করোনার সংক্রমণে  ত্রস্ত গোটা বিশ্ব। একে অপরের ছোঁয়া বাঁচিয়ে পথ  চলতে ব্যস্ত। তখন সহমর্মিতার অন্য গল্প শোনালেন মার্কিন তরুণী। আর ট্যুইটার হ্যান্ডেল থেকে নিজের অভিজ্ঞতার গল্প শুনিয়ে রীতিমত জনপ্রিয় তিনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওরিগনের বাসিন্দা রেবেকা মেহেরা।  সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেকে পেশাদার দৌড়বিদ বলেই পরিচয় দিয়েছেন। 

আরও পড়ুনঃ করোনার সংক্রমণ রুখতে রীতিমত গানের তালে পা মেলাল কেরল পুলিশ, ভাইরাল সেই ভিডিও

আরও পড়ুনঃ করোনা সংক্রমণ এবার ভারতীয় সেনার অন্দরে, লেহতে মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হলেন জওয়ান

আরও পড়ুনঃ পরীক্ষার ত্রুটির মাশুল গুনছে ইমরানের দেশ, একলাফে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ২৩৭

রেবেকা মেহরা জানিয়েছেন গত ১২ মার্চের ঘটনা। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার জন্য একটি রেশন দোকানে ঢুকতে যাবেন তিনি। গাড়ি দাঁড় করানোর সঙ্গে সঙ্গে আচমকাই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা  একটি গাড়ি থেকে চিৎকার করে ডেকে ওঠেন এক বৃদ্ধ মহিলা। গাড়ি থেকে নেমে রেবাকা বৃদ্ধার গাড়ির সামনে যান। দেখেন গাড়িতে বৃদ্ধার সঙ্গে রয়েছে তাঁর স্বামীও। দুজনেই বয়সের ভারে ন্যুজ্ব। দুজনেরও চোখে জল। জলভরা চোখে আর ভাঙা গলায় বদ্ধ দম্পতি রেবেকার দিকে সাহায্য চেয়ে হাত বাড়িয়ে দেন। দুজনেই বলেন, ভিড়ে ঠাসা দোকানে ঢুকতে তাঁরা রীতিমত ভয় পাচ্ছেন। কারণ তাঁরা শুনেছেন ভিড় থেকে ছড়িয়ে পড়ছে করোনার সংক্রমণ। আর প্রথমেই সংক্রমিত হচ্ছে বয়স্ক মানুষ। তাঁদের দেখার আর কেউ নেই। তাই ভিড়ে ঠাসা দোকানে ঢুকতে তাঁরা ভয় পাচ্ছেন। রেবেকা যদি তাঁদের প্রয়োজনী নিত্য দ্রব্য গুলি কিনে দেন তাহলে খুব ভালো হয়। পাশাপাশি বৃদ্ধ দম্পতি তাঁকে আরও জানান, ৪৫ মিনিট ধরে তাঁরা গাড়িতে বসে রয়েছেন। কিন্তু কেউ  তাঁদের ডাকে সাড়া দেয়নি। দম্পতির কাতর আবেদনে সাড়া দিয়ে বাজার করে দিতে রাজি হয়ে যান রেবেকা। বৃদ্ধা ফর্দ আর একশো ডলার তুলে দেন রেবেকার হাতে। রেবেকাও তাঁদের প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে গাড়িতে তুলে দেন। 

 

নিজের অভিজ্ঞতার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন রেবেকা। পাশাপাশি তিনি আরও বলেছেন, এই সময়টা সত্যই খুবই আতঙ্কের। রীতিমত সচেতনতা অবলম্বন করে চলা উচিৎ। কিন্তু কোনও মানুষ সাহায্য চাইলে এগিয়ে যাওয়াই কর্তব্য । কারণ এমন অনেক মানুষ আছেন যাঁদের পাশে দাঁড়ানোর কেউ নেই। 

নিজের গল্প বলে নেটিজেনদের মন কেড়ে নিয়েছেন রেবেকা। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর গল্পের ভিউয়ারের সংখ্যা ১১০ লক্ষ।  এখানেই শেষ নয়। মার্কিন সংবাদ মাধ্যমেও রীতিমত জায়গা করে নিয়েছেন রেবেকা মেহরা।