JJ Smuts T20 World Cup: এবারের টি-২০ বিশ্বকাপে ঘটতে চলেছে অবাক কাণ্ড। বাইশ গজের বিশ্বকাপে এবার অভিষেক হচ্ছে ইউরোপের ফুটবলের সুপার পাওয়ার দেশ ইতালির। আর আজুরির দেশের হয়ে বিশ্বকাপে খেলতে নামবেন দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্মানো জেজে স্মাটস।
JJ Smuts: এবারের টি-২০ বিশ্বকাপে (ICC T-20 World Cup 2026) ঘটতে চলেছে অবাক কাণ্ড। বাইশ গজের বিশ্বকাপে এবার অভিষেক হচ্ছে ইউরোপের ফুটবলের সুপার পাওয়ার দেশ ইতালির। আর আজুরির দেশের হয়ে বিশ্বকাপে খেলতে নামবেন দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্মানো জেজে স্মাটস। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলেছেন। সেই স্মুটস এবার টি-২০ বিশ্বকাপে ইতালির হয়ে খেললেও , তিনি কোনওদিন সে দেশে যাননি। হ্যাঁ, শুনতে অবাক হলেও সত্যি, বিশ্বকাপে যে দেশকে খেলোয়াড় প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি কোনওদিন সেখানে থাকা তো দূরের কথা, সেখানে পা দেননি। আসলে স্মুটসের স্ত্রী হলেন একজন ইতালিয়ান। স্মাটস তাঁর স্ত্রী জুডি (বিয়ের আগের নাম ক্যাস্টিগনানি)-র সঙ্গে বিয়ের সূত্রে প্রায় চার বছর আগে একটি ইতালীয় পাসপোর্ট পান। জুডির ইতালিয়ান বংশধারা থাকায় তিনি ইতালির নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট পাওয়ার যোগ্য ছিলেন, এবং সেই কারণেই স্মাটস ইতালির হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতা অর্জন করেছেন।
স্মাটসের কেরিয়ার
দক্ষিণ আফ্রিকার জার্সিতে ২০১৭ সালে সেঞ্চুরিয়ানে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টি-২০ ম্যাচে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল স্মাটসের। বিরাট কোহলির নেতৃত্ব খেলা ভারতের বিরুদ্ধেও টি-২০ ম্যাচে খেলেছিলেন তিনি। ২০২০ সালে কেপটাউনে ইংল্যানন্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে-তে অভিষেক হয়। সে বছরই পোচেস্ট্রমে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৮৪ রানের অনবদ্য ইনিংস ও দুটি উইকেট নিয়ে ম্য়াচ সেরার পুরস্কারও জেতেন। তবে এরপর আর একটা ম্যাচ খেলেই দক্ষিণ আফ্রিকার জার্সিতে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কেরিয়ার শেষ হয়। এরপর চলতি বছর জানুয়ারিতে ইতালির জার্সিতে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়। ইতালির হয়ে স্মাটস এখনও পর্যন্ত মোট ৩টি টি-২০ ম্যাচ খেলেছেন, তিনটিই দুবাইয়ের মাটিতে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে।
কোনও দিন ইতালিতে পা রাখেননি
যে দেশের হয়ে তিনি ৩৭ বছর বয়েসে বিশ্বকাপ খেলতে নামবে, সেই দেশে কখনও না পা রাখা নিয়ে স্মাটস মজা করে বললেন, তাঁর রোম, ফ্লোরেন্স, ভেনাসে ঘুরতে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু খেলার চাপে সেটা হয়ে ওঠেনি। তবে বিশ্বকাপে ইতালিকে জয় এনে দিয়ে তিনি এবার রোমে ঘুরতে যাবেন। এবার টি-২০ বিশ্বকাপে ইতালি ক্রিকেট দলের সবচেয়ে বড় তারকা তিনিই। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৬টি ওয়ানডে, ১৬টি আন্তর্জাতিক খেলে নজর কেড়েছিলেন JJ Smuts। তবে ডায়বেটিস ও চোটের কারণে প্রোটিয়াদের হয়ে নজর কাড়তে পারেননি। এখনও তিনি তিনি টাইপ-১ ডায়াবেটিসও অত্যন্ত নিয়মিতভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখেন। প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ বার আঙুলে সূঁচ ফোটিয়ে রক্ত পরীক্ষা করেন এবং অন্তত ৪ বার ইনসুলিন ইনজেকশন নেন। তবুও তাঁর উচ্চমানের ফিটনেস ও পারফরম্যান্স বজায় রাখছেন।
বাইশ গজে ইতালির ইতিহাস
ইতালি প্রথমবারের মতো কোনো আইসিসি বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে (পুরুষদের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬), যা ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি, শনিবার থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬। সোমবার প্রথমবার ক্রিকেট বিশ্বকাপে খেলতে নামছে পাওলো মালদিনি, রবার্তো বাজ্জিও, বুঁফোদের দেশ। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে হতে চলা বিশ্বকাপে ইতালির প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড। ইউরোপ রিজিওনাল ফাইনালে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে (নেদারল্যান্ডসের পরে এবং স্কটল্যান্ডের আগে) ইতালি বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করে। তবে সেই বাছাই দলে স্মাটস ছিলেন না প্রায় দুই বছর ধরে ইতালিয়ান ক্রিকেট ফেডারেশনের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি পরে দলে যোগ দেন।
স্মাটসের ইতালিতে যোগ
সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে স্মাটস ইতালির জার্সিতে দুরন্ত পারফরম্যান্স করেন। তাদের মধ্যে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক জয়ে ২/১৮, যা ছিল আইসিসির পূর্ণ সদস্য কোনো দলের বিরুদ্ধে ইতালির প্রথম জয়। এবারের টি-২০ বিশ্বকাপে ইতালি রয়েছে গ্রুপ C-তে। ইতালির গ্রুপে রয়েছে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, স্কটল্যান্ড ও নেপাল। আন্ডারডগ হিসেবে তাদের ওপর বড় কোনো প্রত্যাশা না থাকলেও, স্মাটসের মতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা, লড়াই করা এবং টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের মাধ্যমে অঘটন ঘটানোর সম্ভাবনাই মূল লক্ষ্য। স্মাটস মনে করেন, এটি তার প্রথম এবং সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপের সুযোগ। তিনি বলেন, কোনো চাপ না থাকাটাই সবচেয়ে রোমাঞ্চকর। ইতালিতে ক্রিকেটের প্রসার ঘটানো যেমনটা রাগবির ক্ষেত্রে হয়েছে এবং খেলাটির পরিচিতি বাড়াতে তিনি অবদান রাখতে চান। শুরুতে প্রত্যাশা কম থাকলেও, স্থানীয় ইতালিয়ান ক্রিকেটারদের পেশাদারিত্ব দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন।


