২০২৬ সালের মে মাস ধর্মীয় দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। এই মাসে শনি জয়ন্তী, গঙ্গা দশহরার মতো বড় উৎসবের পাশাপাশি জ্যৈষ্ঠ অধিক মাসও শুরু হবে, যা প্রতি তিন বছর অন্তর আসে এবং এর বিশেষ ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক তাৎপর্য রয়েছে।

২০২৬ সালের পঞ্চম মাস, অর্থাৎ মে মাস, ধর্মীয় দিক থেকে খুবই স্পেশাল হতে চলেছে। এই মাসে শনি জয়ন্তী, বট সাবিত্রী ব্রত, অচলা একাদশী এবং গঙ্গা দশহরার মতো বেশ কয়েকটি বড় উৎসব পালিত হবে। এছাড়াও, এই মাসেই জ্যৈষ্ঠ মাসের অধিক মাস শুরু হয়ে যাবে, যা জুন ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। এই কারণে হিন্দু ধর্মে এই মাসের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। পুরো মাসটাই জ্যৈষ্ঠ এবং জ্যৈষ্ঠ অধিক মাসের মধ্যে পড়বে। আসুন জেনে নেওয়া যাক, ২০২৬ সালের মে মাসে কবে কোন উৎসব রয়েছে।

মে ২০২৬-এর ব্রত-উৎসবের তালিকা (Fasts and festivals of May 2026)

১ মে, শুক্রবার- বুদ্ধ জয়ন্তী, বৈশাখ পূর্ণিমা

৩ মে, রবিবার- নারদ জয়ন্তী

৫ মে, মঙ্গলবার- অঙ্গারক গণেশ চতুর্থী

১৩ মে, বুধবার- অচলা একাদশী

১৪ মে, বৃহস্পতিবার- বট সাবিত্রী ব্রত শুরু

১৫ মে, শুক্রবার- মাসিক শিবরাত্রি, শিব চতুর্দশী ব্রত

১৬ মে, শনিবার- শনি জয়ন্তী, বট সাবিত্রী ব্রত

১৭ মে, রবিবার- জ্যৈষ্ঠ অধিক মাস শুরু

২০ মে, বুধবার- বিনায়কী চতুর্থী

২৬ মে, মঙ্গলবার- গঙ্গা দশহরা

২৭ মে, বুধবার- কমলা একাদশী

২৮ মে, বৃহস্পতিবার- প্রদোষ ব্রত

৩০ মে, শনিবার- জ্যৈষ্ঠ অধিক মাস ব্রত পূর্ণিমা

৩১ মে, রবিবার- জ্যৈষ্ঠ অধিক মাস স্নান-দান পূর্ণিমা

১৭ মে থেকে শুরু হবে অধিক মাস

ধর্মগ্রন্থে অধিক মাসের বিশেষ গুরুত্বের কথা বলা হয়েছে। প্রতি তিন বছর অন্তর অধিক মাস আসে। একে পুরুষোত্তম মাসও বলা হয়, অর্থাৎ ভগবান বিষ্ণুর মাস। ২০২৬ সালে জ্যৈষ্ঠ মাসের অধিক মাস ১৭ মে থেকে শুরু হয়ে ১৫ জুন পর্যন্ত চলবে। এই এক মাসে এমন অনেক বিশেষ ব্রত-উৎসব পালিত হবে, যা তিন বছরে একবারই আসে। জ্যৈষ্ঠ মাসের অধিক মাসেই ১৫ জুন, সোমবার শনিশ্চরী অমাবস্যার মহাসংযোগ তৈরি হবে। এমন বিরল संयोग বহু দশকে একবারই ঘটে।

অধিক মাসের বৈজ্ঞানিক তাৎপর্য

অধিক মাসের শুধু ধর্মীয় নয়, বৈজ্ঞানিক তাৎপর্যও রয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, চাঁদের পৃথিবীকে ১২ বার প্রদক্ষিণ করতে ৩৫৫ দিন সময় লাগে, একে চন্দ্র বছর বলা হয়। আর পৃথিবীর সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে ৩৬৫ দিন সময় লাগে, যাকে সৌর বছর বলা হয়। এইভাবে, প্রতি বছর চন্দ্র বছর এবং সৌর বছরের মধ্যে ১০ দিনের পার্থক্য তৈরি হয়। এই পার্থক্য দূর করার জন্যই প্রতি তৃতীয় বছরে অধিক মাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে ব্রত-উৎসবগুলি একটি নির্দিষ্ট ঋতুতে আসে।