কর্ণাটককে ১৭৪ রানে হারিয়ে আরও একবার রঞ্জি ট্রফির ফাইনালে বাংলা। আত্মবিশ্বাসে ভরপুর বাংলা ইতিমধ্যেই স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে ভারত সেরা হওয়ার। কিন্তু সেমিতে কর্ণাটক বধের প্রধান অস্ত্র ছিল বাংলার আগুনে পেস অ্যাটাক। পেস বোলিং বিভাগ নিয়ে বারবার সমালোচনায় পড়তে হয়েছে বাংলাকে। কখনও দিন্দা, কখনও রণদেব  বসুরা সেই সমালোচনার জবাব দিলেও, দলগতভাবে বাংলার জোরে বোলিং বিভাগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু ২০১৯-২০ মরসুমের শুরু থেকেই বদলে যেতে শুরু করে ছবিটা। বেঙ্গল পেস ব্যাটারিকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে যায় ঈশান পোড়েল, মুকেশ কুমার, আকাশ দীপরা। 

আরও পড়ুনঃ কর্ণাটককে হারিয়ে রঞ্জি ফাইনালে বাংলা, তৃতীয়বার ভারত সেরা হওয়ার হাতছানি

সেমি ফাইনালেও বাংলার পেস ত্রয়ীর সামনে কার্যত অসহায়ভাবে আত্মসমর্পন করেন কর্ণাটকের কে এল রাহুল, মণীশ পাণ্ডে, করুণ নায়ার, পাড্ডিকল সমৃদ্ধ শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ। যদিও পাড্ডিকল একমাত্র কিছুটা লড়াই চাালায়। সেমিতে ঘরের মাঠে প্রথম ইনিংসে ৩১২ রান করে বাংলা। কর্ণাটকের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিরুদ্ধে যা নিয়ে কিছুটা চিন্তায় ছিল বেঙ্গল থিঙ্ক ট্যাঙ্ক। কিন্তু সব চিন্তা দূর করে আগুন ঝড়ানো বোলিং শুরু করেন বাংলার পেস অ্যাটাক। প্রথম ইনিংসে একাই ৫ উইকেট নিয়ে কর্ণাটকের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন ইশান পোড়েল। ৩টি উইকেট পান আকাশ দীপ ও ২টি উইকেট পান মুকেশ কুমার। কর্ণাটকের প্রথম ইনিংস শেষ হয় মাত্র ১২২ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসেও সেই একইভাবে কর্ণাটকের ব্যাটিং লাইনআপকে দুমড়ে মুচড়ে দেয় মুকেশ , ঈশান, আকাশ দীপরা। বাংলার আগুন ঝড়ানো বোলিংয়ের সামনে ৩৫২ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৭৭ রানেই শেষ হয়ে যায় কর্ণাটকের ইনিংস। একাই ৬ উইকেট নিয়ে নজির গড়েন মুকেশ কুমার।  দুটি করে উইকেট পান ঈশান পোড়েল ও আকাশ দীপ। তাদের সৌজন্যেই আরও একবার রঞ্জি জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলা।

আরও পড়ুনঃ সামনে আরও একটি ফাইনাল, তার আগে স্মৃতিতে বাংলার রঞ্জি জয়

আরও পড়ুনঃঋদ্ধিমানের বদলে পন্থের চয়ন কি ভারতের হারের কারণ গুলোর মধ্যে একটি
 
বর্তমানে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ঈশান পোড়েলের উইকেট সংখ্যা ২১ ম্যাচে ৬০ উইকেট।  মুকেশ কুমারের সংগ্রহ ২১ ম্যাচে ৭৮ উইকেট আর আকাশ দীপের সংগ্রহ ৮ ম্যাচে ৩০উইকেট। ফলে তাদের পারফরমেন্সই বলে দিচ্ছে কেন এই পেস ত্রয়ীর উপর ভরসা করে রঞ্জি জয়ের ছক কষছেন বাংলা কোচ অরুণ লাল। আর ফাইনালেও এই ভাবেই আগুন ঝড়াবেন ঈশান পোড়েল, মুকেশ কুমার, আকাশ দীপরা। আশাবাদী বাংলার ক্রিকেট প্রেমিরা।