Lionel Messi Room Number বিশ্বকাপের গ্রহে ঢুকে পড়েছেন লিওনেল মেসি। কানসাস সিটিতে পা রেখেই নতুন জল্পনার জন্ম দিলেন মেসি। মাঠে এখনও নামেননি, কিন্তু বিশ্বকাপের আগেই আর্জেন্টিনা সমর্থকদের আলোচনার কেন্দ্রে তাঁর হোটেল রুমের নম্বর!
Lionel Messi Room Number বিশ্বকাপের গ্রহে ঢুকে পড়েছেন লিওনেল মেসি। কানসাস সিটিতে পা রেখেই নতুন জল্পনার জন্ম দিলেন মেসি। মাঠে এখনও নামেননি, কিন্তু বিশ্বকাপের আগেই আর্জেন্টিনা সমর্থকদের আলোচনার কেন্দ্রে তাঁর হোটেল রুমের নম্বর! আর্জেন্টিনা দলের বেস ক্যাম্প হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে কানসাসের 'অরিজিন হোটেল'। সেখানেই ২০২ নম্বর ঘরে উঠেছেন মেসি। আর এই সংখ্যাটিই এখন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল। কারণ, ২০২ সংখ্যার অঙ্কগুলো যোগ করলে হয় ৪। সমর্থকদের একাংশের বিশ্বাস, এ যেন আর্জেন্টিনার চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়েরই ইঙ্গিত!

মেসির হোটেল রুমের নম্বর ২০২! সংখ্যাতত্ত্বে স্বপ্ন দেখতে শুরু আর্জেন্টিনা সমর্থকদের
এই বিশ্বাসের পিছনে রয়েছে কাতার বিশ্বকাপের স্মৃতি। ২০২২ সালে কাতারে মেসির ঘরের নম্বর ছিল ২০১। সেই সংখ্যার অঙ্কগুলোর যোগফল ছিল ৩। আর সেই সময় পর্যন্ত আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ সংখ্যা ছিল তিন। ফলে এবার ২০২ নম্বর ঘর দেখে অনেকেই ধরে নিয়েছেন, ইতিহাস হয়তো আবারও নতুন বার্তা দিচ্ছে। যদিও আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা বা দলের তরফে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে সমর্থকদের কল্পনায় আগুন জ্বালানোর জন্য এতটুকুই যথেষ্ট।
রবিবার রাত থেকে বিশ্বকাপের গ্রহে মেসি
রবিবার গভীর রাতে মায়ামি থেকে ব্যক্তিগত বিমানে করে কানসাসে পৌঁছন মেসি ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সতীর্থ রদ্রিগো দে পল। তাঁরাই ছিলেন দলের শেষ দিকের আগত ফুটবলারদের মধ্যে। বিমানবন্দরে তাঁদের স্বাগত জানাতে ভিড় করেন বহু আর্জেন্টাইন সমর্থক। দলের জন্য সম্পূর্ণভাবে সংরক্ষিত করা হয়েছে কানসাস নদীর ধারে অবস্থিত অরিজিন হোটেল। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার সভাপতি ক্লদিও 'চিকি' তাপিয়া।
ঝড় বৃষ্টি দেখে শুরু
বিশ্বকাপের দেশ আমেরিকায় এসে আর্জেন্টিনা দলের প্রথম রাতটা মোটেও শান্তিপূর্ণ ছিল না। ঝড় ও টর্নেডোর সতর্কতায় হোটেল চত্বরে নিরাপত্তা বেড়া ও অস্থায়ী তাঁবু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আশপাশে গাছ ভেঙে পড়ার ঘটনাও ঘটে। যদিও দলের নিরাপত্তা বা প্রস্তুতিতে কোনও প্রভাব পড়েনি। সোমবারের মধ্যে ২৬ জনের পূর্ণ স্কোয়াড একত্রিত হয়েছে। শেষ ফুটবলার হিসেবে শিবিরে যোগ দেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। বিশ্বকাপ চলাকালীন আর্জেন্টিনার অনুশীলন হবে ৭৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে তৈরি অত্যাধুনিক কম্পাস মিনারেলস ন্যাশনাল পারফরম্যান্স সেন্টারে। সেখানে রয়েছে পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ মাঠ, হাইপারবারিক চেম্বার, ক্রায়োথেরাপি ইউনিট এবং বিশাল জিমনেসিয়াম।
অভিযান শুরুর আগে চোট চিন্তায় আর্জেন্টিনা
তবে বিশ্বকাপের আগে চিন্তাও কম নেই। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো 'দিবু' মার্টিনেজ ডান হাতের আঙুলের চোট নিয়ে শিবিরে পৌঁছেছেন। তাঁর হাতে প্লাস্টার রয়েছে। যদিও অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন নেই বলে জানা গিয়েছে। মাঝমাঠের ভরসা লিয়ান্দ্রো পারেদেসও হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট থেকে সেরে ওঠার লড়াই চালাচ্ছেন। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগেই তাঁকে ফিট করার চেষ্টা চলছে।
মেসিরও চোট রয়েছে
চিন্তার তালিকায় রয়েছেন মেসিও। ইন্টার মায়ামির হয়ে শেষ ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ে অতিরিক্ত চাপ পড়েছিল তাঁর। সেই কারণে হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে। ১৬ জুন বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই মাঠে ফেরার সম্ভাবনা বেশি। গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া, ইংল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডস। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রথম ম্যাচ ১৬ জুন।
জার্সি নম্বর বদল
এর মধ্যেই জার্সি নম্বরেও এসেছে পরিবর্তন। অ্যাঞ্জেল দি মারিয়ার অবসরের পর তাঁর ১১ নম্বর জার্সি পেয়েছেন জিওভানি লো সেলসো। লিসান্দ্রো মার্তিনেজ নিয়েছেন ৬ নম্বর জার্সি। আর মেসির পিঠে থাকছে তাঁর চিরচেনা ১০ নম্বর। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই তাই আর্জেন্টিনা শিবিরে মিশে রয়েছে আশা, কুসংস্কার, উদ্বেগ এবং স্বপ্ন। সমর্থকদের প্রশ্ন একটাই, ২০২ নম্বর ঘর কি সত্যিই আর্জেন্টিনাকে এনে দেবে চতুর্থ বিশ্বকাপ?


