বিশ্বজুড়ে ক্রমশ থাবা বসাচ্ছে করোনা ভাইরাস। ক্রমশ বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। কার্যত আতঙ্কপুরীতে পরিণত হয়েছে গোটা চীন। বাদ  নেই ভারতও। এদেশেও আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২৮ জন। করোনার থাবা থেকে বাদ যায়নি ক্রীড়া ক্ষেত্রও। করোনা আতঙ্কে প্রশ্ন চিহ্নের মুখে পড়ে গিয়েছে অলিম্পিকের ভবিষ্যৎ। ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে টোকিও অলিম্পকে দর্শক নিষিদ্ধ করার চিন্তা-ভাবনাও রয়েছে। জাপান, চীনে স্থগিত রাখা হয়েছে সমস্ত ঘোরায়া ফুটবল টুর্নামেন্ট। করোনা আতঙ্কের জেরে বাতিল করা হয়েছে সুলতান আজলান শাহ কাপ হকি। অনিশ্চয়তার মুখে শুটিং বিশ্বকাপও। শুধু মাত্র এশিয়া নয় করোনার আতঙ্ক গ্রাস করেছে উইরোপের খেল জগৎকেও। ইউরোপে ইতিমধ্যেই ৬টিরও বেশি দেশে স্থগিত করা হয়েছে রাগবি চ্যাম্পিয়নশিপ। দর্শকহীন স্টেডিয়ামে হচ্ছে ইতালির ঘরোয়া ফুটবল লিগ। 

আরও পড়ুনঃআই লিগ জিততে বাগানের দরকার ৬ পয়েন্ট, বেইতিয়াদের পরবর্তী লক্ষ্য মিশন চেন্নাই

করোনাভাইরাসের থাবা থেকে বাদ যায়নি ভারতীয় ক্রীড়াক্ষেত্রও। ইতিমধ্যেই ভারতীয় অনূর্ধ্ব ১৬ দলের তাজিকিস্তান সফর বাতিল করা হয়েছে। এবার করোনা আতঙ্ক এবার ভর করেছে আইপিএলেও। যা নিয়ে এখন থেকেই সতর্কতা অবলম্বন করছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। ২৯ মার্চ থেকে মুম্বাইয়ের ওযাংখেড়ে স্টেডিয়ামে শুরু হতে চলেছে আইপিএলের ১৩তম সংস্করণ। প্রতিযোগিতা চলবে ২৪ মে পর্যন্ত। প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হতে চলেছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও চেন্নাই সুপার কিংস।  টুর্নামেন্টে খেলতে আসবেন দেশ-বিদেশের অসংখ্য ক্রিকেটার। ক্রিকেটারদের পাশাপাশি আসবেন তাদের পরিবার ও দেশ-বিদেশের অসংখ্য দর্শক। আর করোনা সংক্রামিত রোগ হওয়ায় আইপিএলের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন অনেকেই। ক্রমশ ছড়াচ্ছে আতঙ্কও।

আরও পড়ুনঃঅবনমন বাঁচাতে জনি আকোস্টাই ভরসা ইষ্টবেঙ্গলের, আশায় বুক বাঁধছেন সমর্থকরা

আরও পড়ুনঃনির্বাচন কমিটিতে বদল, এমএসকে প্রসাদের জায়গায় আসতে চলেছেন সুনীল জোশী

যদিও করোনার কারণে কোনওরকমভাবেই বিচলিত নয় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডে। আইপিএলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আইপিএলের চেয়ারম্যান ব্রিজেশ প্যাটেল জানিয়েছেন , করোনা নিয়ে এখনই আইপিএলের উপর কোনও প্রভাব নেই। তবে গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি আমরা। অন্যদিকে করোনার কারণে আইপিএলের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনওভাবেই চিন্তিত নন বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।      সোজাসাপটাভাবে সৌরভ জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের জন্য আইপিএল বন্ধ করার কোনও সম্ভাবনাই নেই। এ নিয়ে এখনও কোনও আলোচনা হয়নি। 

আইপিএল মানেই বিনোদন ক্রিকেট। যার সঙ্গে লগ্নি হয়ে রয়েছে কয়েক হাজার কোটি টাকা। এই প্রতিযোগিতা থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলিও বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করে। এছাড়াও বাণিজ্যিক সংস্থাগুলির এখন পাখির চোখ থাকে আইপিএল-এ। সুতরাং, অর্থ আয়ের এতবড় একটা সুযোগ-কে এত সহজে হাতছাড়া করার মতো সিদ্ধান্ত কি বিসিসিআই নিতে পারবে, সেটাই এখন দেখার।