২০২৭ সালের বিধানসভা ভোটের দিকে তাকিয়ে মন্ত্রিসভা বাড়ালেন যোগী আদিত্যনাথ। নতুন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন ভূপেন্দ্র সিং চৌধুরী এবং সমাজবাদী পার্টি থেকে আসা মনোজ পাণ্ডের মতো নেতারা। এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন সপা প্রধান অখিলেশ যাদব।
২০২৭ সালের বিধানসভা ভোটের আগে উত্তরপ্রদেশ সরকারে বড়সড় রদবদল। রবিবার নিজের মন্ত্রিসভা বাড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। লখনউয়ের জন ভবনে বেশ কয়েকজন নতুন মন্ত্রীকে শামিল করে প্রশাসনিক দল আরও শক্তিশালী করলেন তিনি।

মন্ত্রিসভায় রদবদল, এলেন নতুন মুখ
প্রাক্তন রাজ্য বিজেপি সভাপতি ভূপেন্দ্র সিং চৌধুরী এবং বিজেপি নেতা মনোজ কুমার পাণ্ডে এদিন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। মনোজ পাণ্ডে সম্প্রতি সমাজবাদী পার্টি (সপা) ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। এছাড়াও মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন কৃষ্ণ পাসওয়ান, সুরেন্দ্র ডিলের, হংসরাজ বিশ্বকর্মা এবং কৈলাশ সিং রাজপুত।
শুধু নতুন মুখই নয়, অজিত সিং পাল এবং সোমেন্দ্র তোমারকে স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী পদে উন্নীত করেছেন যোগী। রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেল তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান।
এদিন মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের আগে লোক ভবনে রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেলের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ নিয়ে অখিলেশের কটাক্ষ
২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবেই এই রদবদল দেখছে রাজনৈতিক মহল। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট রাজ্যে টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার লক্ষ্যে এগোচ্ছে। এদিকে, এই ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এক্স হ্যান্ডেলে (আগের টুইটার) তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি নতুন মন্ত্রীদের যোগ্যতা এবং এই সম্প্রসারণের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
বিজেপির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি লিখেছেন, "ইউপি মন্ত্রিসভায় মাত্র ৬টি পদ খালি, অথচ অন্য দল থেকে এর চেয়ে বেশি লোক বিজেপিতে এসেছে। তাদের সবাইকেই কি মন্ত্রী করা হবে?"
তিনি আরও প্রশ্ন করেন, "তাদের মধ্যে থেকে কি সবচেয়ে দুর্বলকে বেছে নেওয়া হবে, যাতে তার দুর্বলতা কিছুটা কমে?" পাশাপাশি প্রতিনিধিত্ব নিয়েও খোঁচা দিয়ে বলেন, "যদি কোনও সম্প্রদায়ের একাধিক বিধায়কের মধ্যে থেকে একজনকে বেছে নেওয়া হয়, তার ভিত্তি কী হবে?"
দলবদলুদের ভবিষ্যৎ নিয়েও কটাক্ষ করেন অখিলেশ। তিনি জানতে চান, "যারা দলবদল করে এসেও মন্ত্রী হতে পারল না, তাদের কী হবে? অবহেলা আর অপমান কি কিছু লেনদেনের মাধ্যমে শান্ত করা হবে?" তিনি আরও যোগ করেন, "বাকিরা কি নিজেদের চূড়ান্ত প্রতারিত মনে করবে না?"
বিজেপির অন্দরের ক্ষোভ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, যারা "বছরের পর বছর ধরে" মন্ত্রী হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন, নতুনদের আগমনে তাদের কী হবে?
যোগী ২.০ সরকারের দ্বিতীয় সম্প্রসারণ
যোগী ২.০ সরকারের আমলে এটি দ্বিতীয় মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ। এর আগে সরকার গঠনের প্রায় দু'বছর পর, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে প্রথমবার মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করা হয়েছিল।

