Manchester City FC: গত এক দশকে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের (Premier League) সফলতম দল ম্যাঞ্চেস্টার সিটি। কিন্তু এই ক্লাবের বিরুদ্ধে আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের স্বপক্ষে প্রমাণও পাওয়া গিয়েছে। এই কারণে ম্যান সিটিকে কঠোর শাস্তি দিতে পারে প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ। তবে কী শাস্তি দেওয়া হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

DID YOU
KNOW
?
ম্যান সিটির সাফল্য
২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মরসুমের মধ্যে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ, লিগ কাপ-সহ বেশ কিছু খেতাব জিতেছে ম্যাঞ্চেস্টার সিটি।

Manchester City FC News: ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের (Premier League) আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হল ম্যাঞ্চেস্টার সিটি। ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ পর্যন্ত টানা নয় মরসুমে আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগের তদন্ত শেষে এই ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে স্বাধীন কমিশন। এর ফলে এবার বড়সড় শাস্তির মুখে পড়তে পারে পেপ গুয়ার্দিওলার (Pep Guardiola) দল। তবে এখনও কোনও শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি। প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তে ম্যান সিটির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলির সবক’টিতেই কমিশন এই ক্লাবকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। পাশাপাশি, প্রিমিয়ার লিগের চার বছর ধরে চলা তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগগুলিরও অধিকাংশ বহাল রাখা হয়েছে। ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মরসুমের মধ্যে ম্যান সিটি একাধিক বাণিজ্যিক সংস্থার সঙ্গে ‘ভুয়ো’ চুক্তি করেছিল বলে কমিশন জানিয়েছে। ওই চুক্তিগুলিতে প্রকৃত আর্থিক সমঝোতার ছবি গোপন করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে ক্লাবের আয় কৃত্রিম ভাবে বাড়ানো এবং খরচ কম দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কমিশনের মতে, ম্যান সিটি তাদের আর্থিক হিসাবেও ভুল তথ্য দিয়েছিল এবং অডিটর ও ফুটবল নিয়ন্ত্রকদের কাছ থেকে প্রকৃত আর্থিক পরিস্থিতি গোপন করেছিল। তদন্তের সময়কালে ক্লাবটি প্রিমিয়ার লিগ এবং উয়েফার আর্থিক ব্যয়-সংক্রান্ত নিয়মও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় লঙ্ঘন করেছে বলে রায়ে জানানো হয়েছে।

ম্যান সিটির সফলতম সময়েই গোলমাল

ম্যান সিটির বিরুদ্ধে আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এই সময়টাই ম্যান সিটির ইতিহাসে অন্যতম সফল অধ্যায়। ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মরসুমের মধ্যে তিনবার প্রিমিয়ার লিগ জেতে এই ক্লাব। খেতাব এসেছে ২০১১-১২, ২০১৩-১৪ এবং ২০১৭-১৮ মরসুমে। এ ছাড়াও ২০১০-১১ মরশুমে এফএ কাপ (FA Cup), ২০১৩-১৪, ২০১৫-১৬ ও ২০১৭-১৮ মরসুমে লিগ কাপ (League Cup) এবং ২০১২ সালে কমিউনিটি শিল্ড (Community Shield) জেতে ম্যান সিটি। ২০১১-১২ মরসুমের প্রিমিয়ার লিগ জয় বিশেষভাবে স্মরণীয়। কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের (Queens Park Rangers) বিরুদ্ধে ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে সের্জিও আগুয়েরোর (Sergio Aguero) গোলেই ১৯৬৮ সালের পর প্রথম বার লিগ চ্যাম্পিয়ন হয় সিটি। এর দু’বছর পর ২০১৩-১৪ মরশুমে ফের লিগ জেতে তারা। কোচ হিসেবে গুয়ার্দিওলার দ্বিতীয় মরসুমে ২০১৭-১৮ সালে আরও দাপটের সঙ্গে খেতাব জয় করে সিটি। সেই মরসুমে ১০০ পয়েন্ট সংগ্রহ করে তৎকালীন প্রিমিয়ার লিগ রেকর্ড গড়েছিল এই ক্লাব। লিগ জয়ের আগেই লিগ কাপও জেতে সিটি।

ম্যান সিটির খেতাব কেড়ে নেওয়া হবে

কমিশনের রায়ের পর এখনও ম্যান সিটির কোনও ট্রফি কেড়ে নেওয়া হয়নি। কমিশন আর্থিক অনিয়মগুলি প্রমাণিত করেছে। কিন্তু, শাস্তির বিষয়টি আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হবে। প্রিমিয়ার লিগের নিয়ম অনুযায়ী, সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে রয়েছে জরিমানা, পয়েন্ট কাটা এবং অন্যান্য ক্রীড়া-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা। প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষের দাবি, ম্যান সিটির কয়েকটি বাণিজ্যিক চুক্তি ছিল আবু ধাবি ইউনাইটেড গ্রুপ ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের সঙ্গে যুক্ত একটি গোপন অর্থায়ন ব্যবস্থার অংশ। এই সংস্থাই সিটির মালিক ছিল। কমিশনের মতে, কয়েকটি স্পনসর চুক্তিতে নির্ধারিত অর্থের একটি অংশ সরাসরি প্রদান করলেও বাকি অর্থ আবু ধাবির সংস্থার মাধ্যমে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে স্পনসরশিপ থেকে প্রাপ্ত প্রকৃত অর্থের চিত্র বদলে যায়। এ ছাড়াও এই সংস্থার অর্থায়নে আরও কিছু ‘ভুয়ো’ ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ম্যান সিটির প্রকৃত পরিচালন ব্যয়ের তুলনায় কম খরচ হিসাবের খাতায় দেখানো হয়। ফুটবলারদের ইমেজ রাইটস কেনার সঙ্গে যুক্ত Fordham নামের একটি সংস্থাকে ঘিরে একটি ব্যবস্থাকেও কমিশন ‘শ্যাম সার্কুলার অ্যারেঞ্জমেন্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষের দাবি, এই সব ব্যবস্থার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সময়ে ম্যান সিটির আয় কৃত্রিমভাবে বাড়ানো এবং খরচ কমানোর পরিমাণ ছিল ৯০ কোটি পাউন্ডেরও বেশি। কমিশনের মতে, এর ফলে ম্যান সিটির আর্থিক হিসাব প্রকৃত পরিস্থিতির প্রতিফলন ঘটায়নি। সংশ্লিষ্ট চুক্তিগুলি সঠিকভাবে হিসাবের মধ্যে দেখানো হলে ম্যান সিটি প্রিমিয়ার লিগের প্রফিটিবিলিটি অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি রুলস এবং উয়েফার আর্থিক নিয়ম, দু’টিই ‘অত্যন্ত বড় ব্যবধানে’ লঙ্ঘন করত। কমিশনের সিদ্ধান্ত, প্রিমিয়ার লিগের নিয়ম এড়িয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই এই ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগ

শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, প্রিমিয়ার লিগের তদন্তে ম্যান সিটির আচরণও কমিশনের রায়ের আওতায় এসেছে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে এই তদন্ত চলছিল। প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তে সহযোগিতা করা এবং সর্বোচ্চ সততার সঙ্গে তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সিটি একাধিক নিয়ম ভেঙেছে। চারটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি কমিশন বহাল রেখেছে। প্রিমিয়ার লিগের চিফ এগজিকিউটিভ রিচার্ড মাস্টার্স (Richard Masters) এই রায়কে ইংলিশ ফুটবলের জন্য ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত’ বলে উল্লেখ করেছেন। মাস্টার্স বলেন, 'এই রায়ের মাধ্যমে তদন্তের সময় ম্যাঞ্চেস্টার সিটিতে কী ঘটেছিল, তার সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রায় এক দশক ধরে ক্লাবটি ‘পদ্ধতিগত ভাবে’ প্রিমিয়ার লিগের নিয়ম ভেঙেছে। এই মামলাটি চালিয়ে যাওয়ার প্রিমিয়ার লিগের সিদ্ধান্তকে রায়টি সমর্থন করেছে এবং প্রতিযোগিতাকে সুষ্ঠু ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাখতে নিয়ম কার্যকর করা অত্যন্ত জরুরি।'

ম্যান সিটির পয়েন্ট কাটা হবে?

কমিশনের রায় ঘোষণার পরও ম্যান সিটির ভবিষ্যৎ শাস্তি নিয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শাস্তির বিষয়টি স্বাধীন কমিশনের সামনে পৃথক শুনানিতে নির্ধারিত হবে। সম্ভাব্য শাস্তির তালিকায় রয়েছে জরিমানা, পয়েন্ট কাটা এবং অন্যান্য ক্রীড়া-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা। শাস্তি সংক্রান্ত শুনানি ব্যক্তিগত ও গোপনীয়ভাবে হবে এবং ফলাফল প্রকাশের অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত তা প্রকাশ করা হবে না। তবে ম্যান সিটির সামনে এখনও আপিল করার সুযোগ রয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত ক্লাবটি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবে। আপিল হলে তা শুনবে স্বাধীন আপিল বোর্ড। তারা কমিশনের সিদ্ধান্ত বহাল রাখতে, বাতিল করতে কিংবা পরিবর্তন করতে পারবে।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।