FIFA WC 2026: মেসির দেশের মানুষের ফুটবল প্রেমের অবিশ্বাস্য কাহানি। কর্দোবা শহরের বাসিন্দা ড্যানিয়েল রাভিলি এবং তাঁর ছেলে টনি রাভিলি-র ফুটবল প্রেমের কথা শুনলে অবাক হতে হয়। WC টানে রাভিলি বাবা-ছেলে এমন এক যাত্রায় বেরিয়েছিলেন, যাতে চমকে গিয়েছে বিশ্ব।
FIFA WC 2026: লিওনেল মেসির দেশের মানুষের ফুটবল প্রেমের অবিশ্বাস্য কাহানি। আর্জেন্টিনার কর্দোবা শহরের বাসিন্দা ড্যানিয়েল রাভিলি এবং তাঁর ছেলে টনি রাভিলি-র ফুটবল প্রেমের কথা শুনলে অবাক হতে হয়। বিশ্বকাপের টানে রাভিলি বাবা-ছেলে এমন এক যাত্রায় বেরিয়েছিলেন, যা শুনে চমকে গিয়েছে বিশ্ব। ৬৩ বছরের ড্যানিয়েল এবং ২৫ বছরের টনি সিদ্ধান্ত নেন, আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ দেখতে তাঁরা আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছবেন বাইকে চেপেই। সেই স্বপ্ন পূরণ করতে নিজেদের পারিবারিক গাড়িটিও বিক্রি করে দেন তাঁরা। গাড়ি বিক্রির টাকা দিয়ে কেনা হয় দুটি মোটর সাইকেল। এরপরই শুরু হয় তাঁদের দীর্ঘ ও দুঃসাহসিক সফর।

গত ৫ মার্চ আর্জেন্টিনার কর্দোবা থেকে যাত্রা শুরু
গত ৫ মার্চ আর্জেন্টিনার কর্দোবা থেকে যাত্রা শুরু করেন বাবা-ছেলে। এরপর টানা পাঁচ মাস ধরে পথে পথে কাটিয়ে তাঁরা পাড়ি দেন ১৩টি দেশ। মোট অতিক্রম করেন প্রায় ৯ হাজার মাইল পথ। গোটা সফরে একবারও বিমানে ওঠেননি তাঁরা। এমনকি কোনও হোটেলও আগে থেকে বুক করা ছিল না। পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিকল্পনা বদলেছে, আর সেই অনিশ্চয়তাকেই সঙ্গী করে এগিয়েছে তাঁদের যাত্রা।
৯ হাজার মাইল পাড়ি দিলেও নেই ম্যাচের টিকিট
তবে অবাক করার মতো বিষয় হল, এত দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আমেরিকায় পৌঁছলেও তাঁদের হাতে ছিল না একটি ম্যাচের টিকিটও। গন্তব্য ছিল কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়াম। সেখানেই ম্যাচের দিন স্টেডিয়ামের বাইরে শেষ মুহূর্তে টিকিটের ব্যবস্থা করার আশা নিয়ে পৌঁছেছিলেন তাঁরা। ড্যানিয়েল জানিয়েছেন, তাঁর কাছে একটি ম্যাচ দেখাও স্বপ্নপূরণের সমান। তিনি বলেন, "একটা ম্যাচও যদি দেখতে পারি, তাহলেই আমার মন ভরে যাবে। তার বেশি কিছু হলে সেটা বাড়তি প্রাপ্তি।"
মেসির দেশের ফুটবল প্রেম
আর্জেন্টিনার সমর্থকদের উন্মাদনা এবং দলের প্রতি ভালোবাসার কথা ফুটবল বিশ্বে সুপরিচিত। পরপর দুটি বিশ্বকাপ জয়ের পর সেই আবেগ আরও বেড়েছে। ড্যানিয়েল ও টনির এই সফর যেন সেই সমর্থন-সংস্কৃতিরই এক জীবন্ত উদাহরণ। কঠিন পথ, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, দীর্ঘ যাত্রা। সব বাধা পেরিয়ে বিশ্বকাপের টানে এগিয়ে গিয়েছেন বাবা ও ছেলে। শুধু ফুটবলের প্রতি ভালোবাসাই নয়, এই যাত্রা আরও একবার তুলে ধরেছে বাবা-ছেলের অটুট সম্পর্ক, ত্যাগের মানসিকতা এবং স্বপ্ন পূরণের অদম্য ইচ্ছাশক্তির গল্প।

