FIFA World Cup 2026: বিশ্বকাপে সবচেয়ে হতাশ করেছে যে আটটি দেশ
FIFA World Cup 2026: চলতি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ সবচেয়ে হতাশ করেছে যে আটটি দেশ! প্রত্যাশিত শক্তিশালী দলগুলো গ্রুপ স্টেজ ও রাউন্ড অফ ৩২-এ অপ্রত্যাশিতভাবে বিদায় নিয়েছে। কোন দলগুলো হতাশ করলো এবং কেন? বিস্তারিত জানুন এখানে।

হতাশার ৮ দেশ
FIFA World Cup 2026: ৪৮ দেশের বিশ্বকাপে এবার চমকে দিচ্ছে বেশ কিছু দেশ। আবার হতাশও করছে বেশ কয়েকটি দেশ। প্রি কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব শুরুর আগে আসুন দেখে নেওয়া যাক এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে হতাশ কোন আটটি দেশ করেছে।

১) উরুগুয়ে
ব্রাজিল, আর্জেন্টিনার পরই এবার বিশ্বকাপে লাতিন আমেরিকার সেরা বাজি ছিল উরুগুয়ে। তারকা খচিত দল, একাধিক ম্য়াচ উইনার, মার্সেলো বিয়েলসার মত হাইপ্রোফাইল কোচ। কিন্তু এরপরেও ৩টি ম্য়াচে ১টি-তে হার, একটাও জিততে না পেরে বিদায় নেয় উরুগুয়ে।
এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় হতাশা- উরুগুয়ে
সৌদি আরব, কেপ ভার্দে-র মত দল থাকা গ্রুপে মাত্র ২ পয়েন্ট । সহজ গ্রুপে অপ্রত্যাশিত ব্যর্থতা
অভিজ্ঞ খেলোয়াড় (নুনেজ, ভালভার্দে) সত্ত্বেও গ্রুপ থেকে বিদায় ।
কোথায় ডুবল: ফুটবলারদের গা ছাড়া মনোভাব, কোচের ভুল স্ট্র্য়াটেজি, দলের মধ্যে কোন্দল।
২) জার্মানি
চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। ইউরোপিয়ান ফুটবলের সুপার পাওয়ার। একটা সময় বলা হয়, অপরাজেয় জার্মানি, হারের আগে হারে না। সেই জার্মানি এবারের বিশ্বকাপে পুরো ফ্লপ। গ্রুপ পর্বে ইকুয়েডরর কাছে হারের পর রাউন্ড অফ ৩২-এ প্যারাগুয়ের কাছে পরাস্ত হয়ে নক আউট রাউন্ডের শুরুতেই বিদায় নেয় জার্মানি।
কোটি কোটি টাকার তারকা-মহাতারকা ফুটবলার থাকা সত্ত্বেও গত দুটি বিশ্বকাপের মত এবারও জার্মানরা বিশ্বকাপে মুখ থুবড়ে পড়ল। কুরাসাওয়ের মত অখ্য়াত দেশের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে খেলতে নেমে শুরুতে গোল হজম করেছিল জার্মানরা। পরে অবশ্য সেই ম্য়াচে ৭-১ জেতে।
দ্বিতীয় ম্যাচে ম্য়ানুয়েল ন্য়ুয়ররা 2-1 হারান আইভরি কোস্টকে। তবে গ্রুপের শেষ ম্যাচে ইকুয়েডর ২-১ গোলে হারায় জার্মানদের। নক আউটের শুরুতেই প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেয় ইউরোপের এই সুপার পাওয়ার দেশ।
কোথায় ডুবল- দলগত সংহতির অভাব, ফিটনেস সমস্যা, কোচের ভুল স্ট্র্য়াটেজি।
৩) তুরস্ক
ইউরোপিয়ান ফুটবলের বড় শক্তির তালিকা রাখা হচ্ছিল। সেই তুরস্ক এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় ফ্লপ দলগুলির মধ্যে একটি। ৩টি খেলে দুটিতে হেরে গ্রুপে সবার শেষে থেকে বিদায়।
গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়া ও প্যারাগুয়ের কাছে হার
শেষ ম্যাচে জয় পেলেও আগেই বিদায়
আরদা গুলারের মতো তারকা সত্ত্বেও ব্যর্থ
হতাশার কারণ: প্রত্যাশার তুলনায় একেবারে নিচে শেষ
৪) নেদারল্যান্ডস
গ্রুপ পর্বে ভালো পারফরম্যান্স (সুইডেনের বিরুদ্ধে ৫-১ গোলে জয়)
রাউন্ড অফ ৩২-এ মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে হার
ভ্যান ডাইকের মতো তারকা থাকা সত্ত্বেও বিদায়
হতাশার কারণ: পেনাল্টি মিস ও অপ্রত্যাশিত বিদায়
৫) দক্ষিণ কোরিয়া
এশিয়ান ফুটবলের সুপার পাওয়ার দেশ। কোরিয়ানদের নিয়ে এবার অনেক প্রত্য়াশা ছিল। ক্লাব ফুটবলের প্রথম সারির ফুটবলারদের মধ্য়ে একাধিক দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলার। কিন্তু এত কিছুর পরেও এবার গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়ে চূড়ান্ত হতাশ করে কোরিয়ানরা।
প্রথম ম্য়াচে জয়ের পরেও টানা দুটি ম্যাচে হেরে গ্রুপ পর্বে তৃতীয় স্থানে শেষ করে বিদায়।
চেচিয়ার কাছে জয় দিয়ে শুরু। এরপর আয়োজেক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে বিদায়।
সন হিউং-মিনদের নেতৃত্বে প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি
কোথায়: অগ্রসর হওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ব্যর্থ
৬) ক্রোয়েশিয়া
২০১৮ বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট, ২০০২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট। গত দুটি বিশ্বকাপে চমকপ্রদ পারফরম্যান্স করে লুকা মদরিচের ক্রোয়েশিয়া ফুটবল বিশ্বের বিস্ময় হয়ে ওঠে।
৭) তিউনেসিয়া
তিনটি ম্যাচ খেলে তিনটেই হার। ১২ গোল হজম। একেবারে কলঙ্কের বিশ্বকাপ আফ্রিকান দেশ তিউনেসিয়ার।
সুইডেনের কাছে ১-৫, ডাচদের বিরুদ্ধে ১-৩, আর জাপানের কাছে ০-৪ গোলে হেরে বিদায় নেয় তিউনেসিয়া।
কোথায় ডুবল- সব বিভাগেই ধরাশায়ী। বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকে ফুটবলারদের সঙ্গে ফেডারেশনের সমস্যা চলছিল, প্রথম ম্যাচে হেরে কোচ ছাঁটাই করা হয়।
৮) সৌদি আরব
বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলা অভ্যাসে পরিণত করেছে সৌদি আরব। গতবার লিওনেল মেসিদের হারিয়ে চমকে সবার আগে বাাড়িয়ে দিয়েছিল সৌদিরা। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো সহ বিশ্বের বেশ কয়েকজন হাইপ্রোফাইল ফুটবলার সৌদির ক্লাবগুলিতেই খেলছেন। তাই এবার সৌদ আরবকে নিয়ে অনেকটা প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু এবারও সেই যেই কে সেই। ৩২টি দলকে নিয়ে নক আউট পর্বে উঠতে পারল না তারা। গ্রুপে তিনটে খেলে একটি হার, দুটি ড্র করে সবার শেষে থেকে প্রতিবারের মত এবারও শুরুতেই বিদায় নেয় সৌদিরা।
