Premier League 2026 27: গত এক দশকে প্রিমিয়ার লিগে সফলতম দল ম্যাঞ্চেস্টার সিটি (Manchester City)। তবে আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘন করায় এই ক্লাব কঠোর শাস্তি পেতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। যদিও ইংল্যান্ডের (England) প্রাক্তন গোলকিপার ডেভিড জেমস (David James) আশাবাদী, এবারও প্রিমিয়ার লিগ জিতবে ম্যান সিটি।
KNOW
David James: প্রিমিয়ার লিগের (Premier League 2026 27) চলতি মরসুমে খেতাব জয়ের দৌড়ে আর্সেনালকে (Arsenal FC) এগিয়ে রাখলেও. শেষপর্যন্ত ম্যাঞ্চেস্টার সিটির (Manchester City) হাতেই ট্রফি দেখতে চান ইংল্যান্ডের (England) প্রাক্তন গোলকিপার ডেভিড জেমস। তাঁর মতে, মিকেল আর্তেতার (Mikel Arteta) দল দুর্দান্ত ফুটবল খেলছে এবং মরসুমের শুরুটাও করেছে দারুণভাবে। তবে সাম্প্রতিক ধাক্কা কাটিয়ে আর্লিং হালান্ডের (Erling Haaland) নেতৃত্বে আবারও জয়ের সরণিতে ফিরতে পারে পেপ গুয়ার্দিওলার (Pep Guardiola) দল। চলতি মরসুমে প্রিমিয়ার লিগের খেতাবের লড়াই ক্রমশঃ আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। আর্সেনাল ও ম্যাঞ্চেস্টার সিটিকেই এই মুহূর্তে অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছে। জিওহটস্টারকে (JioHotstar) দেওয়া সাক্ষাৎকারে দুই দলের সম্ভাবনা নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন জেমস। একই সঙ্গে আধুনিক ফুটবলে শিরোপা জয়ের কঠিন চ্যালেঞ্জ, তথ্য ও পরিসংখ্যানের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব এবং গোলরক্ষকদের বদলে যাওয়া ভূমিকা নিয়েও কথা বলেছেন তিনি।
ম্যান সিটির প্রশংসায় জেমস
আর্সেনালের খেলার প্রশংসা করলেও ম্যান সিটির প্রতি নিজের সমর্থনের কথা গোপন করেননি প্রাক্তন এই গোলকিপার। জেমস বলেন, ‘চলতি বছরে প্রিমিয়ার লিগ জয়ের দৌড়ে আর্সেনালই এগিয়ে। গত মরসুমে তাদের সাফল্যের পর এবারও দুর্দান্ত ফুটবল খেলছে দলটি। এখনও পর্যন্ত মাত্র একটি ম্যাচে হেরেছে তারা। অ্যানফিল্ডে (Anfield) লিভারপুলকে (Liverpool FC) হারিয়েছে, এমনকী প্রতিপক্ষকে গোল করার সুযোগও দেয়নি। আর্তেতা কীভাবে দলটাকে তৈরি করেছেন, সেটা এই ম্যাচ থেকেই বোঝা যায়। মরসুমের শুরুতে ওরা অযথা বেশি কিছু করার চেষ্টা না করে নিজেদের মৌলিক বিষয়গুলো ঠিক রাখছে।’ তবে ম্যান সিটিকে এখনই শিরোপার লড়াই থেকে বাদ দিতে নারাজ তিনি। জেমসের কথায়, 'ম্যাঞ্চেস্টার সিটি আমাকে অবাক করেছে। টানা সাত ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর হঠাৎই পরপর দু'টি ম্যাচে হেরে গিয়েছে তারা। সিটির মতো দলের কাছে এমন ছন্দপতন অপ্রত্যাশিত। তবে আর্সেনালের বিরুদ্ধে শিরোপার লড়াই থেকে তাদের বাদ দেওয়ার সময় এখনও আসেনি। আমার মনে হয়, এই দুই দলের কোনও একটি এ বার ট্রফি জিতবে। আমি ম্যাঞ্চেস্টারের নীল শিবিরের হয়ে খেলেছি। তাই ম্যান সিটির প্রতিই আমার সমর্থন। আশা করি, আর্লিং হালান্ডকে সামনে রেখে এ বার তারা আবার ট্রফি জয়ের স্বাদ পাবে।'
প্রিমিয়ার লিগে কঠিন লড়াই
প্রিমিয়ার লিগে খেতাব জয়ের লড়াই যে আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হয়েছে, সেটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন জেমস। উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন ২০১৫-১৬ মরসুমে লেস্টার সিটির (Leicester City) অবিশ্বাস্য শিরোপা জয়। সে বার মাত্র ৮১ পয়েন্ট নিয়েই লিগ জিতেছিল লেস্টার। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলিতে খেতাব জিততে ৯০ বা তার বেশি পয়েন্ট প্রয়োজন হচ্ছে। জেমসের মতে, ‘২০০০ সালের আগে আট-নয়টি ম্যাচ হারলেও অনেক সময় লিগ জেতা সম্ভব হত। কিন্তু ২০০০-০১ মরসুমের পর থেকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য দলগুলির মানসিকতায় পরিবর্তন এসেছে। ২০১৫-১৬ মরসুমে লেস্টার সিটি ৮১ পয়েন্ট নিয়ে প্রিমিয়ার লিগ জিতেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলিতে খেতাব জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় পয়েন্টের সংখ্যা অনেক বেড়েছে।’ তিনি আরও বলেছেন, 'ম্যাঞ্চেস্টার সিটি, লিভারপুল ও আর্সেনাল একে অপরকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এই দলগুলি ৯০-এর বেশি পয়েন্ট নিয়েও লিগ জিতেছে। এখন দলগুলির মূল লক্ষ্য যতটা সম্ভব হার এড়ানো। শেষদিকে ম্যাচ ড্র হতে পারে, পয়েন্টও নষ্ট হতে পারে। কিন্তু বেশি ম্যাচ হারলে চলবে না। এখন ভুলের কোনও জায়গা নেই। একটি খারাপ সপ্তাহই শিরোপার স্বপ্ন শেষ করে দিতে পারে। তাই প্রতিটি ম্যাচকেই ফাইনাল হিসেবে দেখে সেরা দলগুলি। এখন কতগুলি ম্যাচ জিতলেন, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ কত কম ম্যাচ হারলেন।'
বদলে গিয়েছে গোলকিপারদের ভূমিকা
আধুনিক ফুটবলে গোলরক্ষকদের ভূমিকার পরিবর্তন নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেছেন জেমস। তাঁর মতে, শুধু প্রতিপক্ষের শট আটকে দেওয়াই এখন গোলরক্ষকদের কাজ নয়। দলের আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে লিভারপুলের অ্যালিসন বেকার (Alisson Becker) এবং ম্যাঞ্চেস্টার সিটির জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার (Gianluigi Donnarumma) কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। জেমসের কথায়, 'গোলকিপার হওয়ার মৌলিক বিষয়গুলি বদলায়নি। এখনও বলকে জালে ঢোকা থেকে আটকাতে হয়। ক্রিকেটের মতোই, যেখানে ব্যাটারদের রান করতে হয় এবং বোলারদের উইকেট নিতে হয়। তবে আধুনিক গোলকিপারদের কাজের ধরন বদলেছে। লিভারপুলের অ্যালিসনের মতো গোলকিপার শুধু গোল বাঁচান না, নিখুঁত পাসের মাধ্যমে দলকে আক্রমণে উঠতেও সাহায্য করেন। ম্যান সিটির দোন্নারুম্মার কথাই ধরুন। তাঁর পাসিং দক্ষতা দলকে পিছন থেকে আক্রমণ গড়ে তুলতে সাহায্য করে। ১০ জনের ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ডার্বিতে ১-০ জয়ের ক্ষেত্রেও তাঁর এই দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই পরিবর্তন দলের খেলার ধরনকেই বদলে দিয়েছে।'
পরিসংখ্যান নিয়েও কথা বলেছেন জেমস
ফুটবল ও ক্রিকেটে তথ্য-পরিসংখ্যান বা ডেটা অ্যানালিটিক্সের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়েও কথা বলেছেন জেমস। তাঁর মতে, আগে কোনও খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স বিচার করা হত মূলত সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণ ও ব্যক্তিগত মতামতের ভিত্তিতে। এখন সেই জায়গা নিয়েছে পরিসংখ্যান ও তথ্যনির্ভর বিশ্লেষণ। তিনি বলেন, ‘আগে সংবাদপত্র পড়ে কোনও খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স সম্পর্কে ব্যক্তিগত মতামত পাওয়া যেত। এখন তথ্য ও পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে বিচার করা হয়, একজন খেলোয়াড় কোচের চাহিদা অনুযায়ী খেলতে পারছেন কি না। কোনও গোল হজম করলে সেটার জন্য গোলরক্ষক দায়ী কি না, সেটাও তথ্যের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা সম্ভব। ক্রিকেটেও একই বিষয় দেখা যাচ্ছে। সবকিছুই এখন পরিসংখ্যাননির্ভর।’ তবে খেলার আবেগ ও পরিসংখ্যানের মধ্যে ভারসাম্য রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। জেমসের মতে, 'কিছু সমর্থক পরিসংখ্যান নিয়ে ভাবেন না। তাঁরা শুধু খেলার আবেগ ও উত্তেজনা উপভোগ করতে চান। কিন্তু বড় ক্লাবগুলির মালিকদের কাছে ফলাফলই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় সেই ফলের পিছনে ছুটতে গিয়ে খেলার আবেগ হারিয়ে যায়। ক্রিকেটের মতো ফুটবলেও ভবিষ্যতে তথ্য ও পরিসংখ্যানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়রা তথ্যনির্ভর পরিবেশেই বড় হবে।'
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।






