কাবুলের একটি হাসপাতালে পাকিস্তানি বিমান হানার অভিযোগে ৪০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে আফগান ক্রিকেটার রশিদ খান একে 'যুদ্ধাপরাধ' বলে অভিহিত করেছেন এবং আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার কাবুলের একটি হাসপাতালে বিমান হানা হয়। আফগানিস্তান অভিযোগ করেছে যে পাকিস্তান ঘটিয়েছে এই ঘটনা। এই হাসপাতালটিতে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা চলছিল। আফগানদের দাবি, হামলায় ৪০০-র বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন। তবে পাকিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের পাল্টা দাবি, পূর্ব আফগানিস্তানেও হামলা চালানো হয়েছে, কিন্তু শুধুমাত্র "সামরিক ঘাঁটি এবং জঙ্গিদের পরিকাঠামো"-কে নিশানা করা হয়েছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

এই ঘটনার পরেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছেন আফগানিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা বিশ্বের অন্যতম সেরা টি-টোয়েন্টি স্পিনার রশিদ খান। কাবুলে বিমান হানায় সাধারণ মানুষের মৃত্যুতে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এক্স হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটার) রশিদ লিখেছেন, "কাবুলে পাকিস্তানি বিমান হানায় সাধারণ মানুষের মৃত্যুর খবরে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। ইচ্ছাকৃতভাবে হোক বা ভুল করে, সাধারণ মানুষের বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা হাসপাতালে হামলা চালানো একটি যুদ্ধাপরাধ।"

"পবিত্র রমজান মাসে মানুষের জীবনকে এভাবে উপেক্ষা করাটা বিরক্তিকর এবং অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটা শুধু বিভেদ আর ঘৃণা বাড়াবে। আমি জাতিসংঘ এবং অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে এই নৃশংসতার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। এই কঠিন সময়ে আমি আমার আফগান ভাই-বোনদের পাশে আছি। আমরা সেরে উঠব এবং একটি জাতি হিসেবে আবার উঠে দাঁড়াব। আমরা সবসময় এটাই করে এসেছি। ইনশাল্লাহ!"

Scroll to load tweet…

রশিদের পাশাপাশি অন্য আফগান ক্রিকেটাররাও এই হামলার নিন্দা করেছেন, বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে এমন ঘটনায় তাঁরা ক্ষুব্ধ। 

আফগানিস্তানের আরেক প্রাক্তন অধিনায়ক মহম্মদ নবি-ও এই বিপুল সংখ্যক প্রাণহানির ঘটনায় মুখ খুলেছেন। তিনি লিখেছেন, "আজ রাতে কাবুলের একটি হাসপাতালে আশা নিভে গেল। পাকিস্তানি সামরিক শাসকের বোমায় চিকিৎসার জন্য আসা তরুণদের হত্যা করা হয়েছে। মায়েরা গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে ছেলেদের নাম ধরে ডাকছিলেন। রমজানের ২৮তম রাতে তাদের জীবন কেড়ে নেওয়া হল।"

কাবুলে পাকিস্তানের বিমান হানা

সোমবার রাত ৯টা নাগাদ ওই হামলা চলে। হামলা করা হয় ওমিদ আসক্তি চিকিৎসা হাসপাতালে। সেখানে ২ হাজার লোকের শয্যা ছিল। এই হামলায় প্রায় ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পর এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪০০। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে আগুন লাগার ভিডিও।