- Home
- Sports
- FIFA World Cup 2026: ভোজিনহার চমক থেকে মেসির কীর্তি, এবারের ফিফা বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ১০ চমক
FIFA World Cup 2026: ভোজিনহার চমক থেকে মেসির কীর্তি, এবারের ফিফা বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ১০ চমক
FIFA World Cup 2026: স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে FIFA World Cup 2026। তবে এই বিশ্বকাপ শুধু নতুন চ্যাম্পিয়ন নয়, বরং একের পর এক অবিশ্বাস্য ঘটনা, নতুন নায়ক, রেকর্ড এবং অঘটনের জন্যও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

FIFA World Cup 2026: চমকের বিশ্বকাপ
FIFA World Cup 2026: স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে FIFA World Cup 2026। তবে এই বিশ্বকাপ শুধু নতুন চ্যাম্পিয়ন নয়, বরং একের পর এক অবিশ্বাস্য ঘটনা, নতুন নায়ক, রেকর্ড এবং অঘটনের জন্যও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ৪৮ দলের নতুন ফরম্যাটে আয়োজিত এই বিশ্বকাপে যেমন লিওনেল মেসি আবারও নিজের জাদু দেখিয়েছেন, তেমনই কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলকিপার ভোজিনহা, কুরাসাওয়ের মতো দলও নজর কেড়েছে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ১০ চমক।

১) ভোজিনহার অবিশ্বাস্য সব সেভ
কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলকিপার ভোজিনহা (Vozinha) ছিলেন এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চমকগুলির একটি। মাত্র ৪টি ম্যাচে তিনি মোট ১৮টি সেভ করেন এবং তাঁর সেভ পার্সেন্টেজ ছিল ৭৮.৩%। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি মাত্র ৫টি গোল হজম করেন। স্পেনের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বে একাই ৭টি সেভ করে কেপ ভার্দেকে ঐতিহাসিক ০-০ ড্র এনে দেন। পরে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধেও ৮টি সেভ করে লিওনেল মেসিদের ঘাম ছুটিয়ে দেন। ৪০ বছর বয়সেও তাঁর দুরন্ত পারফরম্যান্সই তাঁকে ২০২৬ বিশ্বকাপের 'কাল্ট হিরো'তে পরিণত করেছে।
কেপ ভার্দে, কুরাসাওয়ের লড়াই
বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নিয়েই কেপ ভার্দে ও কুরাসাও-এর মত অজানা ছোট দেশগুলি দেখিয়ে দিয়েছে, তারা শুধু অংশ নিতে আসেনি। জার্মানির মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং গ্রুপ পর্বে দারুণ ফুটবল খেলে উত্তর আমেরিকার দ্বীপপুঞ্জের ছোট দেশ কুরাসাও সবার প্রশংসা কুড়িয়েছে। কেপ ভার্দে কঠিন গ্রুপ থেকে নক আউটে উঠে নজির গড়ে। রাউন্ড অফ ৩২-এ আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে অবিশ্বাস্য লড়াই করে ২-৩ হেরে বিদায় নেয় ভোজিনহা-রা। তবে শুধু ৯০ মিনিটের খেলায় তারা অপরাজিত থাকে। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনকেও রুখে দেয় কেপ ভার্দে।
গোলের বন্যা- মোট ৩০৮টি গোল হয়
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে মোট ১০৪টি ম্যাচে ৩০৮টি গোল হয়েছে। অর্থাৎ, প্রতি ম্যাচে গড়ে প্রায় ৩টি (২.৯৬) গোল দেখা গেছে। নতুন ৪৮ দলের ফরম্যাটে আয়োজিত এই বিশ্বকাপে গোলের বন্যাই ছিল দর্শকদের অন্যতম বড় আকর্ষণ।
৪৮ দলের নতুন ফরম্যাটে এবার গোলের সংখ্যাও ছিল চোখে পড়ার মতো। একাধিক ম্যাচে পাঁচ বা তার বেশি গোল হয়েছে। নকআউট পর্বেও দর্শকরা পেয়েছেন রুদ্ধশ্বাস গোলের লড়াই, যা এই বিশ্বকাপকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
মেসিময় বিশ্বকাপ
৩৯ বছর বয়সেও যেন থামতেই জানেন না লিওনেল মেসি। ৮ ম্যাচে ১০ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট, এক হ্যাটট্রিক, বিশ্বকাপে মোট ২০ গোল এবং রেকর্ড ৩৯ ম্যাচ, ট্রফি না জিতলেও ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ছিল পুরোপুরি 'মেসিময়'।
সেনসেশনের নাম হাল্যান্ড
হাল্যান্ড, হাল্যান্ড… এই গানে মাতোয়ারা হয়ে যায় নেটিজেনরা। নরওয়েকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা বিশ্বকাপ অভিযানে নেতৃত্ব দেন আর্লিং হাল্যান্ড। গোলের পর গোল করে তিনি গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে অন্যতম প্রধান দাবিদার ছিলেন এবং বিশ্বকাপের অন্যতম বড় তারকা হয়ে ওঠেন। ব্রাজিলকে হারিয়ে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুরন্ত লড়াই করে সোশ্যাল মিডিয়ায় রাতারাতি অনেকটা জনপ্রিয়তা পান হাল্যান্ড। ‘হাল্য়ান্ড মিম’ এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চমক।
উনাই সিমোনের বিশ্বরেকর্ড
স্পেনের গোলকিপার উনাই সিমোন এবারের বিশ্বকাপে এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়েছেন। তিনি টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি সময় (প্রায় ৭২০ মিনিটের বেশি) গোল খাওয়া ছাড়া খেলেছেন, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড। ফাইনাল সহ কয়েকটি ম্যাচে তাঁর অসাধারণ সেভ (বিশেষ করে পেনাল্টি সেভ) স্পেনকে চ্যাম্পিয়ন হতে সাহায্য করেছে। এবারের বিশ্বকাপে ৮টি ম্যাচে সিমোন মাত্র ১টি গোল হজম করেন (বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে)। এই পারফরম্যান্স তাঁকে টুর্নামেন্টের সেরা গোলকিপার 'গোল্ডেন গ্লাভস'-এর পুরস্কার এনে দেয়।
হ্যারি কেনদের আলো
ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ না জিতলেও হ্যারি কেনদের পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসনীয়। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে ইংল্যান্ড ব্রোঞ্জ পদক জিতে টুর্নামেন্ট শেষ করে। ১৯৬৬ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর গত ৬০ বছরে এবারই ইংল্য়ান্ডের সেরা পারফরম্যান্স। ফ্রান্সকে হারিয়ে হ্যারি কেন-জুডে বেলিংহ্যামরা তৃতীয় হন।
গোলকিপারদের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স
এই বিশ্বকাপে শুধু স্ট্রাইকাররাই নয়, গোলকিপাররাও ছিলেন সমান উজ্জ্বল। ভোজিনহা, উনাই সিমোন, এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, কুরাসাওয়ের গোলকিপার এলোয় রুম,ইংল্যান্ডের জর্ডন পিকফোর্ড- সহ একাধিক গোলরক্ষক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অবিশ্বাস্য সেভ করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন।
স্পেনের পারফেক্ট ফুটবল
বল দখল, নিখুঁত পাসিং, শক্তিশালী রক্ষণ এবং কার্যকর আক্রমণ, সব মিলিয়ে স্পেন পুরো টুর্নামেন্টে প্রায় নিখুঁত ফুটবল খেলেছে। ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে তারা নিজেদের আধিপত্যের প্রমাণ দিয়েছে।
শাকিরার ‘দাই দাই’
২০১০ বিশ্বকাপে ওয়াকা ওয়াকা-র পর পপ তারকা শাকিরাও এবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে মাতিয়ে দিলেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের থিম সং শাকিরার ‘দাই দাই’ সবার মন জিতে নেয়।

