LaLiga 2026-27: চলতি লা লিগার শীর্ষে বার্সেলোনা (Barcelona)। তবে ভালোভাবেই লড়াইয়ে আছে রিয়াল মাদ্রিদ (Real Madrid)। দুই দলের পয়েন্ট সমান। তবে এক ম্যাচ বেশি খেলেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ফলে সুবিধাজনক জায়গায় বার্সেলোনা। তবে লড়াই এখনও অনেক বাকি।

Barcelona vs Real Madrid: চলতি লা লিগার (LaLiga 2026-27) খেতাবের দৌড়ে বার্সেলোনার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ। শনিবার মেস্তায়ায় ভ্যালেন্সিয়াকে (Valencia) ৩-০ উড়িয়ে পয়েন্ট তালিকায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের আরও চাপে ফেলে দিল রিয়াল। এই জয়ের ফলে ১২ ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে বার্সেলোনার সঙ্গে একই জায়গায় পৌঁছে গেল হোসে মরিনহোর (Jose Mourinho) দল। যদিও গোলপার্থক্যে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বার্সেলোনা। পাশাপাশি একটি ম্যাচ কম খেলেছে তারা। রবিবার রাতে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের (Atletico Madrid) মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা। এই ম্যাচের ফল খেতাবের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। ২৮ পয়েন্ট নিয়ে এখন লিগ টেবলে তৃতীয় স্থানে অ্যাটলেটিকো। ফলে বার্সেলোনাকে হারাতে পারলে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকেই টপকে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে তাদের। স্বাভাবিকভাবেই এই পরিস্থিতিতে বার্সেলোনার উপর চাপ বাড়ল।

পরপর জয় পাচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ

সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা আট ম্যাচে জয় পেল রিয়াল মাদ্রিদ। দুই সপ্তাহ আগে ক্যাম্প ন্যুতে (Camp Nou) এল ক্লাসিকোয় (El Clasico) জয়ের পর ছন্দ ধরে রেখেছে তারা। ভ্যালেন্সিয়ার বিরুদ্ধে রিয়ালের হয়ে গোল করেন ফেডেরিকো ভালভার্দে (Federico Valverde), আর্দা গুলের (Arda Guler) এবং কিলিয়ান এমবাপে (Kylian Mbappe)। চার ম্যাচের জন্য নির্বাসিত থাকায় ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে (Vinicius Jr) এই ম্যাচেও পায়নি রিয়াল। তাঁর পরিবর্তে এমবাপের সঙ্গে আক্রমণভাগে খেলেন ইয়ান দিয়োমান্দে। আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডে ছিলেন গুলের, জুড বেলিংহ্যাম এবং বের্নার্দো সিলভা। অধিনায়ক ভালভার্দে খেলেন রাইট ব্যাক হিসেবে। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময় থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় রিয়াল। ২৮ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ভালভার্দে। এমবাপের ফ্রি-কিক ভ্যালেন্সিয়ার রক্ষণে প্রতিহত হয়ে ফিরে এলে সেই বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শট নেন উরুগুয়ের মিডফিল্ডার। তাঁর শট জালে জড়িয়ে যায়। এর মাত্র আট মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুন করে রিয়াল। ডানদিক থেকে বেলিংহ্যামের বাড়ানো বল পেনাল্টি বক্সের মধ্যে পান গুলের। কাছ থেকে প্রথম স্পর্শেই বল জালে পাঠিয়ে দেন তুরস্কের এই মিডফিল্ডার। ফলে বিরতির আগেই ২-০ এগিয়ে যায় রিয়াল। রিয়ালের আক্রমণ সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খায় ভ্যালেন্সিয়া। প্রতিপক্ষের ছন্দ নষ্ট করতে বারবার শারীরিক ফুটবলের আশ্রয় নেয় তারা। তবে তাতে রিয়ালের আক্রমণ থামানো যায়নি। ৭৫ মিনিটে তৃতীয় গোলটি করে ম্যাচের ভাগ্য নিশ্চিত করেন এমবাপে। এবার গোলের কারিগর গুলের। বক্সের মধ্যে দুর্দান্ত পাসে এমবাপেকে বল বাড়িয়ে দেন তিনি। ফরাসি তারকা এগিয়ে আসা গোলকিপারকে কাটিয়ে ফাঁকা জালে বল ঠেলে দেন। ফলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় রিয়াল। এর পাঁচ মিনিট পর আরও বড় ধাক্কা খায় ভ্যালেন্সিয়া। গোলের দিকে এগিয়ে যাওয়া এমবাপেকে ফাউল করায় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় ভ্যালেন্সিয়ার অধিনায়ক হোসে গায়াকে। ফলে ম্যাচের শেষদিকে ১০ জনে খেলতে বাধ্য হয় স্বাগতিক দল। বাকি সময় অনায়াসেই জয় নিশ্চিত করে রিয়াল।

অবনমনের আশঙ্কায় ভ্যালেন্সিয়া

এই হারে অবনমনের আশঙ্কা বাড়ল ভ্যালেন্সিয়ার। ১২ ম্যাচে মাত্র ৯ পয়েন্ট নিয়ে লিগ তালিকার ১৯ নম্বরে রয়েছে তারা। চলতি মরসুমে এখনও পর্যন্ত মাত্র দু'টি ম্যাচে জয় পেয়েছে ভ্যালেন্সিয়া। ঘরের মাঠেও জয়ের মুখ দেখেনি তারা। অন্যদিকে, আত্মবিশ্বাসে ভরপুর রিয়াল মাদ্রিদ। টানা আট জয়ের সুবাদে বার্সেলোনার সঙ্গে পয়েন্ট সমান করে খেতাবের লড়াই আরও জমিয়ে তুলেছে তারা। রবিবার অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিরুদ্ধে বার্সেলোনার ম্যাচের দিকেই তাকিয়ে থাকবে ফুটবলবিশ্ব।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।