এই অভিযানের মূল অংশ ছিল ইওএস-এন১ অন্বেষা, যা প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) দ্বারা নির্মিত একটি হাইপারস্পেকট্রাল উপগ্রহ। অন্বেষা উপগ্রহটি উন্নত পৃথিবী পর্যবেক্ষণ অ্যাপ্লিকেশনের জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল।

ভালভাবে উৎক্ষেপণ হলেও শেষরক্ষা হল না। মহাকাশে একসঙ্গে ১৬টি স্যাটেলাইট পাঠাতে ব্যর্থ হল ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। তাদের পিএসএলভি-সি৬২ মিশনটি ব্যর্থ হয়েছে। সোমবার সকালে শ্রীহরিকোটা থেকে এক দর্শনীয় উৎক্ষেপণের পরেও ১৬টি উপগ্রহের সবগুলোই মহাকাশে হারিয়ে গিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। ২৬০-টন ওজনের পিএসএলভি-ডিএল ভারতীয় সময় সকাল ১০:১৭ মিনিটে গর্জন করে আকাশের দিকে ছুটে যায় এবং প্রথম দুটি পর্যায় ও বিচ্ছেদ পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে কাজ করে, যা দেশজুড়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। তবে, তৃতীয় পর্যায়ের ইগনিশনের পর মিশন কন্ট্রোল রুমে নীরবতা নেমে আসে এবং কোনও টেলিমেট্রি আপডেট না আসায় গত বছরের পিএসএলভি-সি৬১ বিপর্যয়ের মতোই কক্ষপথে স্থাপনে ব্যর্থতা নিশ্চিত হয়।

এই অভিযানের মূল অংশ ছিল ইওএস-এন১ অন্বেষা, যা প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) দ্বারা নির্মিত একটি হাইপারস্পেকট্রাল উপগ্রহ। অন্বেষা উপগ্রহটি উন্নত পৃথিবী পর্যবেক্ষণ অ্যাপ্লিকেশনের জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল। পাশাপাশি আরও ১৫টি কৃত্রিম উপগ্রহকে সোমবার মহাকাশে পৌঁছে দিত পিএসএলভি রকেট। যার মধ্যে রয়েছে ভারতীয় বেসরকারি সংস্থা ‘ধ্রুব স্পেস’-এর সাতটি কৃত্রিম উপগ্রহও। এ ছাড়া ফ্রান্স, নেপাল, ব্রাজ়িলের কৃত্রিম উপগ্রহ-সহ মোট আটটি কৃত্রিম উপগ্রহ। এই ১৬টি উপগ্রহকে ৫০৫ কিলোমিটার উচ্চতায় সান-সিনক্রোনাস অরবিটে (SSO) স্থাপন করার কথা ছিল।

যানটি সলিড বুস্টার বিচ্ছেদ নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করলেও উৎক্ষেপণের প্রায় আট মিনিট পর তৃতীয় পর্যায়ে ত্রুটির কারণে অগ্রগতি থেমে যায়, যা সি৬১-এর চেম্বারের চাপ কমে যাওয়ার ঘটনারই প্রতিচ্ছবি, যা ইওএস-০৯-কে ধ্বংস করেছিল। ইসরো তার নির্ধারিত পথ থেকে উড়ানের বিচ্যুতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ইসরো একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বলেছে, পিএসএলভি-সি৬২ মিশনের পিএস৩ পর্যায়ে শেষে একটি ত্রুটি দেখা দিয়েছে। একটি বিস্তারিত তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

এটি আট মাসের মধ্যে পিএসএলভি-র দ্বিতীয় বিরল ব্যর্থতা। যা ৬৩টি পূর্ববর্তী উড়ানের ৯৪% সাফল্যের ঐতিহ্যে আঘাত হেনেছে, যেগুলোর মাধ্যমে চন্দ্রযান-১ এবং আদিত্য-এল১ উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। নতুন বছরের শুরুতেই ইসরোর এই ব্যর্থতা তাদের ভরসার প্রতি প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। কারণ, এতে করে বাণিজ্যিক রাইডশেয়ারিং সমস্যায় পড়তে পারে। যা ভারতের বেসরকারি মহাকাশ বাস্তুতন্ত্রের বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলবে।