FIFA World Cup 2026: চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে একেবারে ভরাডুবি হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার। মেক্সিকোর পাশাপাশি তুলনায় দুর্বল দক্ষিণ আফ্রিকার কাছেও হেরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয় কোরিয়া। আর ভরাডুবির পর থেকে কোচ হং মিয়ং-বো-কে ঘিরে তুমুল ক্ষোভ দক্ষিণ কোরিয়া জুড়ে।

FIFA World Cup 2026: চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে একেবারে ভরাডুবি হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার। মেক্সিকোর পাশাপাশি তুলনায় দুর্বল দক্ষিণ আফ্রিকার কাছেও হেরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয় কোরিয়া। আর এই ভরাডুবির পর থেকে দলের হেড কোচ হং মিয়ং-বো (Hong Myung-bo) বিরুদ্ধে তুমুল ক্ষোভ দক্ষিণ কোরিয়া জুড়ে। কোচ হং মিয়ং-বো-কে নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে টানা বিক্ষোভ হচ্ছে। তাঁকে দেশের লজ্জাও বলা হচ্ছে। গত কয়েক বছরে কোনও কোরিয়ান ক্রীড়া ব্যক্তিত্বকে ঘিরে এতবড় ক্ষোভ দেখা যায়নি। তাঁর বাড়ির সামনে সেনাবাহিনী পর্যন্ত নামিয়ে ক্ষোভ সামলে দিতে হচ্ছে। প্রবল জনরোষ, লাগাতার সমালোচনা এবং প্রাণনাশের হুমকির আবহে দক্ষিণ কোরিয়া ছাড়লেন জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হং মিয়ং-বো।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

দেশ ছেড়ে পালালেন কোচ

নিজের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই তিনি নীরবে দেশজুড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে গিয়েছেন কোচ হং। তাঁর এই আকস্মিক দেশত্যাগে দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবল মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপে কোরিয়ার ভরাডুবির পর তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। অভিযোগ, এবারের বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপর্যয়ে হং বো-য়ের ভুল স্ট্র্য়াটেজির জন্যই এই বিপর্যয়। গত কয়েক মাস ধরেই জাতীয় দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্স নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছিল সমর্থকদের মধ্যে। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ধারাবাহিক ব্যর্থতার পর থেকেই হং মিয়ং-বোকে ঘিরে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিশেষ করে দলের কৌশল, একাদশ নির্বাচন এবং ফুটবলার বাছাই নিয়ে তাঁকে কঠোর প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচার শুরু হয়। এমনকি বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার দাবিও জোরদার হয়।

দেখুন ভিডিও

Scroll to load tweet…

তিনি শুধু একজন কোচ, দেশের কিংবদন্তি ফুটবলারও

উল্লেখ্য, হং মিয়ং-বো শুধু একজন কোচ নন, দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা কিংবদন্তিও। ২০০২ সালের বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়াকে ঐতিহাসিক সেমিফাইনালে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। সেই বিশ্বকাপে দল চতুর্থ স্থান অর্জন করলেও দেশের ফুটবল ইতিহাসে সেটি এখনও অন্যতম সেরা সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়। খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া হলেও কোচ হিসেবে তাঁর দ্বিতীয় ইনিংস ততটা সফল হয়নি বলেই মনে করছেন অনেক সমর্থক।

দেশজুড়ে তুমুল বিক্ষোভ

Scroll to load tweet…

দক্ষিণ কোরিয়ায় থাকলে খুন হতে হবে, আশঙ্কা কোচের

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন কোচের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ সামনে আসে। সূত্রের দাবি, এই ক্রমবর্ধমান শত্রুতাপূর্ণ পরিবেশে দক্ষিণ কোরিয়ায় থাকা নিরাপদ নয় বলেই মনে করেছিলেন হং। সেই কারণেই প্রকাশ্যে কোনও ঘোষণা না করে তিনি চুপিসারে দেশ ছেড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেন।

তাঁর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ

অনেকের অভিযোগ, বর্তমান জাতীয় দলকে নতুন করে গড়ে তোলার জন্য হং মিয়ং-বো উপযুক্ত ব্যক্তি ছিলেন না। তাঁর কৌশলগত সিদ্ধান্ত এবং দল নির্বাচন নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছিল। ফলে সাম্প্রতিক ব্যর্থতার পর সেই অসন্তোষ বিস্ফোরণের রূপ নেয়। এই ঘটনার পরও দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবল সংস্থা (কেএফএ) এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বিশেষ কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। হং মিয়ং-বোর ভবিষ্যৎ নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। তিনি কেবল সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছেন, নাকি কোচের পদ ছাড়ার কথাও ভাবছেন। তা এখনও স্পষ্ট নয়।

কে কী বলছেন

হংয়ের দেশত্যাগে সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। একাংশ মনে করছেন, পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে তাঁর চলে যাওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। অন্যদিকে অনেকেই এই ঘটনাকে দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলের জন্য লজ্জাজনক বলে অভিহিত করেছেন। তাঁদের মতে, একজন জাতীয় দলের কোচকে যদি নিরাপত্তার অভাবে দেশ ছাড়তে হয়, তবে তা দেশের ক্রীড়া সংস্কৃতির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই ঘটনা দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিল।