WhatsApp Scam: হোয়াটসঅ্যাপে একটা মেসেজ! তারপরেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফাঁকা? সাবধান
WhatsApp Scam: ব্যাঙ্ক থেকে টাকা কাটার ভুয়ো হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ আসছে। তাই সাবধান হোন এখন থেকেই। বলা হচ্ছে, আপনি না কাটলে 'NO' লিখে রিপ্লাই দিন। সত্যিই কি রিপ্লাই দিলে টাকা গায়েব হয়?

'NO' লিখে রিপ্লাই দিলেই কি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফাঁকা?
হোয়াটসঅ্যাপে হঠাৎ মেসেজ এল, আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কাটা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই যে কেউ ভয় পেয়ে যাবেন। আপনি যদি সেই লেনদেন না করে থাকেন, তবে মেসেজে বলা হয় দ্রুত 'NO' লিখে রিপ্লাই দিতে। আর এতেই বাড়ে আতঙ্ক। গত ১২ অক্টোবর, হায়দ্রাবাদের পুলিশ কমিশনার ভি.সি. সজ্জনার এই ভুয়ো মেসেজ নিয়ে সবাইকে সতর্ক করেছেন। তিনি জানান, এক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট সহ বেশ কয়েকজনকে টার্গেট করা হয়েছে। 'NO' লিখে রিপ্লাই দেওয়ায় তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফাঁকা হয়ে যায়।
সাইবার বিশেষজ্ঞরা এই জালিয়াতির নাম দিয়েছেন 'অটো এক্সিকিউশন ফাইল অ্যাটাক'। তবে শুধু 'NO' লিখে রিপ্লাই দিলেই যে ম্যালওয়্যার নিজে থেকে ইনস্টল হয়ে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খালি করে দেবে, প্রযুক্তিগতভাবে এই দাবির কোনও স্বাধীন সত্যতা এখনও মেলেনি। তাই পুলিশের এই সতর্কতা আমাদের একদমই এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। আবার সাধারণ একটা হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের রিপ্লাই দিলেই যে ফোন হ্যাক হয়ে যাবে, সেটাও নিশ্চিত করে বলা যায় না।

কীভাবে পাতা হয় এই জালিয়াতির ফাঁদ?
প্রথমে অচেনা নম্বর থেকে আপনার হোয়াটসঅ্যাপে একটা মেসেজ আসবে। সেখানে লেখা থাকবে, আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে বেশ কিছু টাকা কাটা হয়েছে। আপনি যদি সেই লেনদেন না করে থাকেন, তবে দ্রুত 'NO' লিখে রিপ্লাই দিতে বলা হবে। টাকা খোয়ানোর ভয়ে অনেকেই সত্যিটা যাচাই না করে সঙ্গে সঙ্গে রিপ্লাই দিয়ে ফেলেন।
প্রতারকরা মূলত ভয় দেখিয়ে আপনাকে দিয়ে তাড়াহুড়ো করে কাজ করিয়ে নিতে চায়। সত্যিই টাকা কাটা হয়েছে কি না, সেটা যাচাই করার আগেই তারা আপনাকে ফাঁদে ফেলে। সন্দেহজনক মেসেজের রিপ্লাই দেওয়া ছাড়াও, লিঙ্কে ক্লিক করা, অচেনা অ্যাপ ইনস্টল করা বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করলে বিপদ আরও বাড়তে পারে।
তবে শুধু 'NO' লিখে রিপ্লাই দিলেই যে প্রযুক্তিগতভাবে এই জালিয়াতি সম্ভব, বিশেষজ্ঞরা এখনও তা নিশ্চিত করতে পারেননি। তাই পুলিশের সতর্কতা এবং প্রযুক্তিগত দাবির মধ্যে পার্থক্যটা বোঝা খুব জরুরি।
'NO' লিখে রিপ্লাই দিলেই কি ফোন হ্যাক হয়?
হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ম্যালওয়্যার ছড়ানোর ঘটনা কিন্তু একেবারেই কাল্পনিক নয়। সাইবার অপরাধীরা ক্ষতিকারক ফাইল, ভুয়ো অ্যাপ, প্রতারণামূলক লিঙ্ক এবং সফটওয়্যারের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ফোনে হামলা চালাতে পারে। যেমন ধরুন, ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট বা জরুরি নথির নামে আসা কোনও সন্দেহজনক ফাইল খুললে বা অচেনা ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করলে বিপদ হতে পারে।
কিন্তু সাধারণ পরিস্থিতিতে হোয়াটসঅ্যাপে একটা টেক্সট মেসেজের রিপ্লাই দিলেই যে ম্যালওয়্যার নিজে থেকে ইনস্টল হয়ে যাবে, তার কোনও শক্ত প্রযুক্তিগত প্রমাণ নেই। ওই নির্দিষ্ট ঘটনায় ঠিক কীভাবে টাকা গায়েব হয়েছিল, তা আলাদাভাবে তদন্ত করে দেখা দরকার। তাই 'NO' লিখে রিপ্লাই দিলেই যে টাকা চুরি যাবে, এমনটা ভেবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তবে অচেনা নম্বর থেকে আসা ব্যাঙ্কের লেনদেন সংক্রান্ত মেসেজে তাড়াহুড়ো করে রিপ্লাই দেওয়া থেকে বিরত থাকাই ভালো।
হোয়াটসঅ্যাপ জালিয়াতি থেকে টাকা বাঁচাবেন কীভাবে?
ব্যাঙ্ক থেকে টাকা কাটার হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ এলে প্রথমেই ভয় পাবেন না। সত্যিটা যাচাই করুন। সুরক্ষিত থাকতে এই নিয়মগুলো মেনে চলুন:
১. সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট চেক করুন:
সন্দেহজনক মেসেজের লিঙ্কে ক্লিক করবেন না। নিজে থেকে ব্যাঙ্কের অফিসিয়াল অ্যাপ বা ওয়েবসাইট খুলে লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য দেখে নিন।
২. অচেনা নম্বরে রিপ্লাই দেবেন না:
ব্যাঙ্কের লেনদেন নিশ্চিত করতে বলা সন্দেহজনক মেসেজে 'YES' বা 'NO' লিখে রিপ্লাই দেওয়া এড়িয়ে চলুন। নম্বরটি ব্লক করুন এবং হোয়াটসঅ্যাপে রিপোর্ট করুন।
৩. সন্দেহজনক ফাইল খুলবেন না:
ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট, পেমেন্ট রসিদ বা জরুরি নথির নামে আসা অপ্রত্যাশিত ফাইল খোলার আগে তার সত্যতা যাচাই করুন। অচেনা ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপ ইনস্টল করবেন না।
৪. ব্যাঙ্কের গোপন তথ্য শেয়ার করবেন না:
ওটিপি (OTP), এটিএম পিন (ATM PIN), ব্যাঙ্কের পাসওয়ার্ড বা কার্ডের সিভিভি (CVV) কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না। অচেনা কাউকে স্ক্রিন শেয়ার করার বা দূর থেকে ফোন নিয়ন্ত্রণ করার অনুমতি দেবেন না।
৫. ফোন আপডেট রাখুন:
ফোনের অপারেটিং সিস্টেম এবং অ্যাপগুলো সবসময় আপডেট রাখুন। সন্দেহজনক কোনও অ্যাপ আগে থেকেই ইনস্টল করা থাকলে, তার পারমিশন চেক করুন এবং প্রয়োজনে প্রযুক্তিগত সাহায্য নিন।
ব্যাঙ্ক থেকে টাকা চুরি গেলে কী করবেন?
আপনার অজান্তেই যদি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা গায়েব হয়ে যায়, তবে কীভাবে হল সেটা বোঝার জন্য অপেক্ষা করবেন না। সঙ্গে সঙ্গে ব্যাঙ্ক এবং সাইবার ক্রাইম সেলে যোগাযোগ করুন।
১৯৩০ সাইবার ক্রাইম হেল্পলাইন:
অনলাইনে আর্থিক জালিয়াতির শিকার হলে ভারতে দ্রুত ১৯৩০ (1930) জাতীয় সাইবার ক্রাইম হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করুন।
অফিসিয়াল ওয়েবসাইট:
cybercrime.gov.in ওয়েবসাইটে গিয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন। অভিযোগ করার সময় লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য, ব্যাঙ্কের নাম, ট্রানজ্যাকশন নম্বর, সন্দেহজনক ফোন নম্বর এবং মেসেজের স্ক্রিনশট প্রমাণ হিসেবে হাতের কাছে রাখুন।
সঙ্গে সঙ্গে ব্যাঙ্ককে জানান:
ব্যাঙ্কের অফিসিয়াল কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করে এই অননুমোদিত লেনদেনের কথা জানান। অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত করতে এবং জালিয়াতির তদন্ত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করুন।
আপনি যদি কোনও সন্দেহজনক ফাইল ডাউনলোড করে থাকেন, অচেনা অ্যাপ ইনস্টল করেন বা ফোন নিয়ন্ত্রণের অনুমতি দিয়ে থাকেন, তবে অন্য একটি সুরক্ষিত ডিভাইসের সাহায্যে ব্যাঙ্কের তথ্য সুরক্ষিত করুন এবং প্রযুক্তিগত সাহায্য নিন।
দেরি না করে অভিযোগ জানালে খোয়া যাওয়া টাকা খুঁজে পেতে এবং জালিয়াতি আটকাতে সুবিধা হয়। তবে টাকা ফেরত পাওয়ার কোনও ১০০ শতাংশ গ্যারান্টি নেই।
মনে রাখবেন: ব্যাঙ্ক থেকে টাকা কাটার দাবি করা প্রতিটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ বিশ্বাস করবেন না। একইভাবে, 'NO' লিখে রিপ্লাই দিলেই টাকা গায়েব হয়ে যাবে, এই দাবিকেও ধ্রুব সত্য বলে ধরে নেওয়ার দরকার নেই। অফিসিয়াল মাধ্যমে আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট চেক করুন এবং সন্দেহজনক মেসেজ এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

