Pushpanjali Rituals: পুজোর আগে ফুলের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। মণ্ডপসজ্জা থেকে পুজোর উপকরণ - সবেতেই লাগে ফুল। আর অষ্টমীর পুষ্পাঞ্জলি তো কুচো ফুল ছাড়া অসম্পূর্ণ। কিন্তু জানেন কি এই কুচো ফুল আসলে কী? এতদিন যা কিনছেন, তা কি আদৌ কুচোনো ফুল?
Pushpanjali Vrat: অনেকেই ভাবেন, কুচো ফুল মানে বড় ফুলের পাপড়ি ছিঁড়ে বা কুচিয়ে তৈরি ফুল। দোকানে গাঁদা বা গোলাপের ছেঁড়া পাপড়ি দেখে সেই ধারণা আরও পোক্ত হয়। কিন্তু শাস্ত্র বলছে সম্পূর্ণ উল্টো কথা। শাস্ত্রে ‘ছিন্ন’ বা ছেঁড়া-ফাটা ফুল দেবতাকে নিবেদন করা নিষিদ্ধ। তাই কুচো ফুল কখনই কুচোনো ফুল নয়। প্রতিটি ফুলই আস্ত।
তাহলে ‘কুচো’ শব্দের অর্থ কী?
‘কুচো’ শব্দটি এসেছে বাংলা ‘কুচ’ বা ‘ছোট’ থেকে। অর্থাৎ, যে ফুলগুলো আকারে ছোট, নিজস্ব পাপড়ি, বৃন্ত নিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ, সেগুলিকেই বলে কুচো ফুল। এটি কোনও একটি ফুল নয়, অনেক ছোট ফুলের সমাহার। আজকাল অঞ্জলির থালায় যে কুচো ফুল দেখেন, তাতে সাধারণত থাকে - শিউলি, টগর, সাদা ও গোলাপি নয়নতারা, জুঁই, বেল, ছোট জবার কুঁড়ি, অপরাজিতা, মাধবীলতা, কাঠগোলাপের কুঁড়ি, ছোট গাঁদা, দোপাটি ইত্যাদি। মরসুমভেদে এই তালিকা বদলায়।
শাস্ত্রে কী বলা আছে?
দুর্গাপুজো বিষয়ক গবেষক ও সংস্কৃতের অধ্যাপক নবকুমার ভট্টাচার্য জানাচ্ছেন, শাস্ত্রে ‘কুচো ফুল’ বলে আলাদা কোনও শব্দই নেই। আছে ‘নানা পুষ্প’। “সূত্রেণ গ্রথিতং মাল্যং নানাপুষ্পসমন্বিতম্” - অর্থাৎ যে মালা দেবীকে দেওয়া হবে, তাতে সব রকম ফুল থাকবে, এটাই বিধি। ‘কালিকা পুরাণ’ অনুযায়ী দেবীর প্রিয় ফুল হল - বকুল, নাগকেশর, কুন্দ, করবী, আকন্দ, পদ্ম ও রক্তপদ্ম। ‘শাক্তানন্দ তরঙ্গিণী’ গ্রন্থে বলা হয়েছে, জবা, করবী, অপরাজিতা দেবীর বিশেষ প্রিয়। ‘দুর্গাভক্তি তরঙ্গিণী’ গ্রন্থে দ্রোণ ফুলেরও উল্লেখ আছে। অর্থাৎ, দেবীর প্রিয় এই সব ফুলের সমন্বয়ই হল আসল কুচো ফুল। কিন্তু এখন সেই সব দুষ্প্রাপ্য ফুল আর পাওয়া যায় না। তাই ফুল ব্যবসায়ীরা যা সহজলভ্য, যেমন শিউলি, টগর, দোপাটি, ছোট গাঁদা - যখন যেমন পাওয়া যায়, তাই মিশিয়ে ‘কুচো ফুল’ হিসেবে বিক্রি করেন। ফুল ব্যবসায়ীরা বলছেন, নিম্নচাপের বৃষ্টিতে ফুলের জমিতে জল দাঁড়িয়ে গাছের গোড়া পচে যাওয়ায় এবার ফুলের জোগানেও টান পড়েছে, তাই কুচো ফুলে মরসুমের ফুলই বেশি থাকছে। তাই পরেরবার অঞ্জলির থালায় দু’হাত ভরে কুচো ফুল নেওয়ার সময় মনে রাখবেন, আপনি ছেঁড়া পাপড়ি নয়, অনেকগুলো আস্ত ছোট ফুলের ভালোবাসাই দেবীর পায়ে অর্পণ করছেন।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।








