FIFA World Cup 2026: বিশ্বকাপের মাঝেই বড় বিপদ মরক্কোর তারকা ফুটবলার তথা অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি। ২০২৩ সালের একটি ধর্ষণ মামলায় তাঁকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলে জানিয়ে দিল ফ্রান্সের আদালত। এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে হাকিমির ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

FIFA World Cup 2026: বিশ্বকাপের মাঝেই বড় বিপদ মরক্কোর তারকা ফুটবলার তথা অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি। ব্রাজিলকে রুখে দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করা মরক্কো শিবিরে মানসিক দিক থেকে ধাক্কা। সি গ্রুপের গুরত্বপূর্ণ ম্যাচ স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে নামার কয়েক ঘণ্টা আগে হাকিমি শুনলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে। বিশ্বকাপের মধ্যেই আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর শঙ্কায় হাকিমি। ২০২৩ সালের একটি ধর্ষণ মামলায় তাঁকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলে জানিয়ে দিল ফ্রান্সের আপিল আদালত। এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে হাকিমির সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা রাইট-ব্যাক হিসেবে পরিচিত হাকিমি বর্তমানে পিএসজি এবং মরক্কো দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

কবে ধর্ষণের মামলা দায়ের হয়

শুক্রবার ভার্সাই কোর্ট অফ আপিল তদন্তকারী বিচারকদের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে জানিয়েছে, মামলাটি বিচারের জন্য পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে। বর্তমানে ফরাসি ক্লাব প্যারিস সাঁ-জারমাঁ (PSG)-র ডিফেন্ডার এবং মরক্কো জাতীয় দলের অধিনায়ক হাকিমির বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্যারিসের উপকণ্ঠে তাঁর বাড়িতে এক তরুণীকে ধর্ষণ করেছিলেন। অভিযোগকারিণীর দাবি, ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় হয়েছিল। এরপর হাকিমির বাড়িতে দেখা করতে গেলে ওই ঘটনা ঘটে। অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৩ সালের মার্চ মাসে হাকিমির বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়। তারপর থেকেই তিনি বিচার বিভাগীয় নজরদারির আওতায় রয়েছেন। যদিও বিদেশ সফর এবং পেশাদার ফুটবল খেলার অনুমতি তাঁর ছিল।

অভিযোগ অস্বীকার হাকামির

এদিকে প্রথম দিন থেকেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন হাকিমি। তাঁর দাবি, অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে তদন্তকারী বিচারকরা মামলাটি বিচারের জন্য পাঠানোর নির্দেশ দেন। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন হাকিমির আইনজীবীরা। তবে আপিল আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। হাকিমির আইনজীবী ফ্যানি কলিন আদালতের সিদ্ধান্তের পরও দাবি করেছেন, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ করার মতো কোনও নির্দিষ্ট তথ্য নেই। তাঁর কথায়, "এই মামলায় হাকিমির অপরাধ প্রমাণিত হয়নি।"

অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ

হাকিমির আইনজীবীদের দাবি, অভিযোগকারিণী মেডিক্যাল পরীক্ষা, ডিএনএ টেস্ট, মোবাইল ফোন বিশ্লেষণ এবং এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর পরিচয় দিতে অস্বীকার করেছিলেন। ফলে মামলাটি মূলত অভিযোগকারিণীর বক্তব্যের উপরই দাঁড়িয়ে রয়েছে বলে তাঁদের দাবি। অন্যদিকে, অভিযোগকারিণীর আইনজীবী আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, সমস্ত তথ্যপ্রমাণ বিচার করে আদালত মামলাটি বিচারের জন্য উপযুক্ত বলেই মনে করেছে।

কী বলছেন হাকিমি

বিশ্বকাপ খেলতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অবস্থাতেই আপিল আদালতের এই সিদ্ধান্তের খবর পান হাকিমি। পরে সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, "প্রথম দিন থেকেই আমি এই বিচারের অপেক্ষায় ছিলাম। আদালতেই সত্য সামনে আসবে।"ফরাসি আইনে এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে হাকিমির সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। যদিও এখনও বিচারের দিন ঘোষণা করা হয়নি। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই শুনানি শুরু হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে এই মামলার রায় তাঁর কেরিয়ার ও ভাবমূর্তির উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন ক্রীড়া মহলের একাংশ। বিশ্বকাপের ব্যস্ত সূচির মাঝেই তাই মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি আদালতের লড়াইকেও সমান গুরুত্ব দিতে হচ্ছে মরক্কোর এই তারকা ফুটবলারকে।