দিল্লির পরিস্তিতির দিকে নজর রাখছে ওয়াশিংটন। এতদিন, সিএএ বিরোধীতারা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালাচ্ছিলেন। এবার সেই সিএএ সমর্থকদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে পরিস্থিতি একেবারে অগ্নিগর্ভ। এই অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তাঁর ভারত সফর শেষ রপে দেশে ফিরতেই মার্কিন প্রশাসন বুধবার তাদের নাগরিকদের ভারতে বাড়তি 'সাবধানতা অবলম্বন' করার পরামর্শ দিল।

আরও পড়়ুন - অবশেষে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী, দিল্লিতে শান্তি ফেরাতে দিলেন ট্যুইট বার্তা

এদিন, এক দীর্ঘ সতর্কবার্তায় আমেরিকা তাদের নাগরিকদের উদ্দেশ্যে বলেছে, উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে যেভাবে হিংসা ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে ভারতে থাকা মার্কিন নাগরিকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত এবং হিংসা-ধ্বস্ত সমস্ত এলাকা এড়িয়ে চলা উচিত। কোথায় কোথায় হিংসা চলছে, কোথায় রাস্তা ও মেট্রো বন্ধ রাখা হয়েছে এবং কারফিউ জারি করা হয়েছে এই সমস্ত বিষয়ে সর্বশেষ খবরের জন্য নিয়মিত স্থানীয় গণমাধ্যমগুলিতে চোখ রাখতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে আরও বলা হয়েছে, উত্তরপূর্ব দিল্লির বেশ কিছু এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে ভারত সরকার চার বা তার বেশি লোকের জমায়েত নিষিদ্ধ করেছে। সেই সম্পর্কেও অবহিত থাকার কথা বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন - 'ইনশআল্লা, ইহাঁ পার আমন হোগা', হিংসা-ধ্বস্ত দিল্লিকে ভরসা দিলেন ডোভাল

এদিন মার্কিন প্রশাসন তাদের নাগরিকদের সুরক্ষায় এতকিছু পরামর্শ দিলেও, মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিন্তু তাঁর হোটেলের ২০ কিলোমিটারের মধ্যেই চলা এই হিংসাকে 'বিচ্ছিন্ন ঘটনা' বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে তাঁর কোনও কথা হয়নি বলেও জানান। নাগরিকত্ব আইন নিয়েও তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। বলেন, 'এটি ভারতের বিষয়'। নরেন্দ্র মোদী ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে বলেও মন্তব্য করেন।

আরও পড়ুন - অগ্নিগর্ভ দিল্লিতেও অদম্য কপিল, দিনভর বিজেপি নেতার টুইটে উস্কানির বন্যা

বিতর্কিত সিএএ আইন নিয়ে গত রবিবার থেকে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। তিন দিন ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। হিংসা ক্রমে তীব্রতর হয়েছে। এদিন পর্যন্ত ২৩ জন নিহত এবং প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছেন। এদিন অবশ্য আবহাওয়া তুলনায় ঠান্ডা। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল-ও হিংসা বিধ্বস্থ এলাকাগুলি পরিদর্শন করেন।