জনতা কার্ফুর সকাল। যাদবপুরের শ্রীকোলনীতে খোলা এক চায়ের দোকান। তাতে ভিড়ও জমিয়েছেন ক্রেতারা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য করে চায়ের দোকান খোলায় স্থানীয় একটি মেয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে ভিডিও করা শুরু করে। সেই চায়ের দোকানের ক্রেতাদের মধ্যে একজন বলে উঠলেন, 'আমরা কী চা খাবো না? খাবো না আমরা চা?' তারপর সেই ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করেন ওই প্রতিবাদী। তারপরের ঘটনা আমাদের সকলের জানা। সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল সেই 'চা কাকু'। মিম, গান, ব়্য়াপ থেকে শুরু করে বাদ নেই কোনও কিছুই । বর্তমানে 'চা-কাকুকে' চেনেন না, এমন লোকের জুরি মেলা ভার। কিন্তু সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হবার অভিশাপই আশির্বাদে পরিণত হল 'চা-কাকুর'। তার পাশে দাঁড়ালেন স্বয়ং বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট তথা বাংলার মহারাজ সৌরভ গঙ্গোপধ্যায়। 

আরও পড়ুনঃ৪০ জন ক্রীড়া ব্যক্তিত্বের সঙ্গে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

আরও পড়ুনঃদেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান রবি শাস্ত্রী ও হরভজন সিংয়ের

পরে জানা যায় 'চা-কাকুর' আসল নাম মৃদুল দেব। র দিন কয়েক পরে আর একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা যায় চা কাকু সেই ব্যক্তি লকডাউনের মধ্যে মাটি কাটার কাজ করছেন। কারণ সংসারে চরম অভাব। কিন্তু চোখেমুখে একফোঁটাও ক্লান্তি নেই। এরপর প্রকাশ্যে আসে আরও একটি ভিডিও। সেখানে ওই ব্যক্তির ছেলে তাঁর বাবার জন্য একটি কাজের আবেদন জানান। সেই ভিডিও দেখার পর অনেকেই কাজের জন্য ডাকতে শুরু করেন মৃদুল বাবুকে। বাড়িতে ডেকে পাশে বসিয়ে ভিডিও করেন অনেকে।

আরও পড়ুনঃনিজেদর ঘরোয়া মুহূর্তের ছবি শেয়ার করে ফের সামাজিক সচেতনাতার বার্তা বিরুষ্কার

এই বিষয়টি জানতে পেরেই সাহায্যের হাত বাড়ান সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। হাতে তুলে দেন চাল-ডাল-সহ খাদ্যসামগ্রী। পাশাপাশি স্থানীয় কাউন্সিলর-সহ অনেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন মৃদুল বাবুর দিকে। নির্দেশ অমান্য করে চা খেতে বেড়িয়ে যে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়েছিল মৃদুল বাবুকে, তা আসলে শাপে বর হল, এমনটাই মনে করছেন সকলে। সাহায্য পেয়ে সৌরভকে ধন্যবাদ জানান মৃদুল বাবুর পরিবার। সৌরভ ঘনিষ্ঠ যে ব্যক্তি এদিন বোর্ড প্রেসিডেন্টের সাহায্যের বিষয়টি জানান। তিনিও নাকি মৃদুল বাবুকে নিয়ে প্রথমে ট্রোল করেছিলেন। তবে নিজের ভুল বুঝতে পেরে তিনিও অনুতপ্ত। মৃদুল বাবুর ছেলেকে সাহায্য করতে চান সেই ব্যক্তি। কোনও কাজের ব্যবস্থা করার ভাবনা-চিন্তা চলছে। ফলে জনতা কার্ফুর দিন চা খেতে বেরিয়ে যেই বিড়ম্বনার শিকার হয়েছিলেন মৃদুল বাবু, সেই বিড়ম্বনায় তার জীবনে সুখের হদিশ দেবে বলে মনে করছেন পাড়া, প্রতিবেশীরা।