France vs Senegal: ম্যাচের ৯৪ মিনিটে, বক্সের ডান প্রান্ত দিয়ে চোরাগতির দৌড় এবং ডান পায়ের জোরালো শটে টপ কর্নার দিয়ে অনবদ্য গোল করেন ইব্রাহিম এমবায়ে। সেইসঙ্গে, লড়াইতে ফেরান সেনেগালকে। ম্যাচের ফলাফল তখন ২-১। তারপর ম্যাচের ৯৫ মিনিটে, পেনাল্টি বক্সের অনেকটা বাইরে থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে টপ রাইট কর্নার দিয়ে বলকে জালে জড়িয়ে দেন কিলিয়ান এমবাপে।
France vs Senegal: বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ভারতীয় সময় মঙ্গলবার রাতে, নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সি তথা মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় ফ্রান্স বনাম সেনেগাল (france vs senegal)। সেই ম্যাচেই ৩-১ গোলে জয় পেল ফ্রান্স (fifa world cup 2026 today match)।


শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত নাটকীয়তা! বিশ্বমানের গোল এমবাপের
খেলার শুরু থেকেই চাপ বাড়াতে শুরু করে ফ্রান্স। কিন্তু পাল্টা কাউন্টার অ্যাটাক নির্ভর ফুটবল শুরু করে সেনেগালও। ম্যাচের ১৮ মিনিটে, ডেম্বেলের শট সেনেগাল ডিফেন্সে প্রতিহত হয়। এক্ষেত্রে ডেম্বেলেকে অ্যাসিস্ট করেন মাইকেল ওলিসে।
এরপর খেলার ২৫ মিনিটে, সেনেগাল ফরোয়ার্ড নিকোলাস জ্যাকসন পেনাল্টি বক্সের বাঁ-প্রান্ত দিয়ে জোরালো শট নেন। তবে তা বাইরে চলে যায়। তবে এক্ষেত্রে ফরাসি গোলকিপার ম্যাইগনানের পায়ে কোনওভাবে লেগে তা বাইরে যায়। এই আক্রমণটির ক্ষেত্রে হাজি মালিক দিউফ অ্যাসিস্ট করেন। অন্যদিকে, সাদিও মানের প্রশংসা করতেই হয়। অসাধারণ ফুটবল উপহার দেন তিনি।

ফ্রান্সের হয়ে র্যাবিয়ট এবং ওলিসেও বেশ ভালো খেলেন। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার কয়েক মুহূর্ত প্রায় গোল করার জায়গায় পৌঁছে যায় সেনেগাল। একটুর জন্য মিস হয়। পেনাল্টি বক্সের মাঝখানে থেকে ইসমাইলা সারের ডান পায়ের শটটি অনেকটা উপর দিয়ে চলে যায়। দুই দলই একাধিক আক্রমণ এবং প্রতি-আক্রমণ তুলে আনলেও, প্রথমার্ধে কোনও গোল হয়নি।
দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হতেই আক্রমণ ফ্রান্সের। ডৌয়ের শট বাইরে দিয়ে চলে যায়। ম্যাচের ৫২ মিনিটে, ফরাসি অ্যাটাকিং মিডিও মাইকেল ওলিসের শট বক্স থেকে বেরিয়ে এসে দুরন্ত সেভ করেন সেনেগাল গোলকিপার এডুয়ার্ড মেন্ডি। তবে সেখানেই শেষ নয়। খেলার ৫৭ মিনিটে, ফের একটি অনবদ্য সেভ করেন তিনি। এক্ষেত্রে এমবাপের শট রুখে দেন সেনেগাল গোলকিপার। বলা চলে, একাধিকবার দলের পতন রোধ করেছেন তিনি।

সেনেগালের বিরুদ্ধে ৩-১ গোলে জয় ফ্রান্সের
ম্যাচের ৫৯ মিনিটে, ভিএআর রিভিউতে ফ্রান্সের পেনাল্টির আবেদন নাকচ হয়ে যায়। এরপর ৬৪ মিনিটের মাথায়, থিও হার্নান্দেজের শট বক্সের ভিতর পায়ের জটলায় আটকে যায়। কিন্তু খেলার ৬৬ মিনিটে, ডেডলক ভাঙে ফ্রান্স। মাইকেল ওলিসের ঠিকানা লেখা পাস থেকে বল পেয়ে গোল করে যান কিলিয়ান এমবাপে এবং সেইসঙ্গে, ম্যাচে লিড নেয় ফরাসি ব্রিগেড। তবে ৬৭ মিনিটেই খেলায় ফিরতে পারত সেনেগাল।
কিন্তু নিকোলাস জ্যাকসনের গোল অফসাইডের জন্য বাতিল হয়ে যায়। খেলার ৭৪ এবং ৭৫ মিনিটে সেনেগাল দলে দুটি বদল আসে। ইব্রাহিম এমবায়ে মাঠে আসেন ইসমাইলা সরের জায়গায় এবং লামিন কামারার পরিবর্তে মাঠে নামেন হাবিব দিয়ারা। অন্যদিকে, ম্যাচের ৮০ মিনিটে, ফ্রান্স দলেও একটি পরিবর্তন আসে। ডেম্বেলের বদলে মাঠে আসেন বারকোলা। আর মাঠে নেমেই তিনি হয়ে গেলেন সুপার সাব।
![]()
জয় দিয়েই বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ফ্রান্স
ম্যাচের ৮২ মিনিটে, মাঝমাঠ থ্রু বল বাড়ান অ্যাড্রিয়েন র্যাবিয়ট। সেই বল ধরেই তীব্র গতির দৌড় দেন বারকোলা। ডিফেন্ডার এবং সেনেগাল গোলকিপারকে পরাস্ত করে দুরন্ত গোলে সোজা জালে বল জড়িয়ে দেন বারকোলা। খেলার ফলাফল তখন ২-০। তবে তারপরেও অনেককিছুই বাকি ছিল। গোটা ফুটবল বিশ্ব দেখল এক নাটকীয় মোড়। নিঃসন্দেহে টানটান উত্তেজনার ম্যাচ।
ম্যাচের ৯৪ মিনিটে, বক্সের ডান প্রান্ত দিয়ে চোরাগতির দৌড় এবং ডান পায়ের জোরালো শটে টপ কর্নার দিয়ে অনবদ্য গোল করেন ইব্রাহিম এমবায়ে। সেইসঙ্গে, লড়াইতে ফেরান সেনেগালকে। ম্যাচের ফলাফল তখন ২-১।
কিন্তু সেখানেই শেষ নয়। ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশঁ যখন বেশ বিরক্ত, ঠিক তখনই এমবাপে ম্যাজিক। ম্যাচের ৯৫ মিনিটে, পেনাল্টি বক্সের অনেকটা বাইরে থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে টপ রাইট কর্নার দিয়ে বলকে জালে জড়িয়ে দেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম তারকা কিলিয়ান এমবাপে। কার্যত, বিশ্বমানের গোল। ফলে, এ যেন এক মধুর প্রতিশোধ। শেষপর্যন্ত, সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ফ্রান্স।
ফুটবল বিশ্বকাপের সব খবর সব আগে, শুধুমাত্র এশিয়ানেট নিউজ বাংলায়।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।