Sunil Narine: T20 ক্রিকেট মানেই ব্যাটারদের তাণ্ডব আর চার-ছক্কার বৃষ্টি। কিন্তু সেই ফরম্যাটেই যদি চার ওভার বল করে ২১টি ডট বল দেন একজন স্পিনার, তবে তাকে কী বলা যায়? CPL ২০২৬ সংস্করণের শুরুতেই এমন অবিশ্বাস্য বোলিং করে চমকে দিলেন সুনীল নারিন।
Sunil Narine: টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট মানেই ব্যাটারদের তাণ্ডব আর চার-ছক্কার বৃষ্টি। কিন্তু সেই ফরম্যাটেই যদি চার ওভার বল করে ২১টি ডট বল দেন একজন স্পিনার, তবে তাকে কী বলা যায়? ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) ২০২৬ সংস্করণের শুরুতেই এমন অবিশ্বাস্য বোলিং করে চমকে দিলেন সুনীল নারিন। মাত্র ৭ রান দিয়ে তুলে নাইটদের বিষ্ময় স্পিনার নিলেন ৩টি উইকেট। ২৪ বলের স্পেলে নারিনের ২১টি ডেলেভারিতে কোনও রানই নিতে পারলেন না বিপক্ষের ব্যাটাররা। নারিনের এই অসাধারণ স্পেলের ওপর ভর করেই ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (DLS) পদ্ধতিতে সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস পেট্রিয়টসকে ১৯ রানে হারিয়ে এবারের সিপিএল এ জয় দিয়ে করল গতবারের চ্যাম্পিয়ন ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স।
নারিনের কেরামতি
বৃষ্টির কারণে ম্যাচের ওভার কমলেও জয়ের যোগ্য দল হিসেবেই ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ে ত্রিনবাগো। সেন্ট ভিনসেন্টের আর্নোস ভেল গ্রাউন্ডে টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ত্রিনবাগো অধিনায়ক। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নারিন এবং টেরেন্স হাইন্ডসের বোলিং তোপের মুখে পড়ে সেন্ট কিটস। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে মাত্র ১০৯ রান তোলে তারা। বৃষ্টির কারণে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের সামনে ১৫ ওভারে ৭৬ রানের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। রান তাড়া করতে নেমে ১৫ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৯৪ রান তোলে নাইট রাইডার্স। ৩৫ বলে ৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন ম্যাথিউ ব্রিটজকে। ১৮ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হন জশুয়া দা সিলভা। এরপর নতুন করে ভারী বৃষ্টি শুরু হলে ম্যাচ আর চালানো সম্ভব হয়নি। ফলে ডিএলএস নিয়মে ১৯ রানে জয়ী ঘোষণা করা হয় ত্রিনবাগোকে।
দেখুন ভিডিও
২৪ বলের জাদুতে গুঁড়িয়ে গেল সেন্ট কিটস
সেন্ট কিটস ম্যাচটি কেবল বৃষ্টির কারণে হারেনি, আসল ধাক্কাটা এসেছিল নারিনের প্রথম স্পেলেই। ছক্কা মেরে ইনিংস শুরু করা আন্দ্রে ফ্লেচারকে (৬) শুরুতেই সাজঘরে ফেরান নারাইন। ওভারের শেষ বলেই এলবিডব্লিউ করেন কাইল মেয়ার্সকে (০)। চারে নামা অ্যালিক অ্যাথানেজকেও (০) বেশিক্ষণ টিকতে দেননি তিনি। মাত্র ১৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই ব্যাকফুটে চলে যায় সেন্ট কিটস। ৪ ওভারে ১টি মেডেনসহ ৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নারাইনের এমন বোলিং পরিসংখ্যান রূপকথার মতো। তার ২৪টি বৈধ ডেলিভারির মধ্যে ২১টি বলেই কোনো রান করতে পারেননি ব্যাটাররা! অর্থাৎ, তার পুরো স্পেলে মাত্র ৩টি বল থেকে রান তুলতে পেরেছে প্রতিপক্ষ।
অন্যান্য বোলারদের যোগ্য সঙ্গ
নারিন ধ্বংসযজ্ঞ চালালেও অন্য বোলাররাও তাকে দারুণ সঙ্গ দেন। টেরেন্স হাইন্ডস ৩৩ রানে ৩ উইকেট নেন। অন্যদিকে ডমিনিক ড্রেকস ২০ রানে নেন ২ উইকেট। আকিল হোসেন কোনো উইকেট না পেলেও ৪ ওভারে মাত্র ২৩ রান দিয়ে ১৫টি ডট বল করেন। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারিয়ে একের পর এক ধাক্কা খেতে থাকা সেন্ট কিটসের হয়ে কেভিন উইকহ্যাম সর্বোচ্চ ৩৮ (৪৪ বল) রান করেন। এ ছাড়া অশ্মীদ নেড ১৮ ও ওবেড ম্যাককয় অপরাজিত ১৩ রান করলে কোনও মতে ১০০ পেরোয় দল।
রান তাড়া করে নাইটদের সহজ জয়
১৫ ওভারে ৭৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে কোনো তাড়াহুড়ো করেনি নাইট রাইডার্সের ওপেনিং জুটি। কোলিন মানরো (১৭) এবং অ্যালেক্স হেলস (৯) দ্রুত ফিরলেও ডিএলএস পার স্কোরের চেয়ে শুরু থেকেই এগিয়ে ছিল দল। এরপর তৃতীয় উইকেটে ম্যাথিউ ব্রিটজকে এবং জশুয়া দা সিলভার ৫০ রানের সংযমী জুটি ত্রিনবাগোর জয় সুনিশ্চিত করে। ইনিংসের ১৫ ওভার শেষে নাইট রাইডার্সের স্কোর যখন ২ উইকেটে ৯৪, তখন ফের মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ডিএলএস নিয়মে ইনিংসের পার্থক্য দাঁড়ায় ১৯ রানে এবং পূর্ণ ২ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।


