বুধবার সন্ধ্যায় নন্দীগ্রামে আহত হন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাতেই তাঁকে ভর্তি করা হয়েছিল এসএসকেএম হাসপাতালে। জেলায় জেলায় এই নিয়ে বৃহস্পতিবারও বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কর্মীরা। এই বিষয়ে ভারতের নির্বাচন কমিশনকেও চিঠির দিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাবেলাই সেই চিঠির কড়া  জবাব দিল কমিশন। তারা বলেছে,তৃণমূলের চিঠিটি দুর্ভাগ্যজনক এবং 'ভিত্তিহীন অভিযোগ এবং খারাপ ইঙ্গিতপূর্ণ'।

নির্বাচন  কমিশন তৃণমূলকে জবাবি চিঠিতে বলেছে, 'নির্বাচন পরিচালনার নামে কমিশন রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা এবং পুরো প্রশাসন ব্যবস্থার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, এটা বলা সম্পূর্ণ ভুল'। দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ সামলাববে রাজ্য প্রশাসনই, এমনটাই দাবি তাদের। ঘটনাটিকে দুর্ভাগ্যজনক বলে জানিয়ে কমিশন আরও বলেছে, দ্রুত এই ঘটনার তদন্ত হওয়া উচিত। ডিজিপি এবং এজিপি-কে সরানো হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের দুই নির্বাচনী পুলিশ পর্যবেক্ষকের সুপারিশ অনুযায়ী। এর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নন্দীগ্রামের ঘটনার কোনও যোগ নেই, বলেই দাবি করেছে কমিশন।

তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাাদক পার্থ চট্টোপাধ্যায়, নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা বিপর্যয়ের জন্য দায়ী করেছিলেন কমিশনকেই। এরপর ডেরেক ও'ব্রায়ানের নেতৃত্বে, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, পার্থ চট্টোপাধ্য়ায়-সহ তৃণমূলের এক প্রতিনিধি দল কলকাতায় নির্বাচন কমিশনের দফতরে এই বিষয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছিলেন। এরপরই নির্বাচন কমিশন এই প্রতিক্রিয়া দিল।

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে এদিন থেকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক নির্বাচন হতে যাওয়া ৫ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে করোনাভাইরাস নেওয়ার পর যে শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে, তাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবি বাদ দেওয়া শুরু করল। এই বিষয়ে কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি মেনে নিয়ে চলতি মাসের শুরুতেই এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।