Japan vs Sweden: এই ম্যাচ যেন শুরু থেকেই ছিল হাড্ডাহাড্ডি। আক্ষরিক অর্থে মাঠে সেই ছবিই ধরা পড়ল। খেলার ৬ মিনিটেই, পজিটিভ মুভ। অ্যালেকজান্ডার ইসাকের অ্যাসিস্ট থেকে বল পান অ্যালেকজান্ডার বার্নহার্ডসন। এরপর বক্সের বাইরে থেকে সুইডেন মিডফিল্ডারের বাঁ পায়ের জোরালো শটটি রুখে দেন জাপানের গোলকিপার জিয়ন সুজুকি।
Japan vs Sweden: ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে কার্যত, হাইভোল্টেজ ম্যাচ। গ্রুপ এফ-এর চূড়ান্ত লড়াইতে শুক্রবার ভোরে, ডালাস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় জাপান বনাম সুইডেন (Japan vs Sweden)। সেই ম্যাচই ড্র হল ১-১ গোলে (Japan vs Sweden live score)। টানটান উত্তেজনার ফুটবল দেখল গোটা বিশ্ব এবং এক ইঞ্চিও জমি ছাড়ল না কোনও দল! জাপান-সুইডেন ম্যাচ ড্র ১-১ গোলে, নক-আউটে নাকামুরারা।

এই ম্যাচ যেন শুরু থেকেই ছিল হাড্ডাহাড্ডি। আক্ষরিক অর্থে মাঠে সেই ছবিই ধরা পড়ল। খেলার ৬ মিনিটেই, পজিটিভ মুভ। অ্যালেকজান্ডার ইসাকের অ্যাসিস্ট থেকে বল পান অ্যালেকজান্ডার বার্নহার্ডসন। এরপর বক্সের বাইরে থেকে সুইডেন মিডফিল্ডারের বাঁ পায়ের জোরালো শটটি রুখে দেন জাপানের গোলকিপার জিয়ন সুজুকি।
ম্যাচের ১৫ মিনিটে, কেইটো নাকামুরার অ্যাসিস্ট থেকে জাপান ফরোয়ার্ড রিৎসু দোয়ানের নেওয়া শটটি ব্লক হয়। তারপর ২২ মিনিটের মাথায়, ডাইজেন মায়েদার হেডারটি একটুর জন্য মিস হয়। তবে লড়াই চলছিল সেয়ানে সেয়ানে। কারণ, পাল্টা কাউন্টার অ্যাটাক জারি রাখে সুইডেনও। অন্যদিকে, খেলার ৩১ মিনিটে, ফাউল করার অপরাধে হলুদ কার্ড দেখেন সুইডিশ ডিফেন্ডার ইসাক হিয়েন।
হাড্ডাহাড্ডি ফুটবল এবং এক ইঞ্চিও জমি ছাড়ল না কোনও দল
কিন্তু ৩৫ মিনিটের মাথায়, চোটের কবলে পড়েন তিনি এবং সেই চোট গুরুতর হওয়ায় দলে পরিবর্তন করতে বাধ্য হন গ্রাহাম পটার। ম্যাচের ৩৭ মিনিটে, ইসাক হিয়েনের বদলে মাঠে নামেন লুকাস বার্গভাল। পাশাপাশি জাপানের প্রথম একাদশেও একটি পরিবর্তন করেন কোচ হাজিমে মরিয়াসু।

কো ইতাকুরার পরিবর্তে খেলতে নামেন শোগো তানিগুচি। এরপর খেলার ৩৯ মিনিটে, আও তানাকার বাড়ানো বল থেকে ইউকিনারি সুগাওয়ারার শট রুখে দেন সুইডিশ গোলকিপার। ৪৫ মিনিটের মাথায়, ডান পায়ের শট বাঁদিকে শরীর ছুঁড়ে দিয়ে সেভ করেন সুইডেন গোলকিপার উইডেল জেটারস্ট্রম।
প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য অবস্থাতেই। দ্বিতীয়ার্ধে খেলায় আরও গতি বাড়ায় জাপান। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে, বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া আও তানাকার দূরপাল্লার শট পোস্টের উপর দিয়ে উড়ে বাইরে চলে যায়।
ম্যাচের ৫৬ মিনিটে, ডেডলক ভাঙল জাপান। সবুজ গালিচায় যেন রুপকথা লিখল তারা। কার্যত, অসাধারণ টিম গেমে খেলা তৈরি করল জাপান। আয়াসে উয়েদার পাস বল পান রিৎসু দোয়ান। এরপর থ্রু বল বাড়ান জাপান স্ট্রাইকার ডাইজেন মায়েদার দিকে। সেই বল থেকেই সুইডেন গোলকিপারকে পরাস্ত করে ডান পায়ের শটে অনবদ্য গোল করে যান ডাইজেন মায়েদা। দুর্দান্ত টিম গেমের নজির। পুরো মাঝমাঠ থেকে খেলা তৈরি করে গোল। যে গোল দেখে নিঃসন্দেহে চোখের শান্তি।

কিন্তু সুইডেনও যে ছাড়বার পাত্র নয়। ম্যাচের ৬২ মিনিটে, পাল্টা আঘাত হানল তারা। বক্সের ডানদিক থেকে অ্যান্টনি এলাঙ্গার নেওয়া বাঁ পায়ের জোরালো দূরপাল্লার শট টপ লেফট কর্নার দিয়ে জালে জড়িয়ে যায়। নিঃসন্দেহে বিশ্বমানের গোল। ম্যাচ তখন রীতিমতো জমে উঠেছে। খেলার ফলাফল ১-১।
জাপান-সুইডেন ম্যাচ ড্র ১-১ গোলে, নক-আউটে নাকামুরারা
৬৫ মিনিটে ফের আক্রমণ সুইডেনের। এবার অ্যালেকজান্ডার ইসাকের শট সেভ করেন জাপান গোলকিপার সুজুকি। অন্যদিকে, দুটি পরিবর্তন আসে জাপান দলে। আয়াসে উয়েদার পরিবর্তে মাঠে আসেন কোকি ওগাওয়া এবং রিৎসু দোয়ানের জায়গায় নামেন জুনিয়া ইতো।

এরপর ৭৫ মিনিটে, ফের দুই দলের প্রথম একাদশে বদল। সুইডেনের হয়ে আলেকজান্ডার বার্নহার্ডসনের পরিবর্তে নামেন ড্যানিয়েল সভেনসন এবং কেন সেমা আসেন এলিয়ট স্ট্রডের জায়গায়। অপরদিকে, জাপানের হয়ে কেইটো নাকামুরা উঠে যান। মাঠে আসেন ইউতো নাগাতোমো এবং কেইটো নাকামুরার বদলে ইউতো নাগাতোমো।
কিন্তু ফাউল করার অপরাধে খেলার ৭৬ মিনিটে, হলুদ কার্ড দেখেন জাপানের ফুটবলার শোগো তানিগুচি। তবে পরিবর্ত হিসেবে নামা সুইডেন ফুটবলার ড্যানিয়েল সভেনসনের শট খেলার ৭৮ মিনিটে, জাপান ডিফেন্সে ব্লক হয়। এরপর ৮১ মিনিটে, গুস্তাফ লাগারবিয়েলকের হেডার একটুর জন্য মিস হয়।

ড্র করে নক-আউটে যাওয়া প্রায় পাকা সুইডেনেরও
খেলার শেষদিকে তীব্র গতিতে আক্রমণ শানাতে থাকে সুইডেন। একের পর এক সেভ করতে থাকেন জাপান গোলকিপার সুজুকি। ইনজুরি টাইমে অ্যান্টনি এলাঙ্গার ডান পায়ের শট ডানদিকে ঝাঁপিয়ে সেভ করেন সুজুকি। এরপর ইয়াসিন আয়ারির ক্রস থেকে ভেসে আসা বলে সিক্স ইয়ার্ড বক্সের বাঁদিক থকে নেওয়া অ্যালেকজান্ডার ইসাকের লাফিয়ে সেভ করেন আপান গোলকিপার। দুটি ক্ষেত্রেই দলের নিশ্চিত পতন রোধ করেন তিনি। ম্যাচের একেবারে শেষদিকে জাপানও একটি আক্রমণ তৈরি করার চেষ্টা করে।

শেষপর্যন্ত, খেলা শেষ হয় ১-১ ফলাফল নিয়েই। আর এই ম্যাচ ড্র করার ফলে, ৫ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে রাউন্ড অফ ৩২-তে চলে গেল জাপান। অন্যদিকে, ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের তৃতীয় দল এই মুহূর্তে সুইডেন। এবার ১২টি দল থেকে দুটি করে দল রাউন্ড অফ ৩২ -তে যাওয়ার পর, আরও আটটি দল যাবে। নিয়মটা হচ্ছে, ১২টি গ্রুপ মিলিয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলির মধ্যে সেরা আটটি দল যাবে পরের রাউন্ডে। অর্থাৎ, ১২টির মধ্যে আটটি গ্রুপ থেকে আরও একটি করে দল কোয়ালিফাই করবে। কিন্তু সেটা ঠিক হবে সমস্ত গ্রুপের ম্যাচ শেষ হলে। তবে গ্রুপ এফ-র ক্ষেত্রে সুইডেনের পয়েন্ট যেহেতু ৪, তাই তাদের পরের রাউন্ডে যাওয়া কার্যত পাকা। কারণ, এখনও অবধি সমস্ত গ্রুপ মিলয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা দলের র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, সবার উপরে রয়েছে সুইডিশরা।
সরকারিভাবে গ্রুপ এফ থেকে নেদারল্যান্ডস এবং জাপান পৌঁছে গেছে রাউন্ড অফ ৩২-তে।
ফুটবল বিশ্বকাপের সব খবর সব আগে, শুধুমাত্র এশিয়ানেট নিউজ বাংলায়।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।