- Home
- Sports
- Vozinha Cape Verde Goalkeeper: বাস চালক-ইলেকট্রিশিয়ান! দাদু-ঠাকুমার কাছে মানুষ, সেই লড়াকু ভোজিনহাই দু-হাত দিয়ে আগলালেন দেশকে
Vozinha Cape Verde Goalkeeper: বাস চালক-ইলেকট্রিশিয়ান! দাদু-ঠাকুমার কাছে মানুষ, সেই লড়াকু ভোজিনহাই দু-হাত দিয়ে আগলালেন দেশকে
Vozinha Cape Verde Goalkeeper: আসলে ছোট থেকেই ভোজিনহার লড়াই শুরু। ছোটবেলা থেকে সেইভাবে মা-বাবার আদর পাননি। মানুষ হয়েছেন নিজের দাদু-ঠাকুমার কাছে। তাদের কাছেই ভোজিনহার বেড়ে ওঠা।
বাস চালক-ইলেকট্রিশিয়ান
বাসের স্টিয়ারিং হাতে রাস্তায়। শুধু কি তাই? এই দু-হাত দিয়েই করেছেন ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ। এবার সেই দু-হাত দিয়েই রক্ষা করলেন নিজের দেশকে (Vozinha Cabo Verde World Cup 2026)। ভাবা যায়? আজ কথা বলছি, সেই দুর্ভেদ্য অতন্দ্র প্রহরীকে নিয়ে।

দাদু-ঠাকুমার কাছে মানুষ
কেপ ভার্দে গোলকিপার ভোজিনহা! যার দু-হাতেই আটকে গেল স্পেন। কখনও নিজের শরীরকে ছুঁড়ে দিয়ে, আবার কখনও স্পট জাম্প দিয়ে রুখলেন একের পর এক জোরালো শট (Vozinha Cape Verde Goalkeeper)। মনে পড়ছে সেই মুহূর্তটা। ফেরান টোরসের শট বারপোষ্টে লেগে ফিরে এলেও ফিরতি শটটি দুরন্ত সেভ করেন কেপ ভার্দে গোলকিপার ভোজিনহা। কার্যত, এটি ম্যাচের কী-মোমেন্ট। অনবদ্য সেভ (Vozinha Cape Verde goalkeeper)।
ভোজিনহা প্রমাণ করলেন নিজেকে
শুধু এক্ষেত্রে নয়। একাধিক অসাধারণ সব সেভ করেন তিনি গোটা খেলায়। ভোজিনহা যেন ইতিহাস লিখলেন স্পেনের বিরুদ্ধে। তাও আবার ৪০ বছর বয়সে এসে। প্রমাণ করলেন, লড়াই তাঁর রক্তে। তাই সাফল্যের কোনও মাপকাঠি হয়না। আসলে ছোট থেকেই ভোজিনহার লড়াই শুরু। ছোটবেলা থেকে সেইভাবে মা-বাবার আদর পাননি।
কোনও কিছুই আসলে অসম্ভব নয়
মানুষ হয়েছেন নিজের দাদু-ঠাকুমার কাছে। তাদের কাছেই ভোজিনহার বেড়ে ওঠা। একটা সময় তিনি বাস চালাতেন। এমনকি, জীবিকা অর্জনের জন্য করেছেন ইলেকট্রিশিয়ানের কাজও। ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত, তিনি পেশাদার ফুটবলারই ছিলেন না। কিন্তু তারপর থেকেই বদলাতে শুরু করল ছবিটা।
ভোজিনহার ফুটবল জীবন কিন্তু মোটেই সহজ ছিল না
নতুন এক লড়াই শুরু। প্র্যাকটিস, প্র্যাকটিস এবং প্র্যাকটিস। এই প্রথম বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলার সুযোগ পেয়েছে কেপ ভার্দে। তবে ভোজিনহার ফুটবল জীবন কিন্তু মোটেই সহজ ছিল না। একাধিক চ্যালেঞ্জ সামলেও হাল ছাড়েননি। পর্তুগালের দ্বিতীয় ডিভিশনের ক্লাব শাভেজ-এর হয়ে খেলার সুযোগ পান।
কিংবদন্তিদের তালিকায় এবার নাম লেখালেন ভোজিনহা
কিন্তু স্বপ্ন দেখা যে কখনও থামাতে নেই। সেই কথাই বলে গেলেন ভোজিনহা। আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে অবস্থিত ছোট্ট একটি দ্বীপরাষ্ট্র থেকেই সেই স্বপ্নের শুরু এবং তারপর বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা মেগা ইভেন্টে স্পেনের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলকে রুখে দেওয়া। আর সেই সূত্রেই গায়ে কাঁটা দেওয়া সেই রুদ্ধশ্বাস গোলকিপিং! কিংবদন্তিদের তালিকায় এবার নাম লেখালেন ভোজিনহা।
দু-হাত দিয়ে রক্ষা করেছেন নিজের দেশকে
তিন কাঠির নিচে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন কেপ ভার্দের অতন্দ্র প্রহরী ভোজিনহা। গোটা ম্যাচে মোট ৭টি সেভ করেছেন তিনি। তার মধ্যে জোরালো দূরপাল্লার শট এবং বিষাক্ত হেডার, সবই আছে। ভোজিনহা তাঁর দু-হাত দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেভ শুধু করেননি, এই দু-হাত দিয়ে রক্ষা করেছেন নিজের দেশকে।
পরিসংখ্যান কী বলছে?
পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৮ সালের পর, বিশ্বকাপ ফুটবলের কোনও ম্যাচে বক্সের ভিতর থেকে নেওয়া এতগুলি শট আর কোনও গোলকিপার আটকাতে পারেননি। গত তিনটি বিশ্বকাপ মিলিয়ে সাতটিরও বেশি অন-টার্গেট শট সামলে এবং গোল না খেয়ে ক্লিনশিট রাখার রেকর্ড রয়েছে মাত্র কয়েকজন গোলকিপারের নামের পাশে। এবার সেই তালিকায় নাম লেখালেন এই তারকা।
ম্যাচের পর কেপ ভার্দে গোলকিপার কী জানালেন?
ম্যাচের পর কেপ ভার্দে গোলকিপার জানালেন, “আমি কাঁদছি আমার দাদু-ঠাকুমার জন্য। আসলে আমি বেড়ে উঠেছি আমার দাদু-ঠাকুমার কাছে। কিন্তু তারা আজ এই পৃথিবীতে নেই। দাদু-ঠাকুমা আমার কাছে সবকিছু। তারা আমাকে সবকিছু দিয়ে বড় করে তুলেছেন। ভিসার টাকা জোগাড় করতে পারিনি বলে আমার মা আসতে পারেনি। কিন্তু আমি আজ ভীষণ খুশি। সমগ্র কেপ ভার্দের মানুষকে খুশি করতে পেরে ভীষণ ভালো লাগছে।"
এক অবিস্মরণীয় অনুপ্রেরণা
ভোজিনহা প্রমাণ করলেন, কোনও কিছুই আসলে অসম্ভব নয়। দরকার শুধু আত্মবিশ্বাস এবং চেষ্টা। তাঁর এই পারফরম্যান্স শুধুমাত্র একটি ফুটবল ম্যাচ নয়! বিশ্বের প্রতিটি কোণে যারা রোজ স্বপ্ন দেখছে, যারা রোজ লড়ে যাচ্ছে, তাদের কাছে এক অবিস্মরণীয় অনুপ্রেরণা।
ফুটবল বিশ্বকাপের সব খবর সব আগে, শুধুমাত্র এশিয়ানেট নিউজ বাংলায়।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।