Scotland vs Brazil: চলতি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্যায়ের অন্যতম হাইভোল্টেজ ম্যাচে বুধবার মধ্যরাতে, মিয়ামি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় স্কটল্যান্ড বনাম ব্রাজিল (scotland vs brazil)। সেই ম্যাচেই ৩-০ গোলে জয় পেল ব্রাজিল (Scotland vs Brazil World Cup 2026)। অসাধারণ ফুটবল উপহার দিলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র।
Scotland vs Brazil: চলতি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্যায়ের অন্যতম হাইভোল্টেজ ম্যাচে বুধবার মধ্যরাতে, মিয়ামি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় স্কটল্যান্ড বনাম ব্রাজিল (scotland vs brazil)। সেই ম্যাচেই ৩-০ গোলে জয় পেল ব্রাজিল (Scotland vs Brazil World Cup 2026)। অসাধারণ ফুটবল উপহার দিলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র।

খেলার শুরুতেই গোল পেয়ে যায় ব্রাজিল। স্কটল্যান্ডের গোলকিপার অ্যাঙ্গাস গান এবং ডিফেন্ডারের ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ নিয়ে গোল করে যান ভিনিসিয়াস জুনিয়র। আর সেই গোল পেয়ে যেতেই আক্রমণে ঝাঁঝ আরও বাড়ায় সেলেকাওরা। ম্যাচের ১১ মিনিটে, ম্যাথেউজ কুনহার শট বাইরে দিয়ে উড়ে যায়। এরপর ১৯ মিনিটে, মিস করেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তারপরেই আবার গোল! কিন্তু পরে বাতিল। ম্যাচের ২২ মিনিটে, ব্রাজিলের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করে ফেলেন সেই ভিনিসিয়াস জুনিয়র। কিন্তু পরে ভিএআর রিপ্লেতে দেখা যায় যে, ফাউল করেছেন তিনি। তাই গোল বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পাল্টা আক্রমণ তুলে আনার চেষ্টা করে স্কটিশরাও। ৩৩ মিনিটের মাথায়, মিডফিল্ডার লুইস ফার্গুসনের শট ব্লক হয় ব্রাজিল ডিফেন্সে। এরপর ৩৬ মিনিটে, স্ট্রাইকার লরেন্স শ্যাঙ্কল্যান্ডের অ্যাসিস্ট থেকে পাওয়া বলে কেনি ম্যাকলিনের নেওয়া বাঁ পায়ের শটও ব্লক হয়। তবে ৩৮ মিনিটে, সুযোগ নষ্ট করে ব্রাজিল। মিস করেন রায়ান। ৪২ মিনিটে, কুনহার শট একটুর জন্য বাইরে চলে যায়।

৪১ মিনিটে, লুকাস পাকুয়েতার অ্যাসিস্ট থেকে কুনহার নেওয়া ডান পায়ের শট মিস হয়। কিন্তু প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে ফের গোল। এক্ষেত্রেও সেই ভিনিসিয়াস জুনিয়র। ব্রুনো গিমারাইসের মাপা ক্রস থেকে দুরন্ত হেডারে গোল করে যান ভিনিসিয়াস। এরপরেও সুযোগ চলে আসে ব্রাজিলের সামনে। রায়ানের শট সেভ করেন স্কটিশ গোলকিপার অ্যাঙ্গাস গান। প্রথমার্ধ শেষ হয় ২-০ ফলাফল নিয়েই।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই স্কটল্যান্ডের প্রথম একাদশে পরিবর্তন আসে। অ্যান্ডি রবার্টসনের জায়গায় মাঠে নামেন কিয়েরান টিয়ারনি। সেইসঙ্গে, বেশ ভালো ফুটবল উপহার দিতে শুরু করে তারা। একটি পজিটিভ আক্রমণও তুলে আনে ম্যাচের ৪৯ মিনিটে। পরিবর্ত হিসেবে নামা কিয়েরান টিয়ারনির ক্রস থেকে অসাধারণ একটি হেড করেন স্কট ম্যাকটমিনে। তবে ভালো সেভ করেন ব্রাজিল গোলকিপার অ্যালিসন বেকার।
অন্যদিকে, ৫১ মিনিটে, ভিনিসিয়াস জুনিয়রের একটি শট সেভ হয়। ৫৯ মিনিটে, লুকাস পাকুয়েতার শট বাইরে দিয়ে উড়ে যায়। কিন্তু সাম্বা ঝড় তখনও বাকি ছিল। খেলার ৬০ মিনিটে, আরও এগিয়ে যায় ব্রাজিল। কুনহার বুদ্ধিদীপ্ত গোলে লিড বাড়িয়ে নেয় সেলেকাওরা। এক্ষেত্রে অ্যাসিস্ট করেন ব্রুনো গিমারাইস। মাঝমাঠ থেকে আসা বলে দৌড়ে উপরে ওঠেন এবং তারপর ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে বল বাড়ান কুনহার দিকে। সেই পাস থেকেই গোল করে যান তিনি।

তবে ৬৪ মিনিটে, স্কটিশ মিডিও লুইস ফার্গুসনের শট রুখে দেন ব্রাজিল গোলকিপার অ্যালিসন বেকার। এরপর স্কট ম্যাকটমিনের শটও রুখে দেন তিনি। ম্যাচের ৬৫ মিনিটে, ব্রাজিল দলে দুটি পরিবর্তন করেন কোচ কার্লো আনসেলোত্তি। ক্যাসেমিরোর জায়গায় আসেন ফাবিনিও এবং লুকাস পাকুয়েতার পরিবর্তে মাঠে নামেন গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি।
খেলার ৭৬ মিনিটে, মাঠে আসেন নেইমার। প্রথম দুটি ম্যাচে মাঠে না নামলেও, এই ম্যাচে নামেন এই তারকা ফুটবলার। তবে খেলার একেবারে শেষ কোয়ার্টারে। ম্যাথেউজ কুনহার জায়গায় মাঠে আসেন তিনি। কিন্তু এই ম্যাচে স্কটিশ ফুটবলার স্কট ম্যাকটমিনের প্রশংসা করতেই হয়। বেশ ভালো ফুটবল উপহার দিলেন তিনি।
তবে পরিবর্ত হিসেবে নামা ব্রাজিলের ফ্যাবিনহো ৮২ মিনিটের মাথায় ফাউল করার অপরাধে হলুদ কার্ড দেখেন। যদিও এই ম্যাচে এগিয়ে থাকলেও, আক্রমণ থেকে একটুও সরে আসেনি ব্রাজিল। গোটা ম্যাচে ভিনিসিয়াস জুনিয়র কার্যত, অনবদ্য ফুটবল উপহার দিলেন, নিজে তো গোল করলেনই, সঙ্গে একাধিকবার আক্রমণ তৈরির ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকার তারিফ করতেই হয়।
অন্যদিকে, ৮২ মিনিটের মাথায় আবার স্কটল্যান্ডের একটি সুযোগ নষ্ট নয়। রায়ান ক্রিস্টি মিস করেন। পাশাপাশি ব্রাজিল ডিফেন্স বরাবর সজাগ ছিল। ফলে, ক্লিনশিট রইল। খেলার ৯০ মিনিটে, ফ্রি-কিক নিলেন নেইমার। তবে এক্ষেত্রে গোল আসেনি।

শেষপর্যন্ত, স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে পরের রাউন্ডে চলে গেল ব্রাজিল। গ্রুপ সি থেকে ব্রাজিলের সঙ্গে মরক্কোও পরের ধপে জায়গা পাকা করে নিল।
ফুটবল বিশ্বকাপের সব খবর সব আগে, শুধুমাত্র এশিয়ানেট নিউজ বাংলায়।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।