তহবিল জোগানো আটাকাতে পাকিস্তানকে যে সমস্ত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছিল তা পাকিস্তান যথাযথ পালন করতে পারেনি এই অভিযোগে এফএটিএফএ-র এশিয়-প্যাসিফিক গোষ্ঠী পাকিস্তানকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে।

সন্ত্রাসবাদে তহবিল জোগান বন্ধ করতে না পারার কারণে পাকিস্তানকে এর আগেই এফএটিএফ ধুসর তালিকাভুক্ত করেছিল। এর সঙ্গে অবশ্য এশিয়-প্যাসিফিক গোষ্ঠীর এই পদক্ষেপের কোনও যোগ নেই। কিন্তু এর ফলে নিঃসন্দেহে এফএটিএফ-এর ধুসর তালিকা থেকে পাকিস্তানের মুক্ত হওয়ার পথ বন্ধুর হল।

এশিয়-প্যাসিফিক গোষ্ঠীর বৈঠক শেষ হলে বিশদে রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে। কিন্তু তার আগেই যেটা জানা যাচ্ছে, সন্ত্রাসবাদে তহবিল জোগানের বিরুদ্ধে যে ৪০ টি আইনি ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন করার কথা পাকিস্তানকে বলা হয়েছিল, তারমধ্য়ে ৩২টি ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়েছে পাকিস্তান। এছাড়া আরও ১১টি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের মধ্যে ১০টিই নিত পারেনি ইমরান খানের দেশ।

আরও পড়ুন - পাক সন্ত্রাসবাদে অর্থ জোগানের অভিযোগ, মধ্যপ্রদেশে গ্রেফতার ৫ ভারতীয়

আরও পড়ুন - পাকিস্তানিদের সঙ্গে আসছে আফগান-পস্তু জঙ্গিরাও! গোয়েন্দা তথ্যে সতর্কতা জম্মু-কাশ্মীরে

আরো পড়ুন - কপালে বিভূতি, সাধুর বেশে ঘুরছে ছয় লস্কর জঙ্গি! জারি উচ্চ সতর্কতা

আরো পড়ুন - এবার পাকিস্তানের উপর ভারতের 'জল-বোমা'! 'পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ' শুরুর অভিযোগ

গত সপ্তাহেই ৪৫০ পাতার কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট পেশ করেছিল পাকিস্তান। তার মধ্য়েই আইনি ক্ষেত্রে গত দেড় বছরকে তারা কী কী পরিবর্তন এনেছে, এবং সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী গুলির বিরুদ্ধে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েচে, তা বিশদে জানানো হয়েছিল। তারা দাবি করেছিল, সন্ত্রাসে তহবিল জোগানোর অভিযোগে  লস্কর-ই-তৈবা তথা জামাত-উদ-দাওয়া প্রধান হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেইসঙ্গে তাঁর সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই রিপোর্ট এফএটিএফ-এর ২৭ দফা অ্যাকশন প্ল্যানের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।

তারপর এফএটিএফএ-র সামনে পাকিস্তান নিয়ে তিনটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথ খোলা থাকবে। প্রথম, ধুসর তালিকা থেকে পাকিস্তানকে মুক্ত করা। দ্বিতীয়, ধুসর তালিকাতেই তাদের রেখে দেওয়া। তিন, আরও নিচে নামিয়ে পাকিস্তানকে কালো তালিকাভুক্ত। যদিও সংশ্লিষ্ট মহল মনে করে হাফিজ সইদ ও অন্যান্য জঙ্গি নেতাদের ধর-পাকড়টা পাকিস্তানের আইওয়াশ মাত্র। এতে এশিয়-প্যাসিফিক গোষ্ঠীকে ধোকা দেওয়া যায়নি। তাই এফএটিএফএ-ও এরপর পাকিস্তানকে কালো তালিকাভুক্ত করবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।