Disgrace of Gijon:আজ, বুধবার রাত থেকেই শুরু হয়ে যাচ্ছে গ্রুপ পর্বের শেষ রাউন্ডের খেলা। অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দেশকে ১২টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (ভারতীয় সময় রাত সাড়ে ১২টা) রাত থেকে প্রতিটি গ্রুপের শেষ রাউন্ডের খেলা শুরু হবে।

Disgrace of Gijon:আজ, বুধবার রাত থেকেই শুরু হয়ে যাচ্ছে গ্রুপ পর্বের শেষ রাউন্ডের খেলা। অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দেশকে ১২টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (ভারতীয় সময় রাত সাড়ে ১২টা) রাত থেকে প্রতিটি গ্রুপের শেষ রাউন্ডের খেলা শুরু হবে। নিয়ম হল, বিশ্বকাপে শেষ গ্রুপ ম্যাচগুলো একই সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। মানে আজ রাত গ্রুপ বি-র যে দুটি খেলা রয়েছে- সুইজারল্যান্ড বনাম কানাডা ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনা বনাম কাতার, এই দুটি ম্য়াচই ভারতীয় সময় একই সময় রাত সাড়ে ১২টা থেকে শুরু হবে। আবার গ্রুপ সি-র শেষ দুটি ম্যাচ ব্রাজিল বনাম স্কটল্যান্ড, ও মরক্কো বনাম হাইতি। এই দুটি খেলাই শুরু হবে ভারতীয় সময় ভোর সাড়ে ৩টে থেকে। কিন্তু কেন? একই সঙ্গে দুটি খেলা দেওয়ার মানে কী!

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

শুধুই কি ফিক্সিং এড়াতে

ফুটবলের যারা একটু খোঁজ রাখেন, তারা বিষয়টা সহজেই বুঝতে পারছেন। আসলে গ্রুপের শেষ ম্যাচগুলির ফলের ওপর নির্ভর করে কারা বিদায় নেবে, আর কারা উঠবে নক আউটে। অনেক সময় গ্রুপের চ্য়াম্পিয়ন, রানার্সও নির্ধারিত হয় শেষ ম্য়াচের ওপরেই। তাই ম্যাচ ফিক্সিং বা গড়াপেটা কিংবা দলগুলির মধ্যে অশুভ সমঝোতা এড়াতে দুটি গ্রুপের শেষ রাউন্ডের খেলাগুলি একসঙ্গে রাখা হয়। এটুকু অনেকের জানা থাকলেও, ফুটবলে বিশ্বকাপে গ্রুপের শেষ দুটি ম্যাচ একই সময়ে শুরুর পিছনে একটা বড় কলঙ্কিত কাহিনি রয়েছে। যাকে বলা হয়, গিখনের কলঙ্ক (Disgrace of Gijón)। কিন্তু কী এই গিখনের কলঙ্ক!

গিখনের কলঙ্ক

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত ঘটনা। এটি ঘটেছিল ১৯৮২ সালের ফিফা বিশ্বকাপে স্পেনের গিখন শহরে অনুষ্ঠিত পশ্চিম জার্মানি বনাম অস্ট্রিয়া ম্যাচে।

কেন এটিকে 'লজ্জা বা কলঙ্ক' বলা হয়?

সেই সময় বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচগুলো একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হতো না। ফলে পশ্চিম জার্মানি ও অস্ট্রিয়া মাঠে নামার আগে জানত, আগের ম্যাচে আলজেরিয়া চিলিকে হারিয়েছে।

সমীকরণ ছিল:

শর্ত ১- পশ্চিম জার্মানি যদি ১ বা ২ গোলে জেতে, তাহলে জার্মানি ও অস্ট্রিয়া দু'দলই পরের রাউন্ডে যাবে।

শর্ত ২- জার্মানি ৩ বা তার বেশি গোলে জিতলে অস্ট্রিয়া বিদায় নেবে, আর আলজেরিয়া উঠে যাবে নক আউটে।

শর্ত ৩ অস্ট্রিয়া ড্র করলে বা জিতলে জার্মানি বিদায় নেবে।

ম্যাচের ফল শেষ পর্যন্ত কী হয়েছিল?

ম্যাচের ১০ মিনিটে পশ্চিম জার্মানির হর্স্ট হ্রুবেশ গোল করেন। স্কোর হয় ১-০। এরপর ম্যাচের বাকি প্রায় ৮০ মিনিট দুই দলই কার্যত আক্রমণ বন্ধ করে দেয়। কারণ এই স্কোর থাকলে পশ্চিম জার্মানি ও অস্ট্রিয়া, দুই দলই পরবর্তী রাউন্ডে উঠে য়াবে, বিদায় নেবে আলজেরিয়া। তাই দুদলের ডিফেন্ডারদের মধ্যে পাস, গোলকিপারের কাছে বল ফেরত, মাঝমাঠে ধীরগতির খেলা। দর্শকরা হতবাক হয়ে যায়। স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকেরা বিরক্তিতে বিদ্রুপের শিস দিতে শুরু করেন। অনেকেই রাগে টিকিট ছুঁড়ে ফেলেন।

'এটা ফুটবল নয়'

স্প্যানিশ ধারাভাষ্যকাররা মন্তব্য করেন: "এটা ফুটবল নয়।"আলজেরিয়া সেই বিশ্বকাপে দুর্দান্ত খেলেছিল। তারা পশ্চিম জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের বড় অঘটনগুলোর একটি। কিন্তু জার্মানি-অস্ট্রিয়ার ওই ফলের কারণে আলজেরিয়া গ্রুপ থেকেই বিদায় নেয়।

ফিফার সিদ্ধান্ত

এই ঘটনার পর ফিফা কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৮৬ বিশ্বকাপ থেকে গ্রুপ পর্বের শেষ দুটি ম্যাচ একই সময়ে আয়োজন বাধ্যতামূলক করা হয়, যাতে কোনও দল আগে থেকে সমীকরণ জেনে সুবিধা নিতে না পারে। এই কলঙ্কের কথা মাথায় রেখে আজও বিশ্বকাপ, ইউরো, কোপা আমেরিকা, প্রায় সব বড় টুর্নামেন্টেই শেষ গ্রুপ ম্যাচগুলো একই সময়ে হয়।

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম কুখ্যাত ম্যাচ

কারণ ম্যাচটি পুরোপুরি ফিক্সড প্রমাণিত হয়নি, কিন্তু দুই দলই এমনভাবে খেলেছিল যাতে ১-০ ফল বজায় থাকে এবং উভয়ের লাভ হয়। তাই এটি ফুটবলে 'Tacit Collusion' (নীরব সমঝোতা)-এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হিসেবে ধরা হয়।