Puja Vrat: পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী পার্বতী শিবকে জিজ্ঞেস করেন "আপনি অমর, আমি মরণশীল কেন?" শিব অমরত্বের "অমরকথা" শোনাতে নির্জন গুহা খোঁজেন। পথে পহেলগাঁওতে নন্দীকে, চন্দনবাড়িতে চাঁদকে, শেষনাগে সাপকে, পঞ্চতরণীতে ৫টা তত্ত্বকে ত্যাগ করেন।
Puja Vrat: হিমালয়ের কোলে ১৩,৫০ ফুট উঁচুতে বরফের গুহা। ভিতরে ঝুলছে বরফের শিবলিঙ্গ। প্রতি বছর জুলাই-আগস্টে ওটা নিজে থেকেই বড় হয়, শ্রাবণ পূর্ণিমায় চূড়া ছোঁয়, তারপর গলে যায়। এটাই অমরনাথ।

কেন "অমরনাথ"? অমরকথার গল্প:
১. পার্বতীর প্রশ্ন + শিবের প্রতিজ্ঞা
একদিন দেবী পার্বতী শিবকে বলেন: "প্রভু, আপনি কল্প-কল্প ধরে আছেন। আমি জন্ম-মৃত্যুর চক্রে আটকে যাই কেন?" শিব বলেন "তোমায় অমরত্বের গোপন কথা শোনাবো।" কিন্তু সেই কথা যেন কেউ না শোনে। তাই নির্জন জায়গা খুঁজতে বেরোলেন।
২. পথে একে একে সব ত্যাগ
কৈলাস থেকে বেরিয়ে শিব প্রথমে পহেলগাঁওতে তাঁর বাহন নন্দীকে ছেড়ে দেন। কারণ অমরত্বের কথা শুনলে নন্দীও অমর হয়ে যাবে।
চন্দনবাড়িতে মাথার চাঁদকে খুলে রাখেন।
শেষনাগ লেকে গলার বাসুকি নাগকে ছেড়ে দেন।
পঞ্চতরণীতে পৃথিবী, জল, আগুন, বায়ু, আকাশ - পঞ্চতত্ত্ব ত্যাগ করেন।
গুহার মুখে পুত্র গণেশকে আর দ্বাররক্ষী ভৈরবকে দাঁড় করিয়ে একা ভিতরে যান পার্বতীকে নিয়ে।
৩. গুহার ভিতর অমরকথা ও পায়রার কাহিনি
গুহার ভিতর শিব পার্বতীকে অমরকথা শোনাতে শুরু করলেন। কথার মাঝে পার্বতী ঘুমিয়ে পড়েন। শিব বুঝতে পারেননি।
কিন্তু গুহার এক কোণে ২টো পায়রা লুকিয়ে ছিল। তারাও পুরো কথা শুনে ফেলে। ফলে পায়রা ২টো অমর হয়ে যায়।
কথা শেষে শিব বুঝতে পারেন পার্বতী ঘুমোচ্ছে। রেগে পায়রা মারতে গেলে পায়রা ২টো গুহার ফাটল দিয়ে বেরিয়ে যায়। আজও ভক্তরা গুহার ভিতর জোড়া পায়রা দেখতে পায় বলে বিশ্বাস।
৪. বরফের শিবলিঙ্গের রহস্য
গুহার ছাদ থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল পড়ে জমে শিবলিঙ্গ তৈরি হয়। শ্রাবণ মাসে চাঁদের আলো পড়ে ওটা সাদা ধবধবে হয়। পূর্ণিমায় সবচেয়ে বড়, অমাবস্যায় গলে ছোট হয়ে যায়। বিজ্ঞান বলে এটা "stalagmite"। ভক্তরা বলে এটা স্বয়ম্ভু শিব।
যাত্রার ৫টা স্টপেজ = ৫টা ত্যাগের প্রতীক:
পহেলগাঁও = নন্দী ত্যাগ
চন্দনবাড়ি = চন্দ্র ত্যাগ
শেষনাগ = নাগ ত্যাগ
পঞ্চতরণী = পঞ্চতত্ত্ব ত্যাগ
গুহা = মোহ-মায়া ত্যাগ
ভক্তদের বিশ্বাস:
যে একবার অমরনাথ দর্শন করে, তার জন্ম-মৃত্যুর চক্র কাটে। বরফের শিবলিঙ্গ ছুঁলে সব পাপ ধুয়ে যায়। গুহার জল খেলে রোগ সারে।
যাওয়ার আগে ৩টে কথা:
১. রেজিস্ট্রেশন + মেডিকেল ফিট সার্টিফিকেট মাস্ট।
২. অক্সিজেন কম, তাই আস্তে হাঁটো। "বম বম ভোলে" বলতে বলতে যাও।
৩. গুহার ভিতর ফোন-ক্যামেরা বারণ। শুধু মন দিয়ে দর্শন করো।
শেষ কথা:
অমরনাথ শুধু তীর্থ না, এটা ত্যাগের শিক্ষা। শিব নিজের সবচেয়ে প্রিয় নন্দী-গণেশকেও ছেড়েছেন শুধু পার্বতীকে একটা সত্য বলার জন্য। সেই সত্যটা হলো - "মৃত্যুকে জয় করতে হলে মোহ ত্যাগ করতে হয়"।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

