FIFA World Cup 2026 News: ১৯৭৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ ফুটবলের যোগ্যতা অর্জন করেছিল হাইতি। এবার তারা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করেছে। গ্রুপ সি-তে ব্রাজিল (Brazil), মরক্কো (Morocco) ও স্কটল্যান্ডের (Scotland) সঙ্গে আছে হাইতি। বিশ্বকাপে লড়াই করার আশায় উত্তর আমেরিকার এই দেশের ফুটবলাররা।
KNOW
FIFA World Cup 2026 Updates: ৫২ বছর পর বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলার সুযোগ পেয়েছে হাইতি (Haiti)। উত্তর আমেরিকার এই দেশ ১৯৭৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলেছিল। তারপর এবার বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলছে। সেটা নিয়ে খুব বেশি আলোচনা হচ্ছে না। কারণ, হাইতির বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলার সুযোগ পাওয়ার চেয়েও তাদের জার্সি নিয়ে বেশি আলোচনা চলছে। হাইতির জার্সিতে পোল্যান্ডের (Poland) জাতীয় পতাকা দেখা যাচ্ছে। ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা (Argentina), ইতালি (Italy) ও পোল্যান্ডের সঙ্গে একই গ্রুপে ছিল হাইতি। তারা সেবার গ্রুপের বাধা টপকাতে পারেনি। এবারও গ্রুপের বাধা টপকে নক-আউটে পৌঁছনো কঠিন। তবে লড়াই করার আশায় হাইতি।

হাইতির জার্সিতে কেন পোল্যান্ডের পতাকা?
১৮০২ সাল যখন হাইতি ফরাসি উপনিবেশ (French colony) ছিল, সেই সময় স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন ক্রীতদাসরা। সেই আন্দোলন দমন করার লক্ষ্যে ৫,০০০ পোলিশ সেনা পাঠান তৎকালীন ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন (Napoleon)। সেই সময় পোল্যান্ডও স্বাধীন দেশ ছিল না। প্রুশিয়া (Prussia), রাশিয়া (Russia) ও অস্ট্রিয়া (Austria) হাইতি দখল করে রেখেছিল। পোলিশ সেনাবাহিনীর আশা ছিল, হাইতির আন্দোলন দমন করার ক্ষেত্রে সাহায্য করলে ফ্রান্স পাল্টা পোল্যান্ডের স্বাধীনতা অর্জনে সাহায্য করবে। কিন্তু হাইতি পৌঁছনোর পর পোলিশ সৈন্যরা বুঝতে পারেন, তাঁদের ব্যবহার করে আফ্রিকান (African) ক্রীতদাসদের বিদ্রোহ দমন করতে চাইছে ফ্রান্স। ক্রীতদাসদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে তাঁদের সঙ্গে মিলে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন পোলিশ সৈন্যরা। সেই সাহায্যের কথা মনে রেখেছে হাইতি।
পোল্যান্ডের প্রতি কৃতজ্ঞ হাইতি
১৮০৪ সালে স্বাধীনতা লাভ করে হাইতি। স্বাধীন দেশের সর্বোচ্চ নেতা জিঁ-জ্যাকুয়েস দেশাঁইলিনেস পোলিশদের অবদান স্বীকার করেন। ১৯০৫ সালে হাইতির সংবিধান রচনা করা হয়। এই সংবিধানে বলা হয়, কোনও বিদেশি শ্বেতাঙ্গ জমি কিনতে পারবে না। কিন্তু পোলিশ সৈন্যদের জমি কেনার অনুমতি দেওয়া হয়। সেই সময় পোল্যান্ডের ৫০০ সেনা হাইতিতে ছিলেন। তাঁরা এই দেশেই থেকে যান।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


