Jaspal Rana Passed Away: ভারতীয় শুটিংয়ের উজ্জ্বল নক্ষত্র যশপাল রানা প্রয়াত। প্রাক্তন এশিয়ান গেমস সোনাজয়ী এবং জাতীয় দলের হাই-পারফরম্যান্স কোচ যশপাল রানা-র প্রয়াণে দেশের ক্রীড়ামহলে নেমে এল শোকের ছায়া। বিশ্বকাপ থেকে ফেরার পথে অসুস্থ হয়ে পড়েন রানা।
Jaspal Rana Passed Away: ভারতীয় শুটিংয়ের উজ্জ্বল নক্ষত্র যশপাল রানা প্রয়াত। প্রাক্তন এশিয়ান গেমস সোনাজয়ী এবং জাতীয় দলের হাই-পারফরম্যান্স কোচ যশপাল রানা-র প্রয়াণে দেশের ক্রীড়ামহলে নেমে এল শোকের ছায়া। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৯ বছর। বৃহস্পতিবার রাতে দিল্লির একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তিনি ভারতের ইতিহাসে কমনওয়েলথ গেমসে অন্যতম সফল ক্রীড়াবিদ। তিনি ১৯৯৪ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে চারটি আসরে মোট ১৫টি পদক জিতেছেন, এর মধ্যে ৯টি সোনা, ৪টি রুপো এবং ২টি ব্রোঞ্জ। ভারতের শুটিং নিয়ামক সংস্থা এনআরএআই-এর সভাপতি কালিকেশ নারায়ণ সিং দেও জানান, সম্প্রতি জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত আইএসএসএফ বিশ্বকাপ থেকে ফেরার পথে অসুস্থ হয়ে পড়েন রানা।

কীভাবে প্রয়াত
জানা গিয়েছে, ভারতীয় দলের সঙ্গে মিউনিখ থেকে দেশে ফেরার সময় বিমানের মধ্যেই শারীরিক সমস্যা দেখা দেয় তাঁর। দিল্লিতে বিমান অবতরণের পর তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তাঁর শরীরে স্টেন্ট বসানোর সিদ্ধান্ত নেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও শুরু হয়। কিন্তু সমস্ত চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
পদ্মশ্রী, অর্জুন, দ্রোণাচার্য পুরস্কারে ভূষিত
ভারতীয় পিস্তল শুটারদের হাই-পারফরম্যান্স কোচ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন যশপাল রানা। দেশের শুটিং পরিকাঠামো এবং বিশেষ করে পিস্তল ইভেন্টে ভারতীয় শুটারদের উন্নতিতে তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়েও তিনি জাতীয় দলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। যশপাল রানার ক্রীড়া জীবনে জাতীয় পুরস্কারগুলো খুবই অল্প বয়স থেকেই আসতে শুরু করে। মাত্র ১৮ বছর বয়সে, ১৯৯৪ সালে তিনি অর্জন করেন অর্জুন পুরস্কার। এরপর ১৯৯৭ সালে তিনি পান পদ্মশ্রী সম্মান। দীর্ঘ ক্রীড়া ও কোচিং জীবনের পর ২০২০ সালে তাঁকে দেওয়া হয় দ্রোণাচার্য পুরস্কার। খেলোয়াড় ও কোচ, দুই ভূমিকাতেই ভারতের শীর্ষ জাতীয় সম্মান পাওয়ার ঘটনা খুবই বিরল, যা যশপাল রানাকে বিশেষভাবে আলাদা করে তুলে ধরে।
শুটার হিসেবে সাফল্য
যশপাল রানার ক্রীড়া জীবনের অন্যতম বড় সাফল্য হলো কমনওয়েলথ গেমসে তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্স। ১৯৯৪ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে তিনি মোট ১৫টি পদক জিতেছেন, যার মধ্যে ৯টি সোনা, ৪টি রুপো এবং ২টি ব্রোঞ্জ রয়েছে। এই সাফল্যের মাধ্যমে তিনি ভারতের অন্যতম সফল কমনওয়েলথ গেমস ক্রীড়াবিদ হিসেবে পরিচিত হন। ২০০৬ সালের এশিয়ান গেমসে তিনি ২৫ মিটার সেন্টার ফায়ার পিস্তল ইভেন্টে স্বর্ণপদক জয় করেন এবং ৫৯০ পয়েন্ট স্কোর করে বিশ্ব রেকর্ডের সমান করেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সে, ১৯৯৪ সালে তিনি অর্জন করেন অর্জুন পুরস্কার, যা তাঁর প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে ধরা হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে তিনি পদ্মশ্রী সম্মান পান এবং ২০২০ সালে পান দ্রোণাচার্য পুরস্কার।
কোচ হিসেবে সাফল্য
খেলোয়াড় হিসেবে সফলতার পর তিনি কোচিংয়ে এসে ভারতীয় শুটিংয়ে বড় পরিবর্তন আনেন। তিনি ভারতীয় শুটারদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও শক্তিশালী করে তোলেন এবং আধুনিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। তাঁর কোচিংয়ে ভারতীয় শুটাররা অলিম্পিক ও বিশ্ব মঞ্চে সাফল্য পেতে শুরু করে।
শুটার হিসেবে দেশের গর্ব
কোচ হওয়ার আগে শুটার হিসেবেও যশপাল রানা দেশের গর্ব ছিলেন। এশিয়ান গেমসে সোনা জেতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের হয়ে একাধিক সাফল্য এনে দিয়েছেন তিনি। একজন সফল প্রতিযোগী হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতাকে তিনি পরবর্তীকালে কোচিংয়ের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের শুটারদের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। যশপাল রানার কোচিংয়েই মানু ভাকের প্যারিস অলিম্পিক্সে জোড়া পদক জিতে নজির গড়েন। অভিনব বিন্দ্রা, গগণ নারাংদের উত্থানের আগে যশপালই ছিলেন ভারতীয় শুটিংয়ের মুখ।
ক্রীড়ামহলে শোকের ছায়া
তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ক্রীড়া মহলের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। ভারতীয় শুটিং সম্প্রদায়ের কাছে এটি এক অপূরণীয় ক্ষতি বলে মনে করা হচ্ছে। সহ-শুটার, কোচ এবং ক্রীড়া প্রশাসকদের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর প্রস্তুতি চলছে। যশপাল রানা শুধু একজন সফল শুটার বা কোচই নন, ভারতীয় শুটিংয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের নাম। তাঁর অবদান এবং সাফল্যের উত্তরাধিকার আগামী প্রজন্মের শুটারদের অনুপ্রেরণা জোগাবে।

