Jesus de Miguel Dies: ফুটবল মাঠে তখন টানটান উত্তেজনা। ম্যাচের ফলাফল ২-২। জয়ের আশায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন দুই দলের ফুটবলাররা। কিন্তু কে জানত, সেই লড়াইয়ের মধ্যেই অপেক্ষা করছে এমন এক মর্মান্তিক পরিণতি!
Jesus de Miguel Dies: ফুটবল মাঠে তখন টানটান উত্তেজনা। ম্যাচের ফলাফল ২-২। জয়ের আশায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন দুই দলের ফুটবলাররা। কিন্তু কে জানত, সেই লড়াইয়ের মধ্যেই অপেক্ষা করছে এমন এক মর্মান্তিক পরিণতি! প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষ। বুকের উপর সজোরে আঘাত। তার পরেই মাঠের মধ্যে লুটিয়ে পড়লেন ৩০ বছরের তরতাজা এক ফুটবলার। দ্রুত ছুটে এলেন চিকিৎসকরা। শুরু হল জীবন বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা। কিন্তু শেষরক্ষা হল না।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হল স্পেনের পেশাদার ফুটবলার জেসুস দে মিগেল আলামেদার। মাত্র ৩০ বছর বয়সেই থেমে গেল তাঁর জীবনের দৌড়। এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ স্পেনের ফুটবল মহল। ফিরল জুনিয়র কাণ্ডের স্মৃতি ঘটনাটি সোমবার রাতে স্পেনের দ্বিতীয় ডিভিশন ফুটবল লিগের। মুখোমুখি হয়েছিল সিডি টেনেরিফ এবং এফসি আন্দোরা। টেনেরিফের ঘরের মাঠ এস্তাদিও হেলিওদোরো রদ্রিগেজ লোপেজে চলছিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে ম্যাচ তখন অতিরিক্ত সময়ে। স্কোরবোর্ডে ২-২। দুই দলই মরিয়া শেষ মুহূর্তে গোল করে ম্যাচের ভাগ্য বদলাতে। আর ঠিক তখনই ঘটে যায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা।
দেখুন ভিডিও
ঠিক কী ঘটেছিল
মাঝমাঠের কাছাকাছি একটি লম্বা বল পেয়ে সেটির পিছনে ছুটতে শুরু করেন টেনেরিফের স্ট্রাইকার জেসুস দে মিগেল। অন্যদিকে, বল বিপদমুক্ত করতে নিজের গোলপোস্ট ছেড়ে দ্রুত বেরিয়ে আসেন আন্দোরার গোলরক্ষক জেসুস ওওনো। দু'জনের মধ্যে দূরত্ব কমতে থাকে মুহূর্তের মধ্যে। তার পরেই সজোরে ধাক্কা! গোলরক্ষক ওওনোর হাঁটু গিয়ে আঘাত করে দে মিগেলের বুকে। আঘাতের অভিঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন টেনেরিফের এই স্ট্রাইকার। বুক চেপে ধরে যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকেন তিনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই নিথর হয়ে পড়ে থাকে তাঁর শরীর।
মাঠের সেই দৃশ্য দেখে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েন দুই দলের ফুটবলাররা। মুহূর্তের মধ্যে খেলার পরিবেশ বদলে যায় শোক আর আতঙ্কে। সতীর্থদের অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। গ্যালারিতেও ছড়িয়ে পড়ে উদ্বেগ। দ্রুত মাঠে ছুটে আসেন চিকিৎসক ও প্যারামেডিকস কর্মীরা। শুরু হয় প্রাথমিক চিকিৎসা। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে রেফারি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন আন্দোরার গোলরক্ষক ওওনোকে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।
জানা গিয়েছে, মাঠেই কার্ডিওরেসপিরেটরি অ্যারেস্টের শিকার হন দে মিগেল। অর্থাৎ, তাঁর হৃদস্পন্দন এবং শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। মাঠে এবং অ্যাম্বুল্যান্সে তাঁকে বাঁচানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালান চিকিৎসাকর্মীরা। দ্রুত তাঁকে সান্তা ক্রুজ দে টেনেরিফের হসপিটাল ইউনিভার্সতারিও দে নুয়েস্ত্রা সেনোরা দে কান্দেলেরিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। ভর্তি করা হয় আইসিইউতে। প্রথম দিকে চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক অবস্থাকে গুরুতর হলেও স্থিতিশীল বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের অবস্থারও অবনতি হতে থাকে। অবশেষে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল আটটা নাগাদ হাসপাতালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
১৯৯৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর মাদ্রিদে জন্ম জেসুস দে মিগেলের। অল্প বয়স থেকেই ফুটবলের প্রতি ছিল তাঁর গভীর ভালবাসা। গত বছর গ্রীষ্মে তিন বছরের চুক্তিতে টেনেরিফে যোগ দেন তিনি। ক্লাবের জার্সিতে ২৯টি ম্যাচ খেলে ১১টি গোলও করেছিলেন। দলের আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছিলেন এই স্ট্রাইকার। তাঁর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ক্লাবের অন্দরমহল থেকে শুরু করে গোটা স্প্যানিশ ফুটবল দুনিয়ায়।
রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা এবং এফসি আন্দোরার মতো ক্লাবও এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে। শোকের আবহে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন কোপা দেল রে-র ম্যাচ-সহ ওই দিনের ফুটবল সংক্রান্ত একাধিক কার্যকলাপ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। যে মাঠে গোল করার স্বপ্ন নিয়ে ছুটে বেড়াতেন দে মিগেল, সেই মাঠেই এ ভাবে থেমে গেল তাঁর জীবনযুদ্ধ। ফুটবল মাঠে এমন মর্মান্তিক পরিণতি যে কতটা আকস্মিক হতে পারে, ফের একবার তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল এই ঘটনা। সতীর্থদের কাছে তিনি ছিলেন দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, সমর্থকদের কাছে প্রিয় স্ট্রাইকার। আর পরিবারের কাছে? মাত্র ৩০ বছর বয়সে চিরতরে হারিয়ে যাওয়া এক প্রিয় মানুষ।






