ARG vs Egypt: এক দিন আগে চোটগ্রস্ত 'ছোদ্দা' বিদায় নিয়েছে। একদিন পর 'বাতেলা বদ্দা'। সাধারণত আমি কোনও খেলোয়াড়কে অপমান করি না। কিন্তু ম্যাচ হারার পর বদ্দা যে সমস্ত বাণী দিলেন এবং বিশ্বকাপ শুরুর আগে যে সমস্ত বাণী দিয়েছিলেন তাতে বাধ্য হয়ে বাতেলা বদ্দা নামটা দিতে হল।

ফ্ল্যাশব্যাক

হঠাৎ করে ২০১৫-র ক্রিকেট বিশ্বকাপের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। ২০২৪-এর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কথাও বলা যেতে পারে। প্রথম ক্ষেত্রে ম্যাচ হেরে যাওয়ার পর (১১ বছর রানিং) এখনও 'আইছিছি চুর, ইন্ডিয়া চুর...' ইত্যাদি চলছে। ২০২৪-এ অবশ্য পরিস্থিতি সামান্য আলাদা ছিল। সে সময় একটি দল অনেক আগেই (আপদ) বিদায় নিয়েছিল। কিন্তু সূ্র্যকুমার যাদবের ম্যাচ উইনিং ক্যাচ নেওয়ার সময় তাঁর পায়ে বাউন্ডারি লাইন স্পর্শ করেছিল কিনা তা নিয়ে প্রায় সাড়ে সাত মাস আতস কাঁচ নিয়ে টিভির সামনে বসেছিল। 'চুর'-এর গল্প তখনও শোনা গিয়েছিল। সেই বিশেষ দেশের বিষয়টা এরকম ছিল, ভারতে বিপক্ষে যে দলই খেলুক, ওরা তার সাপোর্টার। যাক গে, সে দেশের নামও মুখে আনতে ইচ্ছা করে না নানাবিধ কারণে। তাই নিলাম না।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এবং বাস্তব

ব্যাক টু ৭ জুলাই ২০২৬। এক দিন আগে চোটগ্রস্ত 'ছোদ্দা' বিদায় নিয়েছে। একদিন পর 'বাতেলা বদ্দা'। সাধারণত আমি কোনও খেলোয়াড়কে অপমান করি না। কিন্তু ম্যাচ হারার পর বদ্দা যে সমস্ত বাণী দিলেন এবং বিশ্বকাপ শুরুর আগে যে সমস্ত বাণী দিয়েছিলেন তাতে বাধ্য হয়ে বাতেলা বদ্দা নামটা দিতে হল। এক সময় বিশ্বকাপ জেতা তাঁর স্বপ্ন ছিল। ২০২২-এর বিশ্বকাপের পরই স্বপ্ন চেঞ্জ। তখন বিশ্বকাপ ৬-৭টা ম্যাচের একটা সামান্য টুর্নামেন্ট মাত্র! এই বিশ্বকাপে হারার পর আবার বাণী দিলেন, আমি তো ইউরো জিতেছি। সেটার মূল্যও বিশ্বকাপের সমান। আমার আগে পর্তুগাল কিস্যু জেতেনি। আমিই তিনটে ট্রফি এনে দিয়েছি। ১ বছরেই ৯৯ শতাংশ কাজ করে দিয়েছি। ডাবল ডাবল কাজ হবে, ডাবল ডাবল চাকরি হবে, ডাবল ডাবল... ধুর আবার কী সব বকছি! আসলে 'মমতা ব্যানার্জি সিনড্রোম' খুব সাংঘাতিক রোগ। বাতাসে ভেসে পশ্চিমবঙ্গের গণ্ডি ছাড়িয়ে কোথায় কোথায় যে পৌঁছে যায় কে জানে! ভাগ্যিস অরূপ বিশ্বাস মেসির কোমর খামচে ধরার সময় মেসি ঠিকঠাক পোশাক পরে ছিলেন। নখের আঁচড় লাগলে সেই সিনড্রোম মেসির মধ্যেও চলে আসতে পারত। সবাই তো তখন অনুপ্রাণিত তিনোমুল নেতা। সবাই ওই সিনড্রোমে আক্রান্ত। নেহাত ফুটবলপ্রেমীদের অভিশাপ আর দীর্ঘ নিঃশ্বাস সে সময় বাতাসে ছড়িয়েছিল। তাই হাওয়ায় ভেসে আসা জীবাণু সব মারা গিয়েছিল। না হলে নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যম মেসির ফুসফুস ফুটো করে দিত।

ফুটবল ঈশ্বরকে অসংখ্য ধন্যবাদ, সে দিন দি পল আর মেসিকে রক্ষা করার জন্য। যাক গে, বয়স হয়েছে। মাঝে মাঝে খেই হারিয়ে ফেলি। আবার প্রসঙ্গে ফিরে আসছি। ছোদ্দা আর বদ্দা বিদায় নেওয়ার পর নাকের শিকনি টেনে কান্নার আওয়াজ কম পাইনি। মধ্যরাতে অমন আওয়াজে শেওড়া গাছের নীচে শুয়ে আছি বলে ভ্রম হচ্ছিল। অত্তগুলো মানুষের কষ্ট হচ্ছে ভেবে আমিও খানিক কষ্ট পাচ্ছিলাম। আহা গো, কেমন ফুটফুটে দুই ভাই আর তাঁদের ফ্যান-এসি। কত্ত বিশেষণ, কত্ত ভালো ভালো কতা বলতে আর লিখতে গিয়ে পাগল প্রায় অবস্থা। ক্ষমা-ঘেন্না করে কোনওক্রমে আমিও গিলছিলাম সে সব। সোশাল মিডিয়ায় এলেই ফোঁতফোঁত ফ্যাঁত ফ্যাঁত আওয়াজ। কান্নার কী চোট! সেই মালেরা একদিন পরেই এত্ত তেড়েফুড়ে উঠবে কে ভেবেছিল। গতকাল আমি তো ভেবেছিলাম কয়েক শো মাল কোমায় চলে যাবে। কয়েকজনকে স্যালাইন কোডোপাইরিন দিতে হবে। আমি ক্লিওপেট্রার ফ্যান। এ বাদে মিশরের কোনও কিছুকেই কোনও দিন সাপোর্ট করিনি। ফুটবল তো দূরস্থান। সেই মিশরের এত সাপোর্টার কোথা থেকে এল বুঝতেই পারলাম না!

উল্লাস ফানুস যখন চুপসে যায়…

মধ্যরাতে উল্লাসে প্যান্ট ভিজিয়ে ফেলেছিল প্রায়। না মানে, জোরে চিৎকার করলেও দেখবেন মাঝে মাঝে হিসি-হাগু চেপে রাখতে অসুবিধা হয়। সেই কারণেই বলছিলাম আর কী! তা যাই হোক, সে কী চিৎকার আর উল্লাসের নগ্ন ছবি দেখছিলাম। ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ওরা পারলে আনন্দে ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলে। লাথি মেরে আকাশ ফুটো করে দেয়। গুটিকতক বাজিও ফাটছিল। ৭৯তম মিনিট থেকে তারপর যা শুরু হল তাতে তার পরেও ফাটার আওয়াজ পেলাম। তবে তাতে বাজির আওয়াজের মতো অত জোর ছিল না। কী ফাটছিল তা হলফ করে বলতে পারি না। ১৩ মিনিটের মধ্য গল্প গুটিয়ে গেল আর লেজ গুটিয়ে কী সব ফাটা লুকোতে সেই মালগুলোও কেমন ভোজবাজির মতো উবে গেল! এই পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শুরু হল নতুন বিপত্তি।

এবার ফিরে যান লেখার এক্কেবারে শুরুর দিকে। আইসিসি চুর, ইন্ডিয়া চুর, চানাচুর... আইসিসি-র জায়গায় ফিফাকে বসান। ইন্ডিয়ার জায়গায় আর্জেন্টিনাকে বসান। মেসিকে বসাতে হবে না, ও বসেই আছে, সিংহাসনে। ওর জন্যই তো এতকিছু। মেসির যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে ব্রাজিলের নেইমারকে বসাতে না পেরে পর্তুজিল হয়ে রোনাল্দোকে বসিয়ে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটায়। এবার ছোদ্দা-বদ্দার বিশ্বকাপ শেষ এবং চিরতরে শেষ। খেলা পাগল এবং ফুটবল দেখতে ভালোবাসি বলে এবারের বিশ্বকাপে মন ভরে খেলা দেখতে চেয়েছিলাম। তা ছোদ্দা প্রায় গোটা বিশ্বকাপে ওয়র্ক ফ্রম হোম করেই গেল। বদ্দা সতীর্থদের দিকে হাত দেখিয়ে এবং শেষ পর্যন্ত পিঠ দেখিয়ে পালিয়ে গেল। মাঝে বলে গেল আই অ্যাম ব্যাক। বলে গেল, আর চলে গেল। তাতে আর কী, এটা ৬-৭টা ম্যাচের একটা প্রতিযোগিতা বই অন্য কিছু তো নয়! প্রসঙ্গে ফিরে আসি। চানাচুর অবধি তো শুনেছেন। এবার বাকিটা বলছি। ম্যাচে রেকর্ডিং দেখিয়ে এটা প্রমাণ করার একটা মরিয়া প্রয়াস চলছে যে আর্জেন্টিনা চুরি করে ম্যাচ জিতেছে। কিছু রেকর্ডিংয়ে তো দেখলাম অন্য ম্যাচের ফুটেজ মাঝে বসানো আছে। সে যাক গে, মরিয়া প্রয়াসে কীই বা যায় আসে। মেসি মরিয়াও যে মরে না, ছোদ্দা-বদ্দার মতো হারে না, ইহাতে তাহারা যৎপরনাস্তি বিস্মিত এবং অতিমাত্রায় মর্মাহত। বাজে প্লেয়ার কোথাকার! বাঁ পায়ে বল ধরতে পারে না, দৌঁড়তে পারে না, গোল তো একেবারেই করতে পারে না। শুধু ফোকোটে একটা বিশ্বকাপ জিতে আমাদের প্রিয় বদ্দা-ছোদ্দার বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে।

আরও বেশি বারোটা বাজিয়েছে বদ্দা-ছোদ্দার ফ্যান-এসিদের। এমনই এক মালকে বলতে শুনলাম, ৭৮ মিনিটের পর নাকি ওই বিশেষ দেশ থেকে কয়েক লক্ষ কোটি টাকা ফিফাকে পাঠানো হয়েছে। তার পরই আর্জেন্টিনাকে ম্যাচ জিতিয়ে দিয়েছে। ভাবুন একবার। কল্পনা আর ফ্রাস্ট্রেশনের লেভেল কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে। হায় রে কপাল, বিধি এতই নিষ্ঠুর! আপাতত লেখা পড়ে তেড়ে খিস্তি মারবে কিছু মাল। কিছু আবার মুখ বেঁকিয়ে টিপ্পনী কাটবে। তবে ফাটবে সবার। কী ফাটবে সেটা আর বললাম না। গতাকল রাতেও ফাটার আওয়াজ পেয়েছি। ক্রমাগত পেয়েই চলেছি। ফাটুক আর আমাদের দিন এমনই কাটুক।

চল ফোট।