বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে একদিকে যেমন তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির ব্যাটেল গ্রাউন্ড, তেমনই নন্দীগ্রাম একটি গুরুত্বরূর্ণ ইস্যু হতে চলেছে।  কারণ নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আঘাত পাওয়ার ঘটনা কোনও পূর্বপরিকল্পতি ষড়যন্ত্র নয়। তবে সেদিন জেড প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পাওয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা যাথাযত ছিল না। নির্বাচন কমিশ এই  তথ্য জানানোর পরেই আসরে নামে বিজেপি। বিজেপির তরফ থেকে বাংলার মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিককে একটি চিঠি লেখা হয়। সেখানে দাবি করা হয় এসএসকেএম হাসপাতালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিকিৎসা সংক্রান্ত রিপোর্ট জনসমক্ষে পেশ করার। 

বিজেপি সিইও (CEO)কে লেখা চিঠিতে জানিয়েছে, প্রথম থেকেই ১০ মার্চ নন্দীগ্রামের  ঘটনার যাবতীয় ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানিয়ে ছিল তার। সেইমত দলের পক্ষ থেকে এসএসকেম হাসপাতালে চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় নথি প্রকাশের দাবিও জানান হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল বোর্ড তৈরি হয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত তথ্য বা মেডিক্যাল বুলেটিন প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর এক্সরে রিপোর্টও প্রকাশ করা হয়নি।  চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি প্রকাশ না করে রাজ্যের মানুষকে অন্ধকারে রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছে বিজেপি। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে আঘাত পেয়েছিলেন। কিন্তু প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তাঁকে নন্দীগ্রামের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার হয়নি। সোজাসুজি নিয়ে আসা হয়েছিল কলকাতার এসএসকেএম হাসাপাতালে। পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্সের পরিবর্তে তাঁকে নিয়ে আসা হয়েছিল গাড়িতে। এক্ষেত্রে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রোসিডিওর ঠিকমত মানা হয়েছিল কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। 

চিঠিতে বিজেপি জানিয়েছে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ের আঘাত নিয়ে সাধারণ মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা রকম আলোচনা করছে। ডাতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলিতেও এই নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তাই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করার দাবি জানানোর পাশাপাশি চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় নথি প্রকাশের দাবি করা হয়েছে। বিজেপি বলেছে নন্দীগ্রামে কী কী ঘটেছে তা সকলের জানা খুবই দরকার।  একই সঙ্গে বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে বুধবার তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। শনিবার ছেড়ে দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রীকে দুদিনের মধ্যেই কি ফিট সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে? প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। চিঠির প্রথমেই বিজেপি লিখেছে হামলার কথা বলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিক সুবিধে পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।