Ant Smuggling: বিমানবন্দরে বেআইনি জিনিস ধরা পড়ার খবর শুনলে প্রথমেই কী মনে হয়? পাচারের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে পিঁপড়েও। আর সেই পিঁপড়ের আন্তর্জাতিক বাজারদর শুনলে আরও বিস্মিত হতে হয়। ঘটনাটি কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।

Ant Smuggling: বিমানবন্দরে বেআইনি জিনিস ধরা পড়ার খবর শুনলে প্রথমেই কী মনে হয়? হয় বিপুল সংখ্যক নগদ টাকা কিংবা অবৈধ ড্রাগস, কোকেন পাচার করতে গিয়ে ধরা পড়ার কথা। কিংবা বন্যপ্রাণী পাচারের কথা উঠলে সাধারণত মনে পড়ে হাতির দাঁত, গন্ডারের শিং বা বিরল প্রাণীর কথা। কিন্তু এবার সামনে এল এমন এক ঘটনা, যা শুনে অবাক হয়েছেন অনেকেই। পাচারের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে পিঁপড়েও। আর সেই পিঁপড়ের আন্তর্জাতিক বাজারদর শুনলে আরও বিস্মিত হতে হয়। ঘটনাটি কেনিয়ার। রাজধানী নাইরোবির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক চমকপ্রদ পাচারকাণ্ড ফাঁস করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। চিনের ২৭ বছরের এক নাগরিক কেনিয়া থেকে তার দেশে আসার সময় নিজের লাগেজে লুকিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন হাজার হাজার জীবন্ত রানী পিঁপড়ে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

বিমানবন্দরে দু'হাজারের বেশি জীবন্ত পিঁপড়ে উদ্ধার যাত্রীর ব্যাগ থেকে

ধৃতের নাম ঝাং কেকুন। বিমানবন্দরে তল্লাশির সময় তাঁর ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ২২০০-রও বেশি জীবন্ত রানী পিঁপড়ে। তদন্তকারীদের দাবি, উদ্ধার হওয়া পিঁপড়ের অধিকাংশই আফ্রিকার বিরল প্রজাতির বিশাল আকৃতির হারভেস্টার পিঁপড়ে। এদের লালচে রং এবং আকারের জন্য আন্তর্জাতিক সংগ্রাহকদের কাছে বিশেষ চাহিদা রয়েছে। তদন্তে জানা যায়, পাচারের পরিকল্পনাও ছিল অত্যন্ত কৌশলী। প্রায় দুই হাজারের কাছাকাছি রানী পিঁপড়েকে বিশেষভাবে তৈরি টেস্ট টিউবের মধ্যে রাখা হয়েছিল, যাতে দীর্ঘ যাত্রাপথেও তারা বেঁচে থাকে। বাকিগুলিকে টিস্যু পেপারের রোলের মধ্যে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। প্রথম দেখায় যাতে এগুলি সাধারণ জিনিস বলে মনে হয়, সেই ভাবেই সাজানো হয়েছিল পুরো লাগেজ।

দেখুন ভিডিও

Scroll to load tweet…

রানী পিঁপড়ের বাজারদর আকাশছোঁয়া

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কেনিয়ার বাজারে এই পিঁপড়ের দাম খুবই কম। কিন্তু আন্তর্জাতিক অবৈধ বাজারে পরিস্থিতি একেবারে উল্টো। ইউরোপ, এশিয়া ও উত্তর আমেরিকার সংগ্রাহকদের কাছে একটি রানী পিঁপড়ের দাম কয়েকশো ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। সেই হিসেবে উদ্ধার হওয়া পিঁপড়েগুলির সম্ভাব্য বাজারমূল্য কয়েক লক্ষ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছতে পারত বলে অনুমান তদন্তকারীদের। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, পিঁপড়ে নিয়ে এমন ব্যবসা কেন?

পিঁপড়ের চাহিদা এত বেশি কেন

বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে 'অ্যান্ট কিপিং' বা পোষ্য হিসেবে পিঁপড়ের কলোনি তৈরি করার প্রবণতা দ্রুত বেড়েছে। বিশেষ ধরনের কাচের কাঠামো বা ফর্মিকারিয়ামে বহু মানুষ পিঁপড়ের সমাজব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। আর সেখানে সবচেয়ে বেশি মূল্যবান হল রানী পিঁপড়ে। কারণ একটি নিষিক্ত রানী একাই বহু বছরের জন্য একটি সম্পূর্ণ কলোনি গড়ে তুলতে পারে। কেনিয়ার বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের মতে, এটি শুধু পাচারের ঘটনা নয়, বরং জীববৈচিত্র্য লুটের নতুন রূপ। প্রচুর সংখ্যায় রানী পিঁপড়ে সরিয়ে নেওয়া হলে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের উপরও তার প্রভাব পড়তে পারে। মাটির গঠন, পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পিঁপড়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পাশাপাশি অন্য দেশে এই প্রজাতি পৌঁছে গেলে আগ্রাসী প্রজাতির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

ঠিক কোথায় ক্ষতি

এই ঘটনায় ঝাংয়ের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত আইন ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত পরে তাঁকে কারাদণ্ড ও জরিমানার নির্দেশ দেয়। তদন্তে স্থানীয় এক সরবরাহকারীর নামও উঠে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা এক অস্বস্তিকর বাস্তবও সামনে এনে দিয়েছে, বাজারে চাহিদা থাকলে এখন প্রায় যে কোনও জীবই অবৈধ বাণিজ্যের লক্ষ্য হয়ে উঠতে পারে। আর সেই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে ক্ষুদ্রতম প্রাণীরাও।