ভোট প্রচারে রাজ্যে এসেছেন মিমের প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। প্রথম দফা নির্বাচনের দিনেই তাঁর প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করার কথা। মুর্শিদাবাদের সগরদিঘির জনসভায় তিনি বলেন, গোটা দেশেই বিদ্বেষ ছড়িয়ে দিচ্ছে বিজেপি। যখন কোনও একটি মুসলিম শিশু জলের জন মন্দিরে গেলেও তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলতে দ্বিধা বোধ করে না কেউ। বর্তমানে দেশে মুসলিমদের জিহাদি বলা হয়। আদিবাসীদের বলা হয় নকশাল। আর যারা ধর্মনিরপেক্ষ তাদের বলা হয় দেশদ্রোহী। 

একই সঙ্গে স্বভাবসিদ্ধভঙ্গিতে ওয়াইসি নিশানা করেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও। মোদীর বাংলাদেশ সফরের কথা টেনে এনে বলেন, মোদী গতকাল বাংলাদেশ সফরে গিয়ে বলেছিলেন তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য ভারতে সত্যাগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু তাহলে কেন মুর্শিদাবাদের বাসিন্দাদের বাংলাদেশী বলা হচ্ছে। কেন মুসলিমদের উদ্দেশ্যে অশালীন কথা বলা হচ্ছে- এই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। 

হায়দ্রাবাদ থেকে উড়ে এসে মুর্শিদাবাদের মাটির সাগরদিঘী এলাকায় সভা করে শেষ পর্যন্ত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েও কোন এক অজানা কারণে প্রার্থী নিয়ে জল্পনা জিয়ে রাখলেন মিম প্রধান আসাউদ্দিন ওয়াইসি। পাশাপাশি এদিন সাগর দীঘির হাই স্কুল মাঠের মঞ্চ থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে তুলোধোনা করতে এতটুকুও ছাড় দিলেন না ওআইসি। শুরু থেকেই রনং দেহি ভূমিকায় তৃণমূলের আমলের বিগত ১০ বছরের খতিয়ান তুলে ধরে ভারতবর্ষের সবচেয়ে  সংখ্যালঘু মুসলিম অধ্যুষিত জেলা মুর্শিদাবাদ  কেন শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের দিক থেকে পিছিয়ে।পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য জেলার মুসলিমদের হাল-হকিকত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আসাউদ্দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা কে লক্ষ্য করেই। পাশাপাশি তিনি সমালোচনা করেন দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে  পশ্চিমবঙ্গের বাম ও কংগ্রেস জামানারও। 

পোলিং এজেন্ট নিয়ে আপত্তি, সুদীপের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ তৃণমূল ...

​​​​​​মোদীর বাংলাদেশ সফরে আপত্তি, খড়গপুরের জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রীর ভিসা বাতিলের আর্জি মমতার ...
প্রথম থেকেই এই রাজ্যে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল মিমের। আসাদউদ্দিন চেয়েছিলেন আব্বাস সিদ্দিকির সঙ্গে জোট বাঁধতে। তাঁকেই বাংলায় রাজনৈতিক নেতা বানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আব্বাস তাঁর সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিয়ে বাম ও কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সংযুক্ত মোর্চা তৈরি করে লড়াই করছে ভোটে। তারপর দীর্ঘ দিন চুপচাপ ছিলেন ওয়াইসি। তবে রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে আসতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু জনসভার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করে তার দলের সদস্যরা। ওয়াইসির এই নীরবতায় বাংলায় হতাশ হয়েছিলেন মিমের নেতারা। কিন্তু প্রথম দফা নির্বাচনের দিনেই ওয়াইসি রাজ্যে আসেন আর ভোটের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করার কথা ছিল। 


 এদিন সভা মঞ্চ থেকে জেলার ২২টি আসনের মধ্যে ১৩ টি আসনের তৃণমূল ও সংযুক্ত মোর্চার জোটের বিরুদ্ধে প্রার্থী ঘোষণার কথা থাকলেও। তিনি শেষ পর্যন্ত সমস্ত রকমের জল্পনা জিইয়ে রেখে আচমকাই সকল প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করলেন না। এর পরেই কলকাতার উদ্দেশ্যে রেলপথের ফিরে যাওয়ার আগে সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরা ওআইসি কে ঘিরে ধরেন। সেই সময় তিনি সব কিছু এড়িয়ে গিয়ে বলেন," আজকের জন্য কেবল মাত্র সাগরদিঘী ও জলঙ্গি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে আমরা প্রার্থী দেবো বলে আপনাদের জানাচ্ছি। বাকিটা অপেক্ষা করুন পরে জানানো হবে"।