ভিভিএস লক্ষ্মণ ভারতীয় ক্রিকেটে আরও বড় কোনও দায়িত্ব পেতে পারেন। বিসিসিআই যখন সেপ্টেম্বরে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে সম্ভাব্য রদবদলের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই এই বিষয়টি সামনে এল। সিনিয়র নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে অজিত আগরকরের মেয়াদ সেপ্টেম্বরে শেষ হতে চলেছে এবং জাতীয় দলের কোচিং কাঠামো নিয়েও পর্যালোচনা চলছে।
ভারতের প্রাক্তন ব্যাটার এবং বর্তমানে বিসিসিআই-এর 'সেন্টার অফ এক্সিলেন্স'-এর প্রধান ভিভিএস লক্ষ্মণ ভারতীয় ক্রিকেটে আরও বড় কোনও দায়িত্ব পেতে পারেন। বিসিসিআই যখন সেপ্টেম্বরে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে সম্ভাব্য রদবদলের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই এই বিষয়টি সামনে এল। সিনিয়র নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে অজিত আগরকরের মেয়াদ সেপ্টেম্বরে শেষ হতে চলেছে এবং জাতীয় দলের কোচিং কাঠামো নিয়েও পর্যালোচনা চলছে। এমতাবস্থায় বোর্ড বড় ধরনের কিছু পরিবর্তন আনতে পারে। সূত্র মারফত 'ইন্ডিয়া টুডে' জানতে পেরেছে যে, লক্ষ্মণকে 'ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট' বা ক্রিকেট পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এরই মধ্যে এমন খবরও শোনা যাচ্ছে যে, বিসিসিআই আগরকরের মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে।
এই প্রস্তাবিত পদক্ষেপটি বেঙ্গালুরুর 'সেন্টার অফ এক্সিলেন্স'-এ লক্ষ্মণের বর্তমান দায়িত্বের উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ ঘটাবে, যেখানে তিনি খেলোয়াড়দের দক্ষতা উন্নয়ন এবং 'হাই-পারফরম্যান্স' কর্মসূচিগুলোর তদারকি করছেন। তবে এই নিয়োগ বা প্রস্তাবিত পদের সুনির্দিষ্ট কাঠামো নিয়ে বিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। লক্ষ্মণ ইতিমধ্যেই সিনিয়র দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত রয়েছেন এবং প্রয়োজনে অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্বও পালন করেছেন। অতি সম্প্রতি ইংল্যান্ড সফরের পর গৌতম গম্ভীর ও তাঁর নিয়মিত সাপোর্ট স্টাফদের বিশ্রামে পাঠানোর সময় লক্ষ্মণ তরুণ ভারতীয় দলকে জিম্বাবুয়েতে ৩-০ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিততে সহায়তা করেছিলেন।
'ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট' পদের অর্থ কী?
যদিও সুনির্দিষ্ট দায়িত্বগুলো বিসিসিআই-এর চূড়ান্ত কাঠামোর উপর নির্ভর করবে, তবে 'ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট' হিসেবে লক্ষ্মণ ভারতের সামগ্রিক ক্রিকেট কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসতে পারেন। এই পদের মাধ্যমে সিনিয়র দল, নির্বাচক, কোচ, সেন্টার অফ এক্সিলেন্স এবং ভারতের খেলোয়াড় তৈরির বিভিন্ন স্তরের মধ্যে সমন্বয় সাধনের কাজ করা হতে পারে। এছাড়া প্রতিভা খোঁজা, খেলোয়াড়দের দক্ষতা উন্নয়ন এবং হাই-পারফরম্যান্স পরিকল্পনার মতো বিষয়গুলোতে আরও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হতে পারে। এটি লক্ষ্মণের 'সেন্টার অফ এক্সিলেন্স'-এ করা কাজেরই একটি স্বাভাবিক সম্প্রসারণ হবে, কারণ তিনি সেখানে সিনিয়র এবং খেলোয়াড় তৈরির প্রক্রিয়ার (পাথওয়ে সিস্টেম) অন্তর্ভুক্ত খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করেছেন।
সেপ্টেম্বর মাস কেন গুরুত্বপূর্ণ?
এই সম্ভাব্য পদক্ষেপের সময়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রধান নির্বাচক হিসেবে আগরকরের মেয়াদ সেপ্টেম্বরে শেষ হতে চলেছে, যার ফলে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে নির্বাচক কাঠামোর বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। পাশাপাশি, ভারতের সাম্প্রতিক ফলাফল এবং সামগ্রিক কোচিং কাঠামো নিয়েও পর্যালোচনা চলছে। জিম্বাবুয়ে সফরে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে লক্ষ্মণের সাফল্য তাঁর ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও তিনি নিজেই এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তাঁর মূল মনোযোগ ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’ (CoE)-এর কাজের উপরই রয়েছে। ২০২৪ সালে রাহুল দ্রাবিড়ের উত্তরসূরি হিসেবে ভারতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পরিবর্তে বিসিসিআই-এর পুনর্গঠিত ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’-এর নেতৃত্ব গ্রহণ করেছিলেন লক্ষ্মণ। এরপর থেকে ভারতীয় ক্রিকেটে খেলোয়াড় তৈরির কাঠামোয় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন এবং সম্প্রতি খেলোয়াড়দের বারবার চোট পাওয়া নিয়ে ওঠা প্রশ্নের মুখে ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’-এর বৃহত্তর উদ্দেশ্যের পক্ষে জোরাল অবস্থান নিয়েছেন।

