যোগী সরকারের নীতির ফলে উত্তরপ্রদেশের রিয়েল এস্টেট সেক্টরে বড়সড় উত্থান ঘটেছে। ২০২৫ সালে বিনিয়োগ ৪৪ হাজার কোটি থেকে বেড়ে ৬৮ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। টাউনশিপ নীতি, ধর্মীয় পর্যটন এবং ছোট শহরের উন্নয়ন বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে।
উত্তরপ্রদেশে রিয়েল এস্টেটের ছবি দ্রুত বদলাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বে কার্যকর করা নীতির প্রভাব এখন পরিসংখ্যানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। রাজ্যে গত এক বছরে রিয়েল এস্টেট সেক্টরে ৫৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে নতুন করে মজবুত করেছে।
এক বছরে বিনিয়োগে রেকর্ড ভাঙল
উত্তরপ্রদেশ রিয়েল এস্টেট রেগুলেটরি অথরিটি (ইউপি সেরা)-র রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রাজ্যে ৬৮ হাজার ৩২৮ কোটি টাকার পুঁজি বিনিয়োগ হয়েছে। ২০২৪ সালে এই অঙ্ক ছিল ৪৪ হাজার ৫২৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক বছরেই বিনিয়োগে ৫৩.৫ শতাংশের প্রভাবশালী বৃদ্ধি ঘটেছে। এই সময়ে রাজ্যে ৩০৯টি নতুন রিয়েল এস্টেট প্রকল্প নথিভুক্ত হয়েছে, যা রাজ্য সরকারের নীতির ওপর বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান আস্থা দেখাচ্ছে।
টাউনশিপ নীতির পরিবর্তনই গেমচেঞ্জার
রিয়েল এস্টেটের এই উত্থানের পিছনে সরকারের টাউনশিপ নীতিতে আনা বড় পরিবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। গত বছর সরকার টাউনশিপ তৈরির জন্য ন্যূনতম ২৫ একরের বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়ে বিল্ডারদের ১২.৫ একরেও টাউনশিপ তৈরির অনুমতি দেয়। নতুন নীতিতে প্রকল্পের সময়সীমাও স্পষ্ট করা হয়েছে। ২৫ একরের টাউনশিপ তিন বছরে এবং তার চেয়ে বড় টাউনশিপ সর্বোচ্চ পাঁচ বছরে শেষ করার নিয়ম করা হয়েছে। আগের নীতিতে অনেক প্রকল্প ৮ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত আটকে থাকত, যার ফলে বরাদ্দকারীদের টাকা আটকে যেত। নীতির এই পরিবর্তনে বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বাড়ির ক্রেতারাও স্বস্তি পেয়েছেন।
এনসিআর ছাড়িয়ে বিনিয়োগের পরিধি বাড়ল
আগে উত্তরপ্রদেশের রিয়েল এস্টেটে এনসিআর-এর প্রধান ভূমিকা ছিল বলে মনে করা হত, কিন্তু এখন ছবিটা বদলাচ্ছে। ২০২৫ সালে নথিভুক্ত ৩০৮টি প্রকল্পের মধ্যে ১২২টি এনসিআর অঞ্চলে এবং ১৮৬টি প্রকল্প নন-এনসিআর জেলাগুলিতে অনুমোদিত হয়েছে। এই প্রবণতা দেখায় যে সরকারের পরিকাঠামো উন্নয়ন, উন্নত সড়ক ও এক্সপ্রেসওয়ে সংযোগ এবং টায়ার-২ শহরগুলির প্রসারের প্রভাব এখন রিয়েল এস্টেট সেক্টরেও দেখা যাচ্ছে।
রাজধানী লখনউ রিয়েল এস্টেটের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে
রাজ্যের রাজধানী লখনউ ২০২৫ সালে রিয়েল এস্টেটের একটি বড় কেন্দ্র হিসেবে উঠে এসেছে। এখানে ৬৭টি প্রকল্প নথিভুক্ত হয়েছে। অন্যান্য শহরগুলির মধ্যে বেরেলিতে ১৫টি এবং আগ্রায় ১৪টি প্রকল্প নথিভুক্ত হয়েছে। এছাড়া বুলন্দশহর, রামপুর, চান্দৌলি, উন্নাও, গোন্ডা, মউ এবং মির্জাপুরের মতো জেলাগুলিতেও নতুন প্রকল্পের জন্য বিনিয়োগ বেড়েছে, যা ছোট শহরগুলির ক্রমবর্ধমান চাহিদা দেখাচ্ছে।
ধর্মীয় পর্যটন রিয়েল এস্টেটকে গতি দিয়েছে
রাজ্যে ধর্মীয় পর্যটনের প্রসার রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকে নতুন দিশা দিয়েছে। ২০২৫ সালে মথুরায় ২৩টি, অযোধ্যায় ৫টি, বারাণসীতে ৯টি এবং প্রয়াগরাজে ৭টি প্রকল্প নথিভুক্ত হয়েছে। উন্নত সংযোগ ব্যবস্থা, নগর পুনর্গঠন প্রকল্প এবং ভক্ত ও পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা এই শহরগুলিকে রিয়েল এস্টেট উন্নয়নের নতুন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছে।
বদলে গেল উত্তরপ্রদেশের রিয়েল এস্টেটের ছবি
সব মিলিয়ে, নীতিগত সংস্কার, সময়মতো প্রকল্প শেষ করা, ধর্মীয় পর্যটন এবং ছোট শহরগুলির উন্নয়ন উত্তরপ্রদেশের রিয়েল এস্টেট সেক্টরকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। বিনিয়োগের ক্রমবর্ধমান পরিসংখ্যান এই ইঙ্গিত দেয় যে রাজ্য এখন রিয়েল এস্টেটের ক্ষেত্রেও দেশের প্রথম সারির রাজ্যগুলির ভাবে নিজের জায়গা করে নিচ্ছে।


